ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা, বিজিবি মোতায়েন মিয়ানমারে পাচারের পথে ১৭ লাখ টাকার সার ও কৃষিপণ্য জব্দ, আটক ৬ টেকনাফে র‌্যাব-১৫-এর অভিযানে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার বানারীপাড়ায় দুই জুলাই শহীদ পরিবারের ঘরে তারেক রহমানের উপহার মোরেলগঞ্জে পাটের বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিক ব্যবহার: ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্ব বাঘ দিবস আজ হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার

দক্ষিণ কোরিয়ায় ছাত্রজীবনের সাফল্যের নতুন দিশা: একে আজাদের পরিকল্পনা ও প্রজ্ঞার অনন্য গল্প

  • মোঃ আনজার শাহ
  • আপডেট : ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৬৯ ভিউ

 

প্রবাসী জীবনে সাফল্যের জন্য কেবল মেধা নয়, প্রয়োজন সুস্পষ্ট লক্ষ্য, সুপরিকল্পিত পথচলা আর দৃঢ় মানসিকতা। এই কথারই জীবন্ত প্রমাণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী একে আজাদ, যিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ডং-আ ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স অধ্যয়নকালে নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রমী দর্শনে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর চিন্তাশীল পোস্ট ইতোমধ্যেই প্রবাসী শিক্ষার্থীদের মনে আলোড়ন তুলেছে। সেখানে তিনি তুলে ধরেছেন, কীভাবে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রজ্ঞার সমন্বয়ে ছাত্রজীবনকে সাফল্যের সোপানে পৌঁছানো সম্ভব।

 

আজাদ জানান, অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেখানে দুই বছরের সাধারণ সময়সীমার মধ্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন, তিনি শুরু থেকেই আড়াই বছরের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বেছে নেন। প্রতিটি দিনের জন্য ছিল তাঁর আলাদা কর্মতালিকা। আর আল্লাহর অশেষ কৃপায় সেই পরিকল্পনার প্রায় ৯০ শতাংশই তিনি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন।

 

তাঁর ভাষায়, “অনেকে দ্রুত পড়াশোনা শেষ করে দ্বিধায় ভোগেন, এরপর কী করবেন। অথচ আমি আমার শ্রম, সময় ও অর্থ কেবল ভবিষ্যতের মজবুত ভিত্তি গড়ার জন্য ব্যয় করেছি।”

 

ডি-২ ভিসার প্রসঙ্গ টেনে আজাদ বলেন, কোরিয়ায় আগত শিক্ষার্থীদের এ ভিসার গুরুত্ব যথাযথভাবে বোঝা দরকার। তাঁর অভিমত—এটি কেবল পড়াশোনার জন্য নয়, বরং সচেতনভাবে ব্যবহার করলে এটি ক্যারিয়ারে এক নতুন অধ্যায়ের দ্বার খুলে দিতে পারে।

 

যেখানে অনেক সহপাঠী ডি-২ ও ডি-১০ ভিসার সময়সীমা ইতোমধ্যেই শেষ করে ফেলেছেন, সেখানে তাঁর এখনো ডি-২ ভিসার ছয় মাস বাকি এবং ডি-১০ ভিসার পুরো সময় অক্ষত রয়েছে। এটাই প্রমাণ করে যে, শুরু থেকেই তিনি নিজের পথচলাকে সুপরিকল্পিত করেছেন।

 

পড়াশোনা, কাজ, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করে প্রোফাইল তৈরি করা কতটা কঠিন—সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। তাই নতুন শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, কোরিয়ায় পা রাখার পর থেকেই নিজেদের প্রোফাইল গড়তে মনোযোগী হতে হবে।

 

একে আজাদের এই অনন্য চিন্তা ও তার সফল বাস্তবায়ন কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়। বরং এটি এক অনুপ্রেরণার আলো, যা পথ দেখাবে হাজারো শিক্ষার্থীকে, যারা প্রবাসের মাটিতে অদম্য পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে সংগ্রাম করছেন।

জনপ্রিয়

হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা, বিজিবি মোতায়েন

দক্ষিণ কোরিয়ায় ছাত্রজীবনের সাফল্যের নতুন দিশা: একে আজাদের পরিকল্পনা ও প্রজ্ঞার অনন্য গল্প

আপডেট : ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

প্রবাসী জীবনে সাফল্যের জন্য কেবল মেধা নয়, প্রয়োজন সুস্পষ্ট লক্ষ্য, সুপরিকল্পিত পথচলা আর দৃঢ় মানসিকতা। এই কথারই জীবন্ত প্রমাণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী একে আজাদ, যিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ডং-আ ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স অধ্যয়নকালে নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রমী দর্শনে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর চিন্তাশীল পোস্ট ইতোমধ্যেই প্রবাসী শিক্ষার্থীদের মনে আলোড়ন তুলেছে। সেখানে তিনি তুলে ধরেছেন, কীভাবে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রজ্ঞার সমন্বয়ে ছাত্রজীবনকে সাফল্যের সোপানে পৌঁছানো সম্ভব।

 

আজাদ জানান, অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেখানে দুই বছরের সাধারণ সময়সীমার মধ্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন, তিনি শুরু থেকেই আড়াই বছরের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বেছে নেন। প্রতিটি দিনের জন্য ছিল তাঁর আলাদা কর্মতালিকা। আর আল্লাহর অশেষ কৃপায় সেই পরিকল্পনার প্রায় ৯০ শতাংশই তিনি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন।

 

তাঁর ভাষায়, “অনেকে দ্রুত পড়াশোনা শেষ করে দ্বিধায় ভোগেন, এরপর কী করবেন। অথচ আমি আমার শ্রম, সময় ও অর্থ কেবল ভবিষ্যতের মজবুত ভিত্তি গড়ার জন্য ব্যয় করেছি।”

 

ডি-২ ভিসার প্রসঙ্গ টেনে আজাদ বলেন, কোরিয়ায় আগত শিক্ষার্থীদের এ ভিসার গুরুত্ব যথাযথভাবে বোঝা দরকার। তাঁর অভিমত—এটি কেবল পড়াশোনার জন্য নয়, বরং সচেতনভাবে ব্যবহার করলে এটি ক্যারিয়ারে এক নতুন অধ্যায়ের দ্বার খুলে দিতে পারে।

 

যেখানে অনেক সহপাঠী ডি-২ ও ডি-১০ ভিসার সময়সীমা ইতোমধ্যেই শেষ করে ফেলেছেন, সেখানে তাঁর এখনো ডি-২ ভিসার ছয় মাস বাকি এবং ডি-১০ ভিসার পুরো সময় অক্ষত রয়েছে। এটাই প্রমাণ করে যে, শুরু থেকেই তিনি নিজের পথচলাকে সুপরিকল্পিত করেছেন।

 

পড়াশোনা, কাজ, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করে প্রোফাইল তৈরি করা কতটা কঠিন—সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। তাই নতুন শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, কোরিয়ায় পা রাখার পর থেকেই নিজেদের প্রোফাইল গড়তে মনোযোগী হতে হবে।

 

একে আজাদের এই অনন্য চিন্তা ও তার সফল বাস্তবায়ন কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়। বরং এটি এক অনুপ্রেরণার আলো, যা পথ দেখাবে হাজারো শিক্ষার্থীকে, যারা প্রবাসের মাটিতে অদম্য পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে সংগ্রাম করছেন।