দেশের আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে দাখিল (মাধ্যমিক) ও আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক) স্তরে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালুর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (১৩ আগস্ট, ২০২৫) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো, যা দেশের অর্থনীতি ও কর্পোরেট জগতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. দাউদ উবায়দুর রহমান সাহেল স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার পাশাপাশি ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু করা হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দাখিল ও আলিম স্তরের জন্য পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ও পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুতকরণ, শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহণ।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষাবিদরা। তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখতে পারবে। দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যবসায় শিক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ছিল। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হওয়ায় মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।
এদিকে, এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষকরা তাদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো পুনরায় তুলে ধরেছেন। তারা শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিগুলোও বিবেচনা করবে।
শিক্ষক সমিতির এক নেতা বলেন, “মাদ্রাসায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। তবে শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের জীবনমান উন্নত করা এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি।”
এই নতুন সিদ্ধান্ত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছে, এর মাধ্যমে তারা এখন ব্যাংক, বীমা, কর্পোরেট হাউজসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখতে পারবে। শিক্ষার্থীরা জানায়, এতদিন শুধু মানবিক ও বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সুযোগ থাকায় তাদের কর্মক্ষেত্রের পরিধি সীমিত ছিল। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু হওয়ায় সেই সীমাবদ্ধতা আর থাকবে না।
আশা করা হচ্ছে, মাদ্রাসা থেকে ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শিক্ষার্থীরা সততা ও নৈতিকতার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। ইসলামী মূল্যবোধের সাথে আধুনিক ব্যবসায়িক জ্ঞানের সমন্বয়ে তারা কর্পোরেট জগতেও নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে, ইনশাআল্লাহ। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।

মোঃ আনজার শাহ 



















