ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কক্সবাজারে অধিনায়কসহ ৩ শতাধিক র‍্যাব সদস্যকে একযোগে বদলি

 

কক্সবাজার–বান্দরবানকেন্দ্রিক র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন–১৫ (র‌্যাব–১৫)-এ কর্মরত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানসহ ৩ শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। ইয়াবা উদ্ধার সংক্রান্ত অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং কয়েকটি বিতর্কিত অভিযানের অভিযোগে সদর দপ্তরের তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে র‌্যাবের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

 

তবে র‌্যাব মিডিয়া উইং বলছে, এটি নিয়মিত বদলি কার্যক্রমের অংশ।

 

র‌্যাব সদর দপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর দুই দফায় মোট ৩৯৮ সদস্য এবং ২৭ নভেম্বর তৃতীয় দফায় আরও ৭৪ সদস্য বদলি হন। তিনটি প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বদলি হওয়া সদস্যদের বেশির ভাগই র‌্যাব–১৫–তে কর্মরত ছিলেন। এক ইউনিট থেকে এত বিপুল সংখ্যক সদস্যকে সরিয়ে নেওয়াকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

এক বছর দায়িত্ব পালনের পর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান পিএসসি, যিনি করোনাকালে যশোর সেনানিবাসের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩৭ বীরের অধিনায়ক ছিলেন।

 

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী বলেন, বদলি নিয়মিত প্রক্রিয়াই। তবে কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

অপরদিকে র‌্যাবের একাধিক সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক দুই অভিযানে অসঙ্গতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পর সদর দপ্তর বিশেষ তদন্ত শুরু করে।

 

গত ৭ সেপ্টেম্বর কুতুপালং এলাকায় দুই নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ গোপন ও মামলায় ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনও নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের দাবি করেন, যা তদন্তে খতিয়ে দেখতে একটি দল সেখানে যায়।

 

এ ছাড়া ২৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফের লেদা এলাকায় অভিযানে শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে মাত্র কিছু ইটের টুকরা ও কাঠের লাঠি জব্দ দেখানো হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি করে। উভয় অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান এবং তার ঘনিষ্ঠ কর্পোরাল ইমামকে এসব বিতর্কিত ঘটনার মূল নেপথ্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

 

অনিয়ম, ইয়াবা আত্মসাৎ ও তথ্য বিভ্রাটের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়ে র‌্যাবের মিডিয়া উইং বলেছে—দোষী প্রমাণিত হলে যে কেউ শাস্তি পাবেন।

জনপ্রিয়

উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট

কক্সবাজারে অধিনায়কসহ ৩ শতাধিক র‍্যাব সদস্যকে একযোগে বদলি

আপডেট : ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

 

কক্সবাজার–বান্দরবানকেন্দ্রিক র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন–১৫ (র‌্যাব–১৫)-এ কর্মরত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানসহ ৩ শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। ইয়াবা উদ্ধার সংক্রান্ত অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং কয়েকটি বিতর্কিত অভিযানের অভিযোগে সদর দপ্তরের তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে র‌্যাবের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

 

তবে র‌্যাব মিডিয়া উইং বলছে, এটি নিয়মিত বদলি কার্যক্রমের অংশ।

 

র‌্যাব সদর দপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর দুই দফায় মোট ৩৯৮ সদস্য এবং ২৭ নভেম্বর তৃতীয় দফায় আরও ৭৪ সদস্য বদলি হন। তিনটি প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বদলি হওয়া সদস্যদের বেশির ভাগই র‌্যাব–১৫–তে কর্মরত ছিলেন। এক ইউনিট থেকে এত বিপুল সংখ্যক সদস্যকে সরিয়ে নেওয়াকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

এক বছর দায়িত্ব পালনের পর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান পিএসসি, যিনি করোনাকালে যশোর সেনানিবাসের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩৭ বীরের অধিনায়ক ছিলেন।

 

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী বলেন, বদলি নিয়মিত প্রক্রিয়াই। তবে কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

অপরদিকে র‌্যাবের একাধিক সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক দুই অভিযানে অসঙ্গতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পর সদর দপ্তর বিশেষ তদন্ত শুরু করে।

 

গত ৭ সেপ্টেম্বর কুতুপালং এলাকায় দুই নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ গোপন ও মামলায় ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনও নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের দাবি করেন, যা তদন্তে খতিয়ে দেখতে একটি দল সেখানে যায়।

 

এ ছাড়া ২৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফের লেদা এলাকায় অভিযানে শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে মাত্র কিছু ইটের টুকরা ও কাঠের লাঠি জব্দ দেখানো হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি করে। উভয় অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান এবং তার ঘনিষ্ঠ কর্পোরাল ইমামকে এসব বিতর্কিত ঘটনার মূল নেপথ্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

 

অনিয়ম, ইয়াবা আত্মসাৎ ও তথ্য বিভ্রাটের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়ে র‌্যাবের মিডিয়া উইং বলেছে—দোষী প্রমাণিত হলে যে কেউ শাস্তি পাবেন।