ঢাকা , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন, আমি পালিয়ে আসি: পিবিআইকে দীপ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪ মোরেলগঞ্জে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে আইডিয়াল জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন বন্ধ শিল্পকারখানা সচল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের বহুমুখী পরিকল্পনা মোরেলগঞ্জে বেতকাশি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে শিক্ষা অফিস নগরবাসীর হাঁটার মৌলিক অধিকার বনাম অবৈধ দখল বাণিজ্য: ঢাকার ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জরুরি পদক্ষেপ টেকনাফের চার পুলিশ স্থাপনা পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নিন্দা বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বিজয়ী আইসিসিবিতে ফার্নিচার মেলা, ৩২৩ স্টলে পণ্যের সমাহার

হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা, বিজিবি মোতায়েন

সংগৃহীত ছবি

​

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত মঙ্গলবার এনসিপির পদযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় এ মামলাটি করা হয়।

​

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে এনসিপির ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র হবিগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে এজাহার জমা দেন।

 

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ সরাসরি তাদের কাছ থেকে মামলার আবেদনটি গ্রহণ করেন।

​

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।

​

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল হক জানান, ঘটনার তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

​
​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে এনসিপি নেতাদের বহর রওনা দিলে শ্রীমঙ্গলের মুছাই এলাকায় প্রথম দফায় পুলিশ তাদের পথরোধ করে। সেখানে ধস্তাধস্তি ও বাগবিতণ্ডার পর নেতারা এগিয়ে গেলে বাহুবল উপজেলার রশিদপুর এলাকায় দ্বিতীয় দফায় তাদের আবারও আটকে দেয় পুলিশ।

​

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা এনসিপি নেতাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়ে মৌলভীবাজারে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করছেন। তবে সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জে প্রবেশের বিষয়ে অনড় অবস্থান নেন।

​

এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে রাত ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে শহরের সবুজবাগ এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর হামলা চালায়।

​

হামলাকারীরা নেতাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করলে সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ নেতারা পাশের সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গিয়ে রাত ৮টার দিকে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।

​

হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই বিএনপি সমর্থিত অঙ্গসংগঠন (ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল) এবং এনসিপি মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে।

​

সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। একই সাথে নিরাপত্তা জোরদারে শহরের স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

জনপ্রিয়

তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন, আমি পালিয়ে আসি: পিবিআইকে দীপ

হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা, বিজিবি মোতায়েন

আপডেট : ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

​

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত মঙ্গলবার এনসিপির পদযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় এ মামলাটি করা হয়।

​

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে এনসিপির ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র হবিগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে এজাহার জমা দেন।

 

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ সরাসরি তাদের কাছ থেকে মামলার আবেদনটি গ্রহণ করেন।

​

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।

​

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল হক জানান, ঘটনার তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

​
​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে এনসিপি নেতাদের বহর রওনা দিলে শ্রীমঙ্গলের মুছাই এলাকায় প্রথম দফায় পুলিশ তাদের পথরোধ করে। সেখানে ধস্তাধস্তি ও বাগবিতণ্ডার পর নেতারা এগিয়ে গেলে বাহুবল উপজেলার রশিদপুর এলাকায় দ্বিতীয় দফায় তাদের আবারও আটকে দেয় পুলিশ।

​

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা এনসিপি নেতাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়ে মৌলভীবাজারে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করছেন। তবে সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জে প্রবেশের বিষয়ে অনড় অবস্থান নেন।

​

এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে রাত ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে শহরের সবুজবাগ এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর হামলা চালায়।

​

হামলাকারীরা নেতাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করলে সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ নেতারা পাশের সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গিয়ে রাত ৮টার দিকে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।

​

হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই বিএনপি সমর্থিত অঙ্গসংগঠন (ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল) এবং এনসিপি মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে।

​

সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। একই সাথে নিরাপত্তা জোরদারে শহরের স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।