ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বরুড়ার ভাগ্য এখন তৃণমূল কর্মীদের হাতে  গোলাপের সুগন্ধ না নর্দমার দুর্গন্ধ, পথ বেছে নিন: কায়সার আলম সেলিম

বরুড়া উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের এক যৌথ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম।

মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রাপ্তিতে কৃতজ্ঞতা

সভার শুরুতেই আবেগময় কণ্ঠে কায়সার আলম সেলিম বলেন,”আপনাদের নেতা জাকারিয়া তাহের সুমনকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে আপনাদের মাঝে পাঠানো হয়েছে  এই সম্মান শুধু সুমন সাহেবের নয়, এই সম্মান বরুড়ার প্রতিটি নেতা-কর্মীর।” তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই দায়িত্ব প্রদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

চ্যাম্পিয়ন উপজেলার গৌরবময় অতীত

অতীতের সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগের চার-পাঁচ বছর বরুড়ার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার নেতা-কর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। জেল থেকে বের হয়ে কোর্টে হাজিরা দিয়েও মানুষের আঙিনায় ও বাগানে দিনের পর দিন সাংগঠনিক মিটিং চালিয়ে গেছেন।

তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, “যখন জাকারিয়া তাহের সুমন সাহেব দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন, তখন তিন জেলা আপনাদের ‘চ্যাম্পিয়ন উপজেলা’ উপাধি দিয়েছিল। উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দক্ষিণ জেলার দশটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা আপনাদের চ্যাম্পিয়ন সংগঠক হিসেবে চিনেছিল।”

গোলাপের সুগন্ধ না নর্দমার দুর্গন্ধ,  সিদ্ধান্ত এখন তৃণমূলের

সভার সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মুহূর্তে কায়সার আলম সেলিম একটি তীক্ষ্ণ ও হৃদয়গ্রাহী তুলনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পুষ্পিত গোলাপের সুগন্ধ যেমন বাতাসে বহুদূর ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি নর্দমার দুর্গন্ধও বাতাসে বহুদূর যায়। বরুড়াকে বাংলাদেশ কীভাবে চিনবে গোলাপের সুগন্ধে, নাকি নর্দমার দুর্গন্ধে  সেই সিদ্ধান্ত এখন তৃণমূলের প্রতিটি নেতা-কর্মীর হাতে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত বরুড়া গড়ার যে অঙ্গীকার মন্ত্রী সুমন সাহেব করেছিলেন, তা বাস্তবায়ন না হলে সমগ্র বাংলাদেশ বরুড়াকে নেতিবাচকভাবে চিনবে। আর সেই অঙ্গীকার পূরণ হলে বরুড়ার নাম ছড়িয়ে পড়বে গোলাপের সুগন্ধের মতো সারা দেশে।

উন্নয়নে ন্যায্য বণ্টন ও তৃণমূলের দায়িত্ব

উন্নয়নকাজে ন্যায্যতার বিষয়ে কায়সার আলম সেলিম দৃঢ়কণ্ঠে বলেন,”যে রাস্তায় দশজন মানুষ চলেন সেই রাস্তা আগে হবে, তারপরে কমসংখ্যক মানুষের রাস্তা এটাই হবে উন্নয়নের মূলনীতি।” মন্ত্রীর উদ্যোগে প্রাপ্ত বরাদ্দ সঠিকভাবে ও রেশিও অনুযায়ী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। মসজিদ-মন্দিরসহ ইতিমধ্যে প্রাপ্ত বরাদ্দ যথাযথভাবে বিতরণ শুরু হয়েছে বলেও জানান।

তিনি বলেন, বরুড়ার প্রায় চার লক্ষ ভোটারের আস্থা অর্জন করতে হলে সুশাসন ও ন্যায়সংগত উন্নয়নের বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য অর্জনে তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতাই একমাত্র পথ।

সভায় বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে আগত বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত বরুড়া গড়ার দৃঢ় শপথ নেন উপস্থিত সকলে।

জনপ্রিয়

উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট

বরুড়ার ভাগ্য এখন তৃণমূল কর্মীদের হাতে  গোলাপের সুগন্ধ না নর্দমার দুর্গন্ধ, পথ বেছে নিন: কায়সার আলম সেলিম

আপডেট : ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

বরুড়া উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের এক যৌথ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম।

মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রাপ্তিতে কৃতজ্ঞতা

সভার শুরুতেই আবেগময় কণ্ঠে কায়সার আলম সেলিম বলেন,”আপনাদের নেতা জাকারিয়া তাহের সুমনকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে আপনাদের মাঝে পাঠানো হয়েছে  এই সম্মান শুধু সুমন সাহেবের নয়, এই সম্মান বরুড়ার প্রতিটি নেতা-কর্মীর।” তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই দায়িত্ব প্রদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

চ্যাম্পিয়ন উপজেলার গৌরবময় অতীত

অতীতের সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগের চার-পাঁচ বছর বরুড়ার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার নেতা-কর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। জেল থেকে বের হয়ে কোর্টে হাজিরা দিয়েও মানুষের আঙিনায় ও বাগানে দিনের পর দিন সাংগঠনিক মিটিং চালিয়ে গেছেন।

তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, “যখন জাকারিয়া তাহের সুমন সাহেব দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন, তখন তিন জেলা আপনাদের ‘চ্যাম্পিয়ন উপজেলা’ উপাধি দিয়েছিল। উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দক্ষিণ জেলার দশটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা আপনাদের চ্যাম্পিয়ন সংগঠক হিসেবে চিনেছিল।”

গোলাপের সুগন্ধ না নর্দমার দুর্গন্ধ,  সিদ্ধান্ত এখন তৃণমূলের

সভার সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মুহূর্তে কায়সার আলম সেলিম একটি তীক্ষ্ণ ও হৃদয়গ্রাহী তুলনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পুষ্পিত গোলাপের সুগন্ধ যেমন বাতাসে বহুদূর ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি নর্দমার দুর্গন্ধও বাতাসে বহুদূর যায়। বরুড়াকে বাংলাদেশ কীভাবে চিনবে গোলাপের সুগন্ধে, নাকি নর্দমার দুর্গন্ধে  সেই সিদ্ধান্ত এখন তৃণমূলের প্রতিটি নেতা-কর্মীর হাতে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত বরুড়া গড়ার যে অঙ্গীকার মন্ত্রী সুমন সাহেব করেছিলেন, তা বাস্তবায়ন না হলে সমগ্র বাংলাদেশ বরুড়াকে নেতিবাচকভাবে চিনবে। আর সেই অঙ্গীকার পূরণ হলে বরুড়ার নাম ছড়িয়ে পড়বে গোলাপের সুগন্ধের মতো সারা দেশে।

উন্নয়নে ন্যায্য বণ্টন ও তৃণমূলের দায়িত্ব

উন্নয়নকাজে ন্যায্যতার বিষয়ে কায়সার আলম সেলিম দৃঢ়কণ্ঠে বলেন,”যে রাস্তায় দশজন মানুষ চলেন সেই রাস্তা আগে হবে, তারপরে কমসংখ্যক মানুষের রাস্তা এটাই হবে উন্নয়নের মূলনীতি।” মন্ত্রীর উদ্যোগে প্রাপ্ত বরাদ্দ সঠিকভাবে ও রেশিও অনুযায়ী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। মসজিদ-মন্দিরসহ ইতিমধ্যে প্রাপ্ত বরাদ্দ যথাযথভাবে বিতরণ শুরু হয়েছে বলেও জানান।

তিনি বলেন, বরুড়ার প্রায় চার লক্ষ ভোটারের আস্থা অর্জন করতে হলে সুশাসন ও ন্যায়সংগত উন্নয়নের বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য অর্জনে তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতাই একমাত্র পথ।

সভায় বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে আগত বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত বরুড়া গড়ার দৃঢ় শপথ নেন উপস্থিত সকলে।