ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইবি শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যা, যা জানা গেল

সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া লুনা ও কর্মচারী ফজলুর রহমান | সংগৃহীত ছবি 

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া লুনার গলায় ছুরি চালিয়েছেন ফজলু নামে এক কর্মচারী। পরে নিজের গলায়ও ছুরি চালিয়েছেন একই বিভাগের সাবেক এই কর্মচারী।

 

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের রুমে এই ঘটনা ঘটেছে।

 

অভিযোগ উঠেছে, ওই শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান।

 

পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসক। আর গুরুতর আহত ওই কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, নিহত শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, চেয়ারম্যানের রুম থেকে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিক্ষক এবং ওই কর্মচারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

 

জানা গেছে, নিহত শিক্ষকের সঙ্গে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে’ কর্মচারী ফজলুর রহমানকে সমাজ কল্যাণ বিভাগ থেকে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। এর জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন নিহত শিক্ষকের সহকর্মীদের অনেকে।

 

শিক্ষকের এমন মৃত্যুর ঘটনার পেছনে প্রকৃত রহস্য কী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে হত্যার পর নিজেও কেন ওই কর্মচারীর আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে- এমন অনেক প্রশ্ন সামনে আসছে।

 

জানা গেছে, বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের রুমে চিৎকার শুনতে পেয়ে বিভাগের কর্মচারী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যান। এসময় রুমটি ভেতর থেকে আটকানো ছিল বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী নাজমুল হোসেন।

 

তিনি বলেন, “দরজা ভেঙে ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় ম্যাডামকে পড়ে থাকতে দেখেন শিক্ষার্থীরা। রুমের একপাশে পড়ে থাকা কর্মচারী ফজলুরও নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন”।

 

তিনি আরও জানান, সমাজ কল্যাণ বিভাগে চুক্তিভিত্তিকভাবে কর্মরত অবস্থায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে এর আগেও বাকবিতণ্ডা করেছিলেন কর্মচারী ফজলুর রহমান। মূলত এই কারণেই এক মাস আগে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়।

 

“ডেইলি বেসিস কর্মী হিসেবে ছয় হাজার টাকা বেতন পেতেন ওই কর্মচারী। ম্যাডামের কাছে দুই হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধির দাবি পূরণ না হওয়ায় অতীতেও খারাপ আচরণ করেছিলেন তিনি,” জানান নাজমুল।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. শাহিনুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে ওই শিক্ষকের নিথর দেহ পড়ে ছিল। পরে শিক্ষক এবং কর্মচারীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। “আজ ওই বিভাগে একটা ইফতার পার্টি ছিল। ম্যাডাম ওনার অফিসেই অবস্থান করছিলেন, তার রুমে গিয়ে ওই কর্মচারী তাকে ছুরির আঘাত করেছে। শিক্ষার্থীরা চিৎকার শুনতে পেয়ে দরজা ভাঙে,” বলেন তিনি।

 

হামলার কারণ কী জানতে চাইলে প্রক্টর মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, সমাজ কল্যাণ বিভাগেই চুক্তিভিত্তিক কাজ করতেন কর্মচারী ফজলুর রহমান। কদিন আগেই তাকে বদলি করে অন্য দায়িত্বে পাঠানো হয়। “বিভাগে ইন্টারনাল দ্বন্দ্ব ছিল বলে শুনেছি, ম্যাডাম কমান্ড করলে কমান্ড শুনতো না। এছাড়া কর্মচারী ছেলেটা স্থানীয় এবং সে নাকি খুব বদমেজাজী, নানা অভিযোগ থাকায় তাকে এই বিভাগ থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল,” বলেন মি. শাহিনুজ্জামান।

 

এদিকে, এই ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা।

 

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের কাজ করছে পুলিশ। এছাড়া আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

“বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ফোনে ঘটনাস্থলে এসে গুরুতর অবস্থায় একজন নারী শিক্ষক এবং ওই কর্মচারীকে হাসপাতালে পাঠাই আমরা। কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন এবং কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন,” জানান ওসি।

 

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলছেন, কেন এই ঘটনা ঘটেছে সেই বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার সঙ্গে কথা বলবেন তারা। “ছুরির আঘাতে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে এটি বলা যাচ্ছে। তবে কে বা কারা তার মৃত্যুর জন্য দায়ী এটা তদন্তসাপেক্ষ,” বলেন তিনি।

জনপ্রিয়

উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট

ইবি শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যা, যা জানা গেল

আপডেট : ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া লুনা ও কর্মচারী ফজলুর রহমান | সংগৃহীত ছবি 

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া লুনার গলায় ছুরি চালিয়েছেন ফজলু নামে এক কর্মচারী। পরে নিজের গলায়ও ছুরি চালিয়েছেন একই বিভাগের সাবেক এই কর্মচারী।

 

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের রুমে এই ঘটনা ঘটেছে।

 

অভিযোগ উঠেছে, ওই শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান।

 

পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসক। আর গুরুতর আহত ওই কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, নিহত শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, চেয়ারম্যানের রুম থেকে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিক্ষক এবং ওই কর্মচারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

 

জানা গেছে, নিহত শিক্ষকের সঙ্গে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে’ কর্মচারী ফজলুর রহমানকে সমাজ কল্যাণ বিভাগ থেকে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। এর জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন নিহত শিক্ষকের সহকর্মীদের অনেকে।

 

শিক্ষকের এমন মৃত্যুর ঘটনার পেছনে প্রকৃত রহস্য কী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে হত্যার পর নিজেও কেন ওই কর্মচারীর আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে- এমন অনেক প্রশ্ন সামনে আসছে।

 

জানা গেছে, বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের রুমে চিৎকার শুনতে পেয়ে বিভাগের কর্মচারী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যান। এসময় রুমটি ভেতর থেকে আটকানো ছিল বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী নাজমুল হোসেন।

 

তিনি বলেন, “দরজা ভেঙে ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় ম্যাডামকে পড়ে থাকতে দেখেন শিক্ষার্থীরা। রুমের একপাশে পড়ে থাকা কর্মচারী ফজলুরও নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন”।

 

তিনি আরও জানান, সমাজ কল্যাণ বিভাগে চুক্তিভিত্তিকভাবে কর্মরত অবস্থায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে এর আগেও বাকবিতণ্ডা করেছিলেন কর্মচারী ফজলুর রহমান। মূলত এই কারণেই এক মাস আগে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়।

 

“ডেইলি বেসিস কর্মী হিসেবে ছয় হাজার টাকা বেতন পেতেন ওই কর্মচারী। ম্যাডামের কাছে দুই হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধির দাবি পূরণ না হওয়ায় অতীতেও খারাপ আচরণ করেছিলেন তিনি,” জানান নাজমুল।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. শাহিনুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে ওই শিক্ষকের নিথর দেহ পড়ে ছিল। পরে শিক্ষক এবং কর্মচারীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। “আজ ওই বিভাগে একটা ইফতার পার্টি ছিল। ম্যাডাম ওনার অফিসেই অবস্থান করছিলেন, তার রুমে গিয়ে ওই কর্মচারী তাকে ছুরির আঘাত করেছে। শিক্ষার্থীরা চিৎকার শুনতে পেয়ে দরজা ভাঙে,” বলেন তিনি।

 

হামলার কারণ কী জানতে চাইলে প্রক্টর মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, সমাজ কল্যাণ বিভাগেই চুক্তিভিত্তিক কাজ করতেন কর্মচারী ফজলুর রহমান। কদিন আগেই তাকে বদলি করে অন্য দায়িত্বে পাঠানো হয়। “বিভাগে ইন্টারনাল দ্বন্দ্ব ছিল বলে শুনেছি, ম্যাডাম কমান্ড করলে কমান্ড শুনতো না। এছাড়া কর্মচারী ছেলেটা স্থানীয় এবং সে নাকি খুব বদমেজাজী, নানা অভিযোগ থাকায় তাকে এই বিভাগ থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল,” বলেন মি. শাহিনুজ্জামান।

 

এদিকে, এই ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা।

 

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের কাজ করছে পুলিশ। এছাড়া আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

“বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ফোনে ঘটনাস্থলে এসে গুরুতর অবস্থায় একজন নারী শিক্ষক এবং ওই কর্মচারীকে হাসপাতালে পাঠাই আমরা। কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন এবং কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন,” জানান ওসি।

 

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলছেন, কেন এই ঘটনা ঘটেছে সেই বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার সঙ্গে কথা বলবেন তারা। “ছুরির আঘাতে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে এটি বলা যাচ্ছে। তবে কে বা কারা তার মৃত্যুর জন্য দায়ী এটা তদন্তসাপেক্ষ,” বলেন তিনি।