ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে নীলফামারীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

 

নীলফামারীতে গভীর রাতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জনজীবন ও কৃষকের ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়টি প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালায়, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা ও সদর উপজেলায় মাঠজুড়ে শস্যের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

শুক্রবার ও শনিবার (২৭, ও ২৮ মার্চ) রাত ১১-১২টার দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া। মুহূর্তেই বজ্রসহ বৃষ্টি এবং সেই সাথে বড় বড় শিলা পড়তে শুরু করে।

 

স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের তীব্রতা ও শিলার আঘাতে অনেক জায়গায় টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাত ১২টার পর ঝড়ের বেগ আরও বৃদ্ধি পায় এবং মেঘের প্রচণ্ড গর্জনে জনমনে ভীতির সৃষ্টি হয়।

 

চৈত্র মাসের এই সময়ে মাঠে থাকা বিভিন্ন রবি শস্য ও লিচু-আমের মুকুলের জন্য এই শিলাবৃষ্টি মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ছবি ও ভিডিও আপলোড করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে ভুট্টা, গম, তামাক এবং শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক আভাস পাওয়া গেছে।

 

জলঢাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মপাল, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী, গোলমুন্ডা, বালাগ্রাম, কৈমারী ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করতেছে। প্রাথমিক তথ্যমতে ২৫- ৩০ লক্ষ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।”

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ মঞ্জুর রহমান জানান, “আমরা ইতিমধ্যে জেলায় ৪৯৩ হেক্টর ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রধান অফিসে রিপোর্ট পাটিয়েছি। ফসল পুনরুদ্ধারে ২-৩ দিন সময় লাগতে পারে। মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করার কাজ চলমান রয়েছে। বিশেষ করে জেলার ডোমার, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।”

 

এদিকে আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, আগামী ১ এপ্রিল জেলায় আরও ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট

ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে নীলফামারীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট : ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

 

নীলফামারীতে গভীর রাতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জনজীবন ও কৃষকের ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়টি প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালায়, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা ও সদর উপজেলায় মাঠজুড়ে শস্যের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

শুক্রবার ও শনিবার (২৭, ও ২৮ মার্চ) রাত ১১-১২টার দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া। মুহূর্তেই বজ্রসহ বৃষ্টি এবং সেই সাথে বড় বড় শিলা পড়তে শুরু করে।

 

স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের তীব্রতা ও শিলার আঘাতে অনেক জায়গায় টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাত ১২টার পর ঝড়ের বেগ আরও বৃদ্ধি পায় এবং মেঘের প্রচণ্ড গর্জনে জনমনে ভীতির সৃষ্টি হয়।

 

চৈত্র মাসের এই সময়ে মাঠে থাকা বিভিন্ন রবি শস্য ও লিচু-আমের মুকুলের জন্য এই শিলাবৃষ্টি মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ছবি ও ভিডিও আপলোড করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে ভুট্টা, গম, তামাক এবং শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক আভাস পাওয়া গেছে।

 

জলঢাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মপাল, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী, গোলমুন্ডা, বালাগ্রাম, কৈমারী ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করতেছে। প্রাথমিক তথ্যমতে ২৫- ৩০ লক্ষ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।”

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ মঞ্জুর রহমান জানান, “আমরা ইতিমধ্যে জেলায় ৪৯৩ হেক্টর ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রধান অফিসে রিপোর্ট পাটিয়েছি। ফসল পুনরুদ্ধারে ২-৩ দিন সময় লাগতে পারে। মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করার কাজ চলমান রয়েছে। বিশেষ করে জেলার ডোমার, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।”

 

এদিকে আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, আগামী ১ এপ্রিল জেলায় আরও ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।