ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
টেকনাফে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুব সমাবেশ ও র‍্যালি ভোলাবাসীর স্বপ্ন, গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা দুই যুগেও গড়ে ওঠেনি পিরোজপুরের নাজিরপুরে উন্নয়নবঞ্চিত সড়ক পরিদর্শন, তালিকা প্রস্তুত টেকনাফে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ ৪ অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার মোরেলগঞ্জে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত এমপিপুত্রকে যুবদল থেকে বহিষ্কার, ওসি প্রত্যাহার রামপাল নাগরিক ফোরামের সভা ও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত ​ নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী পিরোজপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন বাগেরহাট বিআরটিএ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, মিলেছে অনিয়মের তথ্য

দক্ষিণ কোরিয়ায় ছাত্রজীবনের সাফল্যের নতুন দিশা: একে আজাদের পরিকল্পনা ও প্রজ্ঞার অনন্য গল্প

  • মোঃ আনজার শাহ
  • আপডেট : ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২০৩ ভিউ

 

প্রবাসী জীবনে সাফল্যের জন্য কেবল মেধা নয়, প্রয়োজন সুস্পষ্ট লক্ষ্য, সুপরিকল্পিত পথচলা আর দৃঢ় মানসিকতা। এই কথারই জীবন্ত প্রমাণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী একে আজাদ, যিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ডং-আ ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স অধ্যয়নকালে নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রমী দর্শনে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর চিন্তাশীল পোস্ট ইতোমধ্যেই প্রবাসী শিক্ষার্থীদের মনে আলোড়ন তুলেছে। সেখানে তিনি তুলে ধরেছেন, কীভাবে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রজ্ঞার সমন্বয়ে ছাত্রজীবনকে সাফল্যের সোপানে পৌঁছানো সম্ভব।

 

আজাদ জানান, অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেখানে দুই বছরের সাধারণ সময়সীমার মধ্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন, তিনি শুরু থেকেই আড়াই বছরের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বেছে নেন। প্রতিটি দিনের জন্য ছিল তাঁর আলাদা কর্মতালিকা। আর আল্লাহর অশেষ কৃপায় সেই পরিকল্পনার প্রায় ৯০ শতাংশই তিনি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন।

 

তাঁর ভাষায়, “অনেকে দ্রুত পড়াশোনা শেষ করে দ্বিধায় ভোগেন, এরপর কী করবেন। অথচ আমি আমার শ্রম, সময় ও অর্থ কেবল ভবিষ্যতের মজবুত ভিত্তি গড়ার জন্য ব্যয় করেছি।”

 

ডি-২ ভিসার প্রসঙ্গ টেনে আজাদ বলেন, কোরিয়ায় আগত শিক্ষার্থীদের এ ভিসার গুরুত্ব যথাযথভাবে বোঝা দরকার। তাঁর অভিমত—এটি কেবল পড়াশোনার জন্য নয়, বরং সচেতনভাবে ব্যবহার করলে এটি ক্যারিয়ারে এক নতুন অধ্যায়ের দ্বার খুলে দিতে পারে।

 

যেখানে অনেক সহপাঠী ডি-২ ও ডি-১০ ভিসার সময়সীমা ইতোমধ্যেই শেষ করে ফেলেছেন, সেখানে তাঁর এখনো ডি-২ ভিসার ছয় মাস বাকি এবং ডি-১০ ভিসার পুরো সময় অক্ষত রয়েছে। এটাই প্রমাণ করে যে, শুরু থেকেই তিনি নিজের পথচলাকে সুপরিকল্পিত করেছেন।

 

পড়াশোনা, কাজ, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করে প্রোফাইল তৈরি করা কতটা কঠিন—সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। তাই নতুন শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, কোরিয়ায় পা রাখার পর থেকেই নিজেদের প্রোফাইল গড়তে মনোযোগী হতে হবে।

 

একে আজাদের এই অনন্য চিন্তা ও তার সফল বাস্তবায়ন কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়। বরং এটি এক অনুপ্রেরণার আলো, যা পথ দেখাবে হাজারো শিক্ষার্থীকে, যারা প্রবাসের মাটিতে অদম্য পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে সংগ্রাম করছেন।

জনপ্রিয়

টেকনাফে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুব সমাবেশ ও র‍্যালি

দক্ষিণ কোরিয়ায় ছাত্রজীবনের সাফল্যের নতুন দিশা: একে আজাদের পরিকল্পনা ও প্রজ্ঞার অনন্য গল্প

আপডেট : ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

প্রবাসী জীবনে সাফল্যের জন্য কেবল মেধা নয়, প্রয়োজন সুস্পষ্ট লক্ষ্য, সুপরিকল্পিত পথচলা আর দৃঢ় মানসিকতা। এই কথারই জীবন্ত প্রমাণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী একে আজাদ, যিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ডং-আ ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স অধ্যয়নকালে নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রমী দর্শনে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর চিন্তাশীল পোস্ট ইতোমধ্যেই প্রবাসী শিক্ষার্থীদের মনে আলোড়ন তুলেছে। সেখানে তিনি তুলে ধরেছেন, কীভাবে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রজ্ঞার সমন্বয়ে ছাত্রজীবনকে সাফল্যের সোপানে পৌঁছানো সম্ভব।

 

আজাদ জানান, অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেখানে দুই বছরের সাধারণ সময়সীমার মধ্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন, তিনি শুরু থেকেই আড়াই বছরের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বেছে নেন। প্রতিটি দিনের জন্য ছিল তাঁর আলাদা কর্মতালিকা। আর আল্লাহর অশেষ কৃপায় সেই পরিকল্পনার প্রায় ৯০ শতাংশই তিনি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন।

 

তাঁর ভাষায়, “অনেকে দ্রুত পড়াশোনা শেষ করে দ্বিধায় ভোগেন, এরপর কী করবেন। অথচ আমি আমার শ্রম, সময় ও অর্থ কেবল ভবিষ্যতের মজবুত ভিত্তি গড়ার জন্য ব্যয় করেছি।”

 

ডি-২ ভিসার প্রসঙ্গ টেনে আজাদ বলেন, কোরিয়ায় আগত শিক্ষার্থীদের এ ভিসার গুরুত্ব যথাযথভাবে বোঝা দরকার। তাঁর অভিমত—এটি কেবল পড়াশোনার জন্য নয়, বরং সচেতনভাবে ব্যবহার করলে এটি ক্যারিয়ারে এক নতুন অধ্যায়ের দ্বার খুলে দিতে পারে।

 

যেখানে অনেক সহপাঠী ডি-২ ও ডি-১০ ভিসার সময়সীমা ইতোমধ্যেই শেষ করে ফেলেছেন, সেখানে তাঁর এখনো ডি-২ ভিসার ছয় মাস বাকি এবং ডি-১০ ভিসার পুরো সময় অক্ষত রয়েছে। এটাই প্রমাণ করে যে, শুরু থেকেই তিনি নিজের পথচলাকে সুপরিকল্পিত করেছেন।

 

পড়াশোনা, কাজ, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করে প্রোফাইল তৈরি করা কতটা কঠিন—সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। তাই নতুন শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, কোরিয়ায় পা রাখার পর থেকেই নিজেদের প্রোফাইল গড়তে মনোযোগী হতে হবে।

 

একে আজাদের এই অনন্য চিন্তা ও তার সফল বাস্তবায়ন কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়। বরং এটি এক অনুপ্রেরণার আলো, যা পথ দেখাবে হাজারো শিক্ষার্থীকে, যারা প্রবাসের মাটিতে অদম্য পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে সংগ্রাম করছেন।