সারা দেশের ন্যায় পিরোজপুর জেলাতেও নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বই বিতরণ করা হয়।
নতুন বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও আনন্দের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। তবে এবারও বছরের প্রথম দিনে সব শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই পৌঁছায়নি। বিশেষ করে সপ্তম শ্রেণির কোনো শিক্ষার্থীই এখনো নতুন বই পায়নি। একই সঙ্গে দাখিল স্তরে নবম শ্রেণি ছাড়া অন্য কোনো শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও পাঠ্যবই থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর জেলার ৯৮৯টি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী এবং মাধ্যমিক, দাখিল, ইফতেদায়ী ও ভোকেশনাল পর্যায়ের প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরে শতভাগ পাঠ্যবই সরবরাহ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক ও মাদরাসা পর্যায়ে পাঠ্যবইয়ের সরবরাহ ঘাটতি থাকায় বছরের প্রথম দিনে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, পিরোজপুর জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬২৮টি বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৬৭ হাজার ১০৬ জন এবং মাদরাসা পর্যায়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩১ হাজার ৬১৫ জন। এছাড়া ইফতেদায়ী পর্যায়ে ৩৭ হাজার ৪১০ জন ও ভোকেশনাল পর্যায়ে ২৯ হাজার ৬০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক পর্যায়ে (ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি) মোট পাঠ্যবইয়ের চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৩০টি। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭৬০টি বই, যা মোট চাহিদার প্রায় ৬৮ শতাংশ। অন্যদিকে দাখিল পর্যায়ে (ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি) মোট পাঠ্যবইয়ের চাহিদা ছিল ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২০০টি। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত এসেছে মাত্র ৮৬ হাজার ৬৪০টি বই, যা মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। এসব বই কেবল নবম শ্রেণির জন্য বরাদ্দ থাকায় বাকি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখনো বই পায়নি।
ইফতেদায়ী বিভাগে ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮০টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বই সরবরাহ করা হয়েছে। তবে ভোকেশনাল বিভাগে ৫০ হাজার ৪১০ টি বইয়ের চাহিদা থাকলেও এখন পর্যন্ত এসেছে ২৭ হাজার ৫১৭টি বই।
অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাহিদার শতভাগ বই ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫১৭টি। এর মধ্যে ইন্দুরকানী উপজেলায় ৩৪ হাজার ১৫৮টি, কাউখালীতে ২৪ হাজার ২৭৩টি, নাজিরপুরে ৯৯ হাজার ৫৪০টি, নেছারাবাদে ৮৯ হাজার ৬৮৮টি, সদর উপজেলায় ৬৩ হাজার ২৫৮টি, ভান্ডারিয়ায় ৬৫ হাজার ৭১২টি এবং মঠবাড়িয়ায় ১ লাখ ১১ হাজার ৮৮৮টি বই বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ২২ হাজার ৮৮৬টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বই সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বক্তিয়ার রহমান বলেন, জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যবই পৌঁছে গেছে। শতভাগ শিক্ষার্থী নতুন বই পেয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ পাঠ্যবই এসেছে। বাকি বইগুলো আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দ্রুতই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তবে শতভাগ বিতরণ কবে সম্পন্ন হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

দক্ষিণাঞ্চল প্রতিবেদকঃ 



















