ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আত্মিক মিলনে মুখরিত হলো দারুননাজাত পরিবার

 

সময় থামে না। জীবনের স্রোতে ভেসে মানুষ একদিন দূরে চলে যায় প্রিয় প্রতিষ্ঠান থেকে, প্রিয় শিক্ষকদের কাছ থেকে, প্রিয় বন্ধুদের কাছ থেকে। কিন্তু কিছু শিকড় এতটাই গভীর যে, বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সেই টান উপেক্ষা করা যায় না। পবিত্র মাহে রমজানের রহমত-বরকতের এক বিশেষ সন্ধ্যায় ঠিক সেই শিকড়ের কাছেই ফিরে এলেন দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার দাখিল-২০১০ ও আলিম-২০১২ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

 

দুই ব্যাচের উদ্যোগে আয়োজিত এই ইফতার ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক অনন্য আত্মিক মিলনমেলায়। দীর্ঘদিন পর একই ছাদের নিচে মুখোমুখি হলেন পুরোনো সহপাঠীরা। কেউ এখন প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী, কেউ উদ্যোক্তা, কেউবা সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে আসীন। তবু সেই পরিচিত হাসি, পুরোনো ডাকনাম আর শ্রেণিকক্ষের ভুলে যাওয়া গল্পগুলো যেন চোখের পলকেই মুছে দিল দুই দশকের দূরত্ব — ফিরিয়ে দিল কৈশোরের সেই স্বর্ণালি বিকেল।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার সম্মানিত অধ্যক্ষ হযরত মাওলানা আ. খ. ম. আবু বকর সিদ্দীক (মা.জি.আ.)। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে যোগ করে এক ভিন্নমাত্রার আবেগ। প্রিয় ওস্তাদকে সামনে দেখে শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক বিরল দ্যুতি। মাদরাসার অন্যান্য শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দও উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে করে তোলেন আরও মহিমান্বিত ও প্রাণবন্ত।

 

এই হৃদয়গ্রাহী পুনর্মিলনীতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দারুননাজাতের কৃতী প্রাক্তন শিক্ষার্থী, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে সঞ্চার করে নতুন উদ্দীপনা। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে সালাম ও কুশলাদি বিনিময় করেন। ভবিষ্যৎ জীবনে সাফল্য ও কামিয়াবির জন্য শিক্ষকদের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়ার আরজি জানান তিনি। শিক্ষকরাও তাঁদের প্রিয় ছাত্রদের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ জানান সানন্দচিত্তে।

 

ইফতারের দস্তরখানে একসঙ্গে বসে রোজা ভাঙার সেই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন, হাস্যোজ্জ্বল আলাপচারিতা আর পরস্পরের জীবনের খোঁজখবরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। রমজানের পবিত্র আবহে সেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীর চিরন্তন বন্ধন যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়, নতুন শপথে বলীয়ান হয়ে ওঠে।

 

আয়োজকরা জানান, মাদরাসার শিক্ষাজীবনে অর্জিত মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও আদর্শকে পাথেয় করে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারই ছিল এই পুনর্মিলনীর মূল চেতনা। ভবিষ্যতেও প্রতিবছর এই আয়োজন অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই আত্মিক বন্ধন অটুট থাকে।

 

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড — এই বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করে যে প্রতিষ্ঠান একদিন তাঁদের গড়ে তুলেছিল, সেই দারুননাজাতের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় সিক্ত এই সন্ধ্যা প্রতিটি অংশগ্রহণকারীর হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয়

উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আত্মিক মিলনে মুখরিত হলো দারুননাজাত পরিবার

আপডেট : ০৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

সময় থামে না। জীবনের স্রোতে ভেসে মানুষ একদিন দূরে চলে যায় প্রিয় প্রতিষ্ঠান থেকে, প্রিয় শিক্ষকদের কাছ থেকে, প্রিয় বন্ধুদের কাছ থেকে। কিন্তু কিছু শিকড় এতটাই গভীর যে, বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সেই টান উপেক্ষা করা যায় না। পবিত্র মাহে রমজানের রহমত-বরকতের এক বিশেষ সন্ধ্যায় ঠিক সেই শিকড়ের কাছেই ফিরে এলেন দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার দাখিল-২০১০ ও আলিম-২০১২ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

 

দুই ব্যাচের উদ্যোগে আয়োজিত এই ইফতার ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক অনন্য আত্মিক মিলনমেলায়। দীর্ঘদিন পর একই ছাদের নিচে মুখোমুখি হলেন পুরোনো সহপাঠীরা। কেউ এখন প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী, কেউ উদ্যোক্তা, কেউবা সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে আসীন। তবু সেই পরিচিত হাসি, পুরোনো ডাকনাম আর শ্রেণিকক্ষের ভুলে যাওয়া গল্পগুলো যেন চোখের পলকেই মুছে দিল দুই দশকের দূরত্ব — ফিরিয়ে দিল কৈশোরের সেই স্বর্ণালি বিকেল।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার সম্মানিত অধ্যক্ষ হযরত মাওলানা আ. খ. ম. আবু বকর সিদ্দীক (মা.জি.আ.)। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে যোগ করে এক ভিন্নমাত্রার আবেগ। প্রিয় ওস্তাদকে সামনে দেখে শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক বিরল দ্যুতি। মাদরাসার অন্যান্য শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দও উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে করে তোলেন আরও মহিমান্বিত ও প্রাণবন্ত।

 

এই হৃদয়গ্রাহী পুনর্মিলনীতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দারুননাজাতের কৃতী প্রাক্তন শিক্ষার্থী, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে সঞ্চার করে নতুন উদ্দীপনা। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে সালাম ও কুশলাদি বিনিময় করেন। ভবিষ্যৎ জীবনে সাফল্য ও কামিয়াবির জন্য শিক্ষকদের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়ার আরজি জানান তিনি। শিক্ষকরাও তাঁদের প্রিয় ছাত্রদের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ জানান সানন্দচিত্তে।

 

ইফতারের দস্তরখানে একসঙ্গে বসে রোজা ভাঙার সেই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন, হাস্যোজ্জ্বল আলাপচারিতা আর পরস্পরের জীবনের খোঁজখবরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। রমজানের পবিত্র আবহে সেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীর চিরন্তন বন্ধন যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়, নতুন শপথে বলীয়ান হয়ে ওঠে।

 

আয়োজকরা জানান, মাদরাসার শিক্ষাজীবনে অর্জিত মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও আদর্শকে পাথেয় করে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারই ছিল এই পুনর্মিলনীর মূল চেতনা। ভবিষ্যতেও প্রতিবছর এই আয়োজন অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই আত্মিক বন্ধন অটুট থাকে।

 

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড — এই বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করে যে প্রতিষ্ঠান একদিন তাঁদের গড়ে তুলেছিল, সেই দারুননাজাতের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় সিক্ত এই সন্ধ্যা প্রতিটি অংশগ্রহণকারীর হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।