ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ঝলকাঠি জাতীয়তাবাদী ফোরামের ঢাকা কমিটি গঠিত মুন্সিগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের নেতৃত্বে মিছিল, গ্রেপ্তার ৩১ ভাণ্ডারিয়ায় মাদক প্রতিরোধে জেলা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে– আইনমন্ত্রী আইসিসিবির সুবিশাল পরিসরের ট্যুরিজম ফেয়ারে মিলবে পর্যটনের হাতছানি মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড মঠবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বান বাগেরহাটে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনের রাজনৈতিক উপদেষ্টার বৈঠক মোরেলগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

কক্সবাজারে অধিনায়কসহ ৩ শতাধিক র‍্যাব সদস্যকে একযোগে বদলি

 

কক্সবাজার–বান্দরবানকেন্দ্রিক র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন–১৫ (র‌্যাব–১৫)-এ কর্মরত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানসহ ৩ শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। ইয়াবা উদ্ধার সংক্রান্ত অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং কয়েকটি বিতর্কিত অভিযানের অভিযোগে সদর দপ্তরের তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে র‌্যাবের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

 

তবে র‌্যাব মিডিয়া উইং বলছে, এটি নিয়মিত বদলি কার্যক্রমের অংশ।

 

র‌্যাব সদর দপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর দুই দফায় মোট ৩৯৮ সদস্য এবং ২৭ নভেম্বর তৃতীয় দফায় আরও ৭৪ সদস্য বদলি হন। তিনটি প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বদলি হওয়া সদস্যদের বেশির ভাগই র‌্যাব–১৫–তে কর্মরত ছিলেন। এক ইউনিট থেকে এত বিপুল সংখ্যক সদস্যকে সরিয়ে নেওয়াকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

এক বছর দায়িত্ব পালনের পর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান পিএসসি, যিনি করোনাকালে যশোর সেনানিবাসের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩৭ বীরের অধিনায়ক ছিলেন।

 

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী বলেন, বদলি নিয়মিত প্রক্রিয়াই। তবে কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

অপরদিকে র‌্যাবের একাধিক সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক দুই অভিযানে অসঙ্গতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পর সদর দপ্তর বিশেষ তদন্ত শুরু করে।

 

গত ৭ সেপ্টেম্বর কুতুপালং এলাকায় দুই নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ গোপন ও মামলায় ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনও নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের দাবি করেন, যা তদন্তে খতিয়ে দেখতে একটি দল সেখানে যায়।

 

এ ছাড়া ২৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফের লেদা এলাকায় অভিযানে শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে মাত্র কিছু ইটের টুকরা ও কাঠের লাঠি জব্দ দেখানো হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি করে। উভয় অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান এবং তার ঘনিষ্ঠ কর্পোরাল ইমামকে এসব বিতর্কিত ঘটনার মূল নেপথ্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

 

অনিয়ম, ইয়াবা আত্মসাৎ ও তথ্য বিভ্রাটের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়ে র‌্যাবের মিডিয়া উইং বলেছে—দোষী প্রমাণিত হলে যে কেউ শাস্তি পাবেন।

জনপ্রিয়

ঝলকাঠি জাতীয়তাবাদী ফোরামের ঢাকা কমিটি গঠিত

কক্সবাজারে অধিনায়কসহ ৩ শতাধিক র‍্যাব সদস্যকে একযোগে বদলি

আপডেট : ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

 

কক্সবাজার–বান্দরবানকেন্দ্রিক র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন–১৫ (র‌্যাব–১৫)-এ কর্মরত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানসহ ৩ শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। ইয়াবা উদ্ধার সংক্রান্ত অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং কয়েকটি বিতর্কিত অভিযানের অভিযোগে সদর দপ্তরের তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে র‌্যাবের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

 

তবে র‌্যাব মিডিয়া উইং বলছে, এটি নিয়মিত বদলি কার্যক্রমের অংশ।

 

র‌্যাব সদর দপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর দুই দফায় মোট ৩৯৮ সদস্য এবং ২৭ নভেম্বর তৃতীয় দফায় আরও ৭৪ সদস্য বদলি হন। তিনটি প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বদলি হওয়া সদস্যদের বেশির ভাগই র‌্যাব–১৫–তে কর্মরত ছিলেন। এক ইউনিট থেকে এত বিপুল সংখ্যক সদস্যকে সরিয়ে নেওয়াকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

এক বছর দায়িত্ব পালনের পর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান পিএসসি, যিনি করোনাকালে যশোর সেনানিবাসের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩৭ বীরের অধিনায়ক ছিলেন।

 

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী বলেন, বদলি নিয়মিত প্রক্রিয়াই। তবে কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

অপরদিকে র‌্যাবের একাধিক সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক দুই অভিযানে অসঙ্গতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পর সদর দপ্তর বিশেষ তদন্ত শুরু করে।

 

গত ৭ সেপ্টেম্বর কুতুপালং এলাকায় দুই নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ গোপন ও মামলায় ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনও নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের দাবি করেন, যা তদন্তে খতিয়ে দেখতে একটি দল সেখানে যায়।

 

এ ছাড়া ২৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফের লেদা এলাকায় অভিযানে শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে মাত্র কিছু ইটের টুকরা ও কাঠের লাঠি জব্দ দেখানো হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি করে। উভয় অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান এবং তার ঘনিষ্ঠ কর্পোরাল ইমামকে এসব বিতর্কিত ঘটনার মূল নেপথ্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

 

অনিয়ম, ইয়াবা আত্মসাৎ ও তথ্য বিভ্রাটের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়ে র‌্যাবের মিডিয়া উইং বলেছে—দোষী প্রমাণিত হলে যে কেউ শাস্তি পাবেন।