মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতিবাজদের অব্যাহত উপস্থিতি এবং শিক্ষা খাতে বিরাজমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আজ বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে দশটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলরুমে এক মুক্ত আলোচনা ও অভিভাবক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অভিভাবক-ছাত্র-শিক্ষক জাতীয় মঞ্চ আয়োজিত এই সভায় “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে ফ্যাসিস্ট সরকারের শীর্ষ দুর্নীতিবাজরা কেন? শিক্ষায় দুর্নীতি এবং বর্তমান সরকারের করণীয়” শীর্ষক বিষয়ে বক্তারা তাঁদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন।
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার সঞ্চালনায় এবং আনুশা বেলায়েতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিভাবক ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবীর দুলু। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি।
বক্তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে যেসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করেছেন, তারা এখনও বিভিন্ন পদে বহাল থেকে দায়মুক্তি ভোগ করছেন। এটি জাতির সঙ্গে চরম প্রতারণা। তাঁরা দাবি করেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব পরিষদের সভাপতি এস এম শামসুল আলম নিক্সন, হৃদয়ে পতাকার সভাপতি সাহানা সুলতানা, বাংলাদেশ অভিভাবক নেটওয়ার্কের মারজান আক্তার, আরজেএফ চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম, তৃণমূল নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মফিজ রহমান লিটন, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার এবং বাংলাদেশ অভিভাবক ফোরামের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আল আমিন।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নবোদয় প্রি-ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোস্তাফিজুর রহমান মুজাহিদ, বন্ধন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন, গ্রিনলিফ স্কুলের প্রধান শিক্ষক নূর আক্তার ডলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম মোমো এবং নিরাপদ চিকিৎসা চাই-এর সভাপতি যুবরাজসহ বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা একমত হন যে, শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সুশীল সমাজ ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ততায় একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংস্কারের দাবিও জানানো হয়।

মোঃ আনজার শাহ 



















