ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এবং অসচ্ছলদের চিকিৎসায় চেক বিতরণ বাগেরহাট প্রেসক্লাবে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে এসি প্রদান ভোলার তীরবর্তী সাগরে ভেসে উঠেছে টনে টনে পঁচা ইলিশ, গন্ধে হচ্ছে পরিবেশ দূষণ টেকনাফে বিজিবি-এসআরবির যৌথ অভিযান, ১ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪ রাষ্ট্রপতির হাত থেকে জাতীয় যুব পুরস্কার পেলেন নেছারাবাদের শিরিন খানম ১০ অবৈধ হকারি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত শপিং মল ও রাষ্ট্রীয় রাজস্ব টেকনাফের উন্নয়ন ও জনস্বার্থে প্রশাসনের সঙ্গে প্রেসক্লাবের সংলাপ পিরোজপুরে মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জেলা প্রশাসকের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজের ৪ দিনের রিমান্ড করিমগঞ্জে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত

সমান শ্রমেও পুরুষের তুলনায় নারীরা পান অর্ধেক পারিশ্রমিক

 

বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিশাল অংশ নারী। তাই জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশত নারীর উন্নয়ন। সকল ক্ষেত্রে নারীর সমসুযোগ ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একান্ত অপরিহার্য। নারীরা গৃহস্থালী কাজের বাইরে ও কৃষিতে অগ্রদূত হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছেন। নারীরা আমাদের কৃষি, সমাজ, সংসারকে মহিমান্বিত করেন। কষ্টগাঁথা আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের অবদান অপরিসীম।

 

ঠিক তেমনই নীলফামারীর জলঢাকায় কৃষি ও উন্নয়ন কাজে নারীদের অবদান এক অনবদ্য অধ্যায়।জলঢাকা উপজেলায় নারীরা কৃষি কাজে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন। উপজেলার দারিদ্র ও অসহায় পরিবারের নারীরা অন্যের জমিতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে থাকেন। এই নারীরা পুরুষের সমপরিমাণ কাজ করলেও মজুরি বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকেন বিভিন্ন সময়।

 

উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া এলাকার নারী শ্রমিক তাহেরা বলেন, ‘আমরা গরীব আমাদের কোনো জমি না থাকায় অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করি। কৃষিকাজই আমাদের পেশা। কিন্তু জলঢাকায় কৃষি কাজে ও উন্নয়নে নারীরা ভালো কাজ করলেও পুরুষদের তুলনায় নারী শ্রমিকরা কম মজুরি কম পান। একজন পুরুষ যেখানে দিনে কাজ করে ৪০০ টাকা মজুরি হলেও শ্রম সমান করেও নারী শ্রমিকরা পান ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

 

উপজেলার ডাউয়াবারী ইউনিয়ন চরভরট পাড়ার নারী শ্রমিক রানী বলেন, ‘আমরা জমিতে ধান লাগানো, আগাছা পরিষ্কার, ধান কাটা মাড়াইসহ সকল কাজ পুরুষদের সমান করলেও মজুরি কম পাই।’

 

শৌলমারী ইউনিয়নের বানপাড়া এলাকার নারী শ্রমিক মায়া বলেন, ‘জমিতে ধান রোপণ ও কাটা মাড়াইসহ বিভিন্ন কৃষি কাজ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছি। জমিতে কাজে গেলে রোদ, বৃষ্টি মাথার উপর দিয়ে যায়। কিন্তু সে তুলনায় আমাদের অসুখ-বিসুখ খুব কম। আমরা সহজেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করে কৃষি কাজ করে থাকি।’

 

কৈমারী ইউনিয়নের বাধ এলাকার নারী শ্রমিক রাহেলা বলেন, ‘নারীদের কারণে হাজার হাজার একর জমিতে বিভিন্ন কৃষি পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। যা এ এলাকার খাদ্যের চাহিদা মিটিয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন।’

 

গাবরোল টগরার ডাঙ্গা এলাকার পুরুষ শ্রমিক সোবহান বলেন, ‘এ অঞ্চলের কৃষি কাজে পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।’

 

কনক বলেন, ‘নারী শ্রমিকরা সংসারের পাশাপাশি কৃষি কাজে অভাবনীয় সাফল্য এনেছেন। অন্যের জমিতে কাজ করার পাশাপাশি নিজেরা ফসল চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।’

 

এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন এলাকার নারীরা বলেন, এ অঞ্চলের জঙ্গল পরিষ্কার করে সব জমিকে ফসলি জমিতে পরিণত করেছেন। সেই জমিতে ধানসহ সকল ফসল উৎপাদনে নারী শ্রমিকদের অবদান রয়েছে সবচেয়ে বেশি।

 

নারীদের কৃষি শ্রমিক হিসেবে সাংবাধানিক ভাবে স্বীকৃতি প্রদানসহ নায্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এবং অসচ্ছলদের চিকিৎসায় চেক বিতরণ

সমান শ্রমেও পুরুষের তুলনায় নারীরা পান অর্ধেক পারিশ্রমিক

আপডেট : ০২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

 

বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিশাল অংশ নারী। তাই জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশত নারীর উন্নয়ন। সকল ক্ষেত্রে নারীর সমসুযোগ ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একান্ত অপরিহার্য। নারীরা গৃহস্থালী কাজের বাইরে ও কৃষিতে অগ্রদূত হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছেন। নারীরা আমাদের কৃষি, সমাজ, সংসারকে মহিমান্বিত করেন। কষ্টগাঁথা আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের অবদান অপরিসীম।

 

ঠিক তেমনই নীলফামারীর জলঢাকায় কৃষি ও উন্নয়ন কাজে নারীদের অবদান এক অনবদ্য অধ্যায়।জলঢাকা উপজেলায় নারীরা কৃষি কাজে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন। উপজেলার দারিদ্র ও অসহায় পরিবারের নারীরা অন্যের জমিতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে থাকেন। এই নারীরা পুরুষের সমপরিমাণ কাজ করলেও মজুরি বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকেন বিভিন্ন সময়।

 

উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া এলাকার নারী শ্রমিক তাহেরা বলেন, ‘আমরা গরীব আমাদের কোনো জমি না থাকায় অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করি। কৃষিকাজই আমাদের পেশা। কিন্তু জলঢাকায় কৃষি কাজে ও উন্নয়নে নারীরা ভালো কাজ করলেও পুরুষদের তুলনায় নারী শ্রমিকরা কম মজুরি কম পান। একজন পুরুষ যেখানে দিনে কাজ করে ৪০০ টাকা মজুরি হলেও শ্রম সমান করেও নারী শ্রমিকরা পান ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

 

উপজেলার ডাউয়াবারী ইউনিয়ন চরভরট পাড়ার নারী শ্রমিক রানী বলেন, ‘আমরা জমিতে ধান লাগানো, আগাছা পরিষ্কার, ধান কাটা মাড়াইসহ সকল কাজ পুরুষদের সমান করলেও মজুরি কম পাই।’

 

শৌলমারী ইউনিয়নের বানপাড়া এলাকার নারী শ্রমিক মায়া বলেন, ‘জমিতে ধান রোপণ ও কাটা মাড়াইসহ বিভিন্ন কৃষি কাজ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছি। জমিতে কাজে গেলে রোদ, বৃষ্টি মাথার উপর দিয়ে যায়। কিন্তু সে তুলনায় আমাদের অসুখ-বিসুখ খুব কম। আমরা সহজেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করে কৃষি কাজ করে থাকি।’

 

কৈমারী ইউনিয়নের বাধ এলাকার নারী শ্রমিক রাহেলা বলেন, ‘নারীদের কারণে হাজার হাজার একর জমিতে বিভিন্ন কৃষি পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। যা এ এলাকার খাদ্যের চাহিদা মিটিয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন।’

 

গাবরোল টগরার ডাঙ্গা এলাকার পুরুষ শ্রমিক সোবহান বলেন, ‘এ অঞ্চলের কৃষি কাজে পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।’

 

কনক বলেন, ‘নারী শ্রমিকরা সংসারের পাশাপাশি কৃষি কাজে অভাবনীয় সাফল্য এনেছেন। অন্যের জমিতে কাজ করার পাশাপাশি নিজেরা ফসল চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।’

 

এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন এলাকার নারীরা বলেন, এ অঞ্চলের জঙ্গল পরিষ্কার করে সব জমিকে ফসলি জমিতে পরিণত করেছেন। সেই জমিতে ধানসহ সকল ফসল উৎপাদনে নারী শ্রমিকদের অবদান রয়েছে সবচেয়ে বেশি।

 

নারীদের কৃষি শ্রমিক হিসেবে সাংবাধানিক ভাবে স্বীকৃতি প্রদানসহ নায্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।