ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে ইসলামি যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত খাল খননে ১ কোটি ২ লাখ টাকা সাশ্রয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন চরফ্যাশনের ইউএনও প্রতিবন্ধীদের আত্মনির্ভরশীলতার পথ দেখালেন প্রধানমন্ত্রী, ৩ অদম্য তরুণ-তরুণীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র হস্তান্তর টেকনাফে কুরিয়ার সার্ভিসের কার্গো স্টোরে ১১,২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার: বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান ভোলায় বৃক্ষরোপণ মেলা ২০২৬ শুরু বাগেরহাটে চুরি হওয়া ১১টি গরু উদ্ধার, পিকআপসহ গ্রেপ্তার ৩ সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা, বিজিবি মোতায়েন মিয়ানমারে পাচারের পথে ১৭ লাখ টাকার সার ও কৃষিপণ্য জব্দ, আটক ৬

লৌহজংয়ে হাউজবোট ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

 

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় হাউজবোট (ইঞ্জিনচালিত নৌকায় রুমসহ) ব্যবসার নামে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী। “নৌ-ভ্রমণ” ও “শীতকালীন হিম উৎসব” নামে এই কার্যক্রমের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে বলে দাবি করেছেন তারা।

 

গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, লৌহজং উপজেলায় ছয়টি হাউজবোট রয়েছে। এর মধ্যে মাওয়াঘাট নদীতে একটি, বেজগাঁও সুন্দিসার বাঘের বাড়িতে চারটি, এবং বেজগাঁও মৃধা বাড়ি সংলগ্ন একটি। এসব বোটের নামকরণ করা হয়েছে “ময়ূরী-২” ও “হৈমন্তী” সহ নানা আকর্ষণীয় নামে। হাউজবোটগুলিতে ওয়াসরুম, ব্যক্তিগত বারান্দা, আরামদায়ক বেডরুম, এবং প্রতিটি রুমে ডোর লক সিস্টেম রয়েছে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব সুবিধার সুযোগ নিয়ে হাউজবোটগুলো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুদের হাউজবোটে প্রবেশ করতে দেখা গেছে, যা সন্দেহজনক বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, “নৌ-ভ্রমণ” এর আড়ালে টাকার বিনিময়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে।

 

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “রুম থাকার কারণে এখানে অনৈতিক কাজ হয়। তারা প্রশাসনের কাছে হাউজবোট ব্যবসা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

 

মো. ইমন হোসেন, ভ্রমণ পোকা কোম্পানির ব্যবস্থাপক, জানিয়েছেন যে তাদের প্রতিষ্ঠানে তিনটি হাউজবোর্ড রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের এখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো সুযোগ নেই। আমরা শুধুমাত্র ফ্যামিলি ও বিবাহিত অতিথিদের প্রবেশের অনুমতি দিই। তাই, কোনো অনৈতিক কার্যকলাপের সম্ভাবনাই নেই।

 

পরিচালনার অনুমোদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যায়নি, তবে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা অনুমোদন পেয়ে যাব।

 

পদ্মা উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এলাকাবাসীর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা হাউজবোটগুলোর দিকে বিশেষ নজর রাখছি।

 

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, আইন-শৃঙ্খলা মাসিক সভায় দুই থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যেসব ইউনিয়নে হাউজবোট রয়েছে, সেখানকার ইউনিয়ন সচিবদেরও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাউজবোট মালিকদের বৈধ কাগজপত্রসহ অফিসে আসার জন্য বলা হয়েছে।

 

এলাকাবাসী আশা করছেন, প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে হাউজবোটের আড়ালে চলা অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে। তারা চান, তাদের এলাকাটি নিরাপদ ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখবে।

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত

লৌহজংয়ে হাউজবোট ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

আপডেট : ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫

 

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় হাউজবোট (ইঞ্জিনচালিত নৌকায় রুমসহ) ব্যবসার নামে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী। “নৌ-ভ্রমণ” ও “শীতকালীন হিম উৎসব” নামে এই কার্যক্রমের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে বলে দাবি করেছেন তারা।

 

গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, লৌহজং উপজেলায় ছয়টি হাউজবোট রয়েছে। এর মধ্যে মাওয়াঘাট নদীতে একটি, বেজগাঁও সুন্দিসার বাঘের বাড়িতে চারটি, এবং বেজগাঁও মৃধা বাড়ি সংলগ্ন একটি। এসব বোটের নামকরণ করা হয়েছে “ময়ূরী-২” ও “হৈমন্তী” সহ নানা আকর্ষণীয় নামে। হাউজবোটগুলিতে ওয়াসরুম, ব্যক্তিগত বারান্দা, আরামদায়ক বেডরুম, এবং প্রতিটি রুমে ডোর লক সিস্টেম রয়েছে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব সুবিধার সুযোগ নিয়ে হাউজবোটগুলো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুদের হাউজবোটে প্রবেশ করতে দেখা গেছে, যা সন্দেহজনক বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, “নৌ-ভ্রমণ” এর আড়ালে টাকার বিনিময়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে।

 

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “রুম থাকার কারণে এখানে অনৈতিক কাজ হয়। তারা প্রশাসনের কাছে হাউজবোট ব্যবসা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

 

মো. ইমন হোসেন, ভ্রমণ পোকা কোম্পানির ব্যবস্থাপক, জানিয়েছেন যে তাদের প্রতিষ্ঠানে তিনটি হাউজবোর্ড রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের এখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো সুযোগ নেই। আমরা শুধুমাত্র ফ্যামিলি ও বিবাহিত অতিথিদের প্রবেশের অনুমতি দিই। তাই, কোনো অনৈতিক কার্যকলাপের সম্ভাবনাই নেই।

 

পরিচালনার অনুমোদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যায়নি, তবে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা অনুমোদন পেয়ে যাব।

 

পদ্মা উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এলাকাবাসীর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা হাউজবোটগুলোর দিকে বিশেষ নজর রাখছি।

 

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, আইন-শৃঙ্খলা মাসিক সভায় দুই থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যেসব ইউনিয়নে হাউজবোট রয়েছে, সেখানকার ইউনিয়ন সচিবদেরও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাউজবোট মালিকদের বৈধ কাগজপত্রসহ অফিসে আসার জন্য বলা হয়েছে।

 

এলাকাবাসী আশা করছেন, প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে হাউজবোটের আড়ালে চলা অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে। তারা চান, তাদের এলাকাটি নিরাপদ ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখবে।