ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিদ্যালয়হীন পাঁচপুকুরিয়া: পৌরসভার বুকে শিক্ষার আলোবঞ্চিত এক গ্রামের কথা

 

কুমিল্লা-৮ আসনের অন্তর্গত বরুড়া পৌরসভার পাঁচপুকুরিয়া গ্রাম— নামে পৌর এলাকা হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া এখনো পৌঁছায়নি এই জনপদে। দারিদ্র্য, অবকাঠামোগত অনগ্রসরতা আর শিক্ষার সুযোগ না থাকায় গ্রামটি যেন পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশের এক নীরব প্রতিচ্ছবি। এই বাস্তবতা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে সোমবার বিকেলে গ্রামটি পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ এবং বরুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ আহমদ।

 

বাঁশ শিল্পে বাঁচার লড়াই
পাঁচপুকুরিয়ার অধিকাংশ পরিবারের একমাত্র জীবিকা ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করেও এই শিল্পজীবী মানুষগুলোর সংসারে স্বচ্ছলতা আসে না। তবু পূর্বপুরুষের পেশাকে আঁকড়ে ধরেই তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে আছেন। গ্রামের একটি বড় অংশ সনাতন ধর্মাবলম্বী, যারা নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বুকে ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন।

 

একটি বিদ্যালয়ের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা
গ্রামটির সবচেয়ে গভীর সংকট শিক্ষায়। পাঁচপুকুরিয়ায় আজও গড়ে ওঠেনি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে ছোট্ট শিশুদের প্রতিদিন পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পথ। দরিদ্র পরিবারগুলোর পক্ষে প্রতিদিন সন্তানকে দূরের বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হয় না। এতে বহু শিশু প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ হারিয়ে অকালেই ঝরে পড়ছে। গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি— একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্তু সেই দাবি এখনো পূরণ হয়নি।

 

মাঠে নামলেন প্রশাসন ও সংবাদকর্মী
এই উপেক্ষিত জনপদের বাস্তব চিত্র সামনে আনতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ ও প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ আহমদ সরেজমিনে গ্রাম পরিদর্শন করেন। তাঁরা গ্রামবাসীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

 

সহকারী কমিশনার আহসান হাফিজ বলেন, “পাঁচপুকুরিয়ার চিত্র সত্যিই উদ্বেগজনক। একটি পৌর এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।”

 

মোঃ ইলিয়াছ আহমদ বলেন, “এই গ্রামের শিশুরা শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগে এই অবস্থার পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

 

আশার আলো
প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের এই যৌথ পরিদর্শনে নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন গ্রামবাসী। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, সরকার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে এলে পাঁচপুকুরিয়ায় শিক্ষার আলো পৌঁছানো কেবল সময়ের ব্যাপার। কারণ একটি বিদ্যালয় মানে শুধু একটি ভবন নয়— এটি একটি প্রজন্মের স্বপ্ন বিনির্মাণের সূচনাবিন্দু। আর সেই স্বপ্নের পথ ধরেই এগিয়ে যাবে পাঁচপুকুরিয়া, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

জনপ্রিয়

উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট

বিদ্যালয়হীন পাঁচপুকুরিয়া: পৌরসভার বুকে শিক্ষার আলোবঞ্চিত এক গ্রামের কথা

আপডেট : ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

 

কুমিল্লা-৮ আসনের অন্তর্গত বরুড়া পৌরসভার পাঁচপুকুরিয়া গ্রাম— নামে পৌর এলাকা হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া এখনো পৌঁছায়নি এই জনপদে। দারিদ্র্য, অবকাঠামোগত অনগ্রসরতা আর শিক্ষার সুযোগ না থাকায় গ্রামটি যেন পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশের এক নীরব প্রতিচ্ছবি। এই বাস্তবতা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে সোমবার বিকেলে গ্রামটি পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ এবং বরুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ আহমদ।

 

বাঁশ শিল্পে বাঁচার লড়াই
পাঁচপুকুরিয়ার অধিকাংশ পরিবারের একমাত্র জীবিকা ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করেও এই শিল্পজীবী মানুষগুলোর সংসারে স্বচ্ছলতা আসে না। তবু পূর্বপুরুষের পেশাকে আঁকড়ে ধরেই তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে আছেন। গ্রামের একটি বড় অংশ সনাতন ধর্মাবলম্বী, যারা নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বুকে ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন।

 

একটি বিদ্যালয়ের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা
গ্রামটির সবচেয়ে গভীর সংকট শিক্ষায়। পাঁচপুকুরিয়ায় আজও গড়ে ওঠেনি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে ছোট্ট শিশুদের প্রতিদিন পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পথ। দরিদ্র পরিবারগুলোর পক্ষে প্রতিদিন সন্তানকে দূরের বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হয় না। এতে বহু শিশু প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ হারিয়ে অকালেই ঝরে পড়ছে। গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি— একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্তু সেই দাবি এখনো পূরণ হয়নি।

 

মাঠে নামলেন প্রশাসন ও সংবাদকর্মী
এই উপেক্ষিত জনপদের বাস্তব চিত্র সামনে আনতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ ও প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ আহমদ সরেজমিনে গ্রাম পরিদর্শন করেন। তাঁরা গ্রামবাসীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

 

সহকারী কমিশনার আহসান হাফিজ বলেন, “পাঁচপুকুরিয়ার চিত্র সত্যিই উদ্বেগজনক। একটি পৌর এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।”

 

মোঃ ইলিয়াছ আহমদ বলেন, “এই গ্রামের শিশুরা শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগে এই অবস্থার পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

 

আশার আলো
প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের এই যৌথ পরিদর্শনে নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন গ্রামবাসী। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, সরকার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে এলে পাঁচপুকুরিয়ায় শিক্ষার আলো পৌঁছানো কেবল সময়ের ব্যাপার। কারণ একটি বিদ্যালয় মানে শুধু একটি ভবন নয়— এটি একটি প্রজন্মের স্বপ্ন বিনির্মাণের সূচনাবিন্দু। আর সেই স্বপ্নের পথ ধরেই এগিয়ে যাবে পাঁচপুকুরিয়া, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।