ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে ইসলামি যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত খাল খননে ১ কোটি ২ লাখ টাকা সাশ্রয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন চরফ্যাশনের ইউএনও প্রতিবন্ধীদের আত্মনির্ভরশীলতার পথ দেখালেন প্রধানমন্ত্রী, ৩ অদম্য তরুণ-তরুণীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র হস্তান্তর টেকনাফে কুরিয়ার সার্ভিসের কার্গো স্টোরে ১১,২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার: বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান ভোলায় বৃক্ষরোপণ মেলা ২০২৬ শুরু বাগেরহাটে চুরি হওয়া ১১টি গরু উদ্ধার, পিকআপসহ গ্রেপ্তার ৩ সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা, বিজিবি মোতায়েন মিয়ানমারে পাচারের পথে ১৭ লাখ টাকার সার ও কৃষিপণ্য জব্দ, আটক ৬

চাকরি হারিয়ে রাজপথে ৫৪৭ জন—পুনর্বহাল ও ন্যায়বিচারের জন্য হৃদয়বিদারক আকুতি

 

আল‑আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে সম্প্রতি ‘গণছাঁটাই’-এর মাধ্যমে চাকরিচ্যুত ৫৪৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সোমবার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। চাকরিচ্যুতরা এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য, অমানবিক ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।

 

২০২৫ সালের জুন মাসের শেষ দিকে আল‑আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি অভ্যন্তরীণ নীতিমালার আলোকে দেশের বিভিন্ন শাখা ও বিভাগ থেকে একযোগে ৫৪৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত ছিল একতরফা, অপেশাদার ও পরিকল্পিত। কাউকে আগে থেকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি, এমনকি অনেককেই অফিসে গিয়ে ই-মেইল দেখে জানতে হয়েছে যে তারা চাকরিচ্যুত।

 

কর্মচারীদের বক্তব্য, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী অনেকেই জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ ০৫-০৪ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, আবার কেউ মাত্র ১-২ বছর আগে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন।

 

একজন সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, পারফরমেন্সও ভালো ছিল। তবুও কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটা শুধু চাকরি হারানো না, এটা মানবিক বিপর্যয়।”

 

আরেকজন নারী কর্মকর্তা বলেন,কর্মজীবনের মধ্যভাগে এসে এমনভাবে চাকরি হারানো মানে পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে চলে যাওয়া। এই রকম বেআইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায় কে নেবে?”

 

মানববন্ধনকারীদের প্রধান দাবিগুলো হলো:

১. চাকরিতে পুনর্বহাল।

২. চাকরিচ্যুতির পেছনে জবাবদিহিতা ও তদন্ত।

৩. ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ।

৪. সুশাসন ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা।

 

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

তাদের বক্তব্য, এই গণছাঁটাই শুধু ৫৪৭ জনকে নয়, তাদের পরিবারসহ হাজারের বেশি মানুষকে দুর্ভোগে ফেলেছে। সরকার চাইলে অবিলম্বে তদন্ত করে এই অন্যায় রোধ করতে পারে।”

 

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অবস্থান, ব্যাংকের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, “ব্যবস্থাপনায় পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক কৌশল সংশ্লিষ্ট।”

 

তবে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অনেকেই দাবি করেন, এই ‘পুনর্গঠন’ ছিল একটি ‘আবরণ মাত্র’। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক ছাঁটাই প্রক্রিয়া, যেখানে যোগ্যতা বা কর্মদক্ষতার বিচার না করে সুবিধাভোগী চক্রের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

শ্রম আইনের দৃষ্টিকোণ, বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী, যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে ন্যূনতম এক মাসের নোটিশ, বা পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণসহ ছাঁটাই নোটিশ দিতে হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মচারীরা বলছেন, এই আইনি বাধ্যবাধকতাও মানা হয়নি, যা শ্রম আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

 

প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল: “ছাঁটাই নয়, পুনর্বহাল চাই”, “পরিবার বাঁচান, চাকরি ফিরিয়ে দিন”, “ব্যাংকিং সেক্টরে দয়া ও ন্যায়ের দরকার আছে”।

 

এতে বিভিন্ন বয়স ও পদের পুরুষ-মহিলা কর্মকর্তারা অংশ নেন।

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

 

ছাঁটাই সংখ্যা: ৫৪৭ জন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: আল‑আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক।

মানববন্ধনের স্থান: জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা।

তারিখ ও সময়: ২৮ জুলাই ২০২৫, সকাল ১০টা–১টা।
প্রধান দাবি: চাকরিতে পুনর্বহাল।

তদন্ত ও ন্যায়বিচার দৃষ্টি আকর্ষণ: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস, বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

বাংলাদেশের অন্যতম পুরাতন ইসলামী বাণিজ্যিক ব্যাংক আল‑আরাফাহর এই গণছাঁটাইকে কেন্দ্র করে ব্যাংক খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও মানবিকতার প্রশ্নটি আবারও সামনে উঠে এসেছে। এই সংকট কেবল প্রতিষ্ঠানিক নয়—এটি হাজারো পরিবারের জীবিকা ও সম্মানের প্রশ্ন।

 

এখন সরকারের সদিচ্ছা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মানবিক বোধ—এই তিনটির সমন্বয়ের দিকেই তাকিয়ে আছে ৫৪৭টি পরিবার।

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত

চাকরি হারিয়ে রাজপথে ৫৪৭ জন—পুনর্বহাল ও ন্যায়বিচারের জন্য হৃদয়বিদারক আকুতি

আপডেট : ০৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

 

আল‑আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে সম্প্রতি ‘গণছাঁটাই’-এর মাধ্যমে চাকরিচ্যুত ৫৪৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সোমবার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। চাকরিচ্যুতরা এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য, অমানবিক ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।

 

২০২৫ সালের জুন মাসের শেষ দিকে আল‑আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি অভ্যন্তরীণ নীতিমালার আলোকে দেশের বিভিন্ন শাখা ও বিভাগ থেকে একযোগে ৫৪৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত ছিল একতরফা, অপেশাদার ও পরিকল্পিত। কাউকে আগে থেকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি, এমনকি অনেককেই অফিসে গিয়ে ই-মেইল দেখে জানতে হয়েছে যে তারা চাকরিচ্যুত।

 

কর্মচারীদের বক্তব্য, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী অনেকেই জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ ০৫-০৪ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, আবার কেউ মাত্র ১-২ বছর আগে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন।

 

একজন সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, পারফরমেন্সও ভালো ছিল। তবুও কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটা শুধু চাকরি হারানো না, এটা মানবিক বিপর্যয়।”

 

আরেকজন নারী কর্মকর্তা বলেন,কর্মজীবনের মধ্যভাগে এসে এমনভাবে চাকরি হারানো মানে পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে চলে যাওয়া। এই রকম বেআইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায় কে নেবে?”

 

মানববন্ধনকারীদের প্রধান দাবিগুলো হলো:

১. চাকরিতে পুনর্বহাল।

২. চাকরিচ্যুতির পেছনে জবাবদিহিতা ও তদন্ত।

৩. ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ।

৪. সুশাসন ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা।

 

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

তাদের বক্তব্য, এই গণছাঁটাই শুধু ৫৪৭ জনকে নয়, তাদের পরিবারসহ হাজারের বেশি মানুষকে দুর্ভোগে ফেলেছে। সরকার চাইলে অবিলম্বে তদন্ত করে এই অন্যায় রোধ করতে পারে।”

 

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অবস্থান, ব্যাংকের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, “ব্যবস্থাপনায় পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক কৌশল সংশ্লিষ্ট।”

 

তবে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অনেকেই দাবি করেন, এই ‘পুনর্গঠন’ ছিল একটি ‘আবরণ মাত্র’। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক ছাঁটাই প্রক্রিয়া, যেখানে যোগ্যতা বা কর্মদক্ষতার বিচার না করে সুবিধাভোগী চক্রের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

শ্রম আইনের দৃষ্টিকোণ, বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী, যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে ন্যূনতম এক মাসের নোটিশ, বা পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণসহ ছাঁটাই নোটিশ দিতে হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মচারীরা বলছেন, এই আইনি বাধ্যবাধকতাও মানা হয়নি, যা শ্রম আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

 

প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল: “ছাঁটাই নয়, পুনর্বহাল চাই”, “পরিবার বাঁচান, চাকরি ফিরিয়ে দিন”, “ব্যাংকিং সেক্টরে দয়া ও ন্যায়ের দরকার আছে”।

 

এতে বিভিন্ন বয়স ও পদের পুরুষ-মহিলা কর্মকর্তারা অংশ নেন।

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

 

ছাঁটাই সংখ্যা: ৫৪৭ জন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: আল‑আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক।

মানববন্ধনের স্থান: জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা।

তারিখ ও সময়: ২৮ জুলাই ২০২৫, সকাল ১০টা–১টা।
প্রধান দাবি: চাকরিতে পুনর্বহাল।

তদন্ত ও ন্যায়বিচার দৃষ্টি আকর্ষণ: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস, বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

বাংলাদেশের অন্যতম পুরাতন ইসলামী বাণিজ্যিক ব্যাংক আল‑আরাফাহর এই গণছাঁটাইকে কেন্দ্র করে ব্যাংক খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও মানবিকতার প্রশ্নটি আবারও সামনে উঠে এসেছে। এই সংকট কেবল প্রতিষ্ঠানিক নয়—এটি হাজারো পরিবারের জীবিকা ও সম্মানের প্রশ্ন।

 

এখন সরকারের সদিচ্ছা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মানবিক বোধ—এই তিনটির সমন্বয়ের দিকেই তাকিয়ে আছে ৫৪৭টি পরিবার।