ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে ইসলামি যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত খাল খননে ১ কোটি ২ লাখ টাকা সাশ্রয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন চরফ্যাশনের ইউএনও প্রতিবন্ধীদের আত্মনির্ভরশীলতার পথ দেখালেন প্রধানমন্ত্রী, ৩ অদম্য তরুণ-তরুণীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র হস্তান্তর টেকনাফে কুরিয়ার সার্ভিসের কার্গো স্টোরে ১১,২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার: বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান ভোলায় বৃক্ষরোপণ মেলা ২০২৬ শুরু বাগেরহাটে চুরি হওয়া ১১টি গরু উদ্ধার, পিকআপসহ গ্রেপ্তার ৩ সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা, বিজিবি মোতায়েন মিয়ানমারে পাচারের পথে ১৭ লাখ টাকার সার ও কৃষিপণ্য জব্দ, আটক ৬

বাগেরহাট-৪ আসনে রাজনৈতিক বিতর্কে তোলপাড় সোমনাথ দে’র অভিযোগে উত্তাপ, পাল্টা জবাবে বিএনপি নেতাদের কঠোর প্রতিবাদ

 

বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) সংসদীয় আসন কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনা ও উত্তেজনা। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সোমনাথ দে’র বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অসহযোগিতা এবং ভরাডুবির অভিযোগ তোলার পরপরই দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মোরেলগঞ্জ উপজেলা যুবদলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় নেতারা অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানান এবং দলীয় ঐক্য নষ্টের অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দেন।

 

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ইয়াদ, শরণখোলা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন, মোরেলগঞ্জ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আল আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন এবং যুবদল নেতা রেজাউল করিম সোহাগ, মোরেলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবু সালেহসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

 

রাজনৈতিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি এক আলোচনা সভা ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে সোমনাথ দে অভিযোগ করেন, নির্বাচনি কার্যক্রমে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ায় ধানের শীষের প্রচারণা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কিছু অংশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, যা মুহূর্তেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

 

তবে বিএনপির নেতারা এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সবসময় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও নির্বাচনি প্রস্তুতিতে সক্রিয় ছিল। ব্যক্তিগত ব্যর্থতার দায় কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর চাপানো রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

 

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, নির্বাচন কোনো ব্যক্তিনির্ভর প্রক্রিয়া নয়; বরং তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয়তা, সংগঠনের শক্তি এবং জনগণের সমর্থনের ওপরই বিজয় নির্ভর করে। ভিত্তিহীন অভিযোগ দলীয় ঐক্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন।

 

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে প্রকাশ্য অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচনের আগে দলীয় সমন্বয় বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এদিকে বিএনপির নেতারা সকল নেতাকর্মীকে সংযত বক্তব্য প্রদান এবং দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সফল করতে ঐক্যের বিকল্প নেই।

 

অভিযোগ ও পাল্টা প্রতিবাদ ঘিরে বাগেরহাট-৪ আসনের রাজনীতি এখন উত্তপ্ত। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়—সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত

বাগেরহাট-৪ আসনে রাজনৈতিক বিতর্কে তোলপাড় সোমনাথ দে’র অভিযোগে উত্তাপ, পাল্টা জবাবে বিএনপি নেতাদের কঠোর প্রতিবাদ

আপডেট : ০৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

 

বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) সংসদীয় আসন কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনা ও উত্তেজনা। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সোমনাথ দে’র বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অসহযোগিতা এবং ভরাডুবির অভিযোগ তোলার পরপরই দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মোরেলগঞ্জ উপজেলা যুবদলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় নেতারা অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানান এবং দলীয় ঐক্য নষ্টের অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দেন।

 

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ইয়াদ, শরণখোলা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন, মোরেলগঞ্জ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আল আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন এবং যুবদল নেতা রেজাউল করিম সোহাগ, মোরেলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবু সালেহসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

 

রাজনৈতিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি এক আলোচনা সভা ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে সোমনাথ দে অভিযোগ করেন, নির্বাচনি কার্যক্রমে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ায় ধানের শীষের প্রচারণা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কিছু অংশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, যা মুহূর্তেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

 

তবে বিএনপির নেতারা এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সবসময় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও নির্বাচনি প্রস্তুতিতে সক্রিয় ছিল। ব্যক্তিগত ব্যর্থতার দায় কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর চাপানো রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

 

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, নির্বাচন কোনো ব্যক্তিনির্ভর প্রক্রিয়া নয়; বরং তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয়তা, সংগঠনের শক্তি এবং জনগণের সমর্থনের ওপরই বিজয় নির্ভর করে। ভিত্তিহীন অভিযোগ দলীয় ঐক্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন।

 

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে প্রকাশ্য অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচনের আগে দলীয় সমন্বয় বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এদিকে বিএনপির নেতারা সকল নেতাকর্মীকে সংযত বক্তব্য প্রদান এবং দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সফল করতে ঐক্যের বিকল্প নেই।

 

অভিযোগ ও পাল্টা প্রতিবাদ ঘিরে বাগেরহাট-৪ আসনের রাজনীতি এখন উত্তপ্ত। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়—সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।