ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা, বিজিবি মোতায়েন মিয়ানমারে পাচারের পথে ১৭ লাখ টাকার সার ও কৃষিপণ্য জব্দ, আটক ৬ টেকনাফে র‌্যাব-১৫-এর অভিযানে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার বানারীপাড়ায় দুই জুলাই শহীদ পরিবারের ঘরে তারেক রহমানের উপহার মোরেলগঞ্জে পাটের বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিক ব্যবহার: ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্ব বাঘ দিবস আজ হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার

বরিশালে চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত

 

বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত বরিশালের সবজি চাষিরা। বরিশালে চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা। শীতের শুরুতেই মাঠ পর্যায়ে কম দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হলেও নগরীর বাজারে সেই সবজিই বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ দামে।

 

জেলার বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, আগৈলঝাড়া ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা পাইকারদের কাছে ফুলকপি বিক্রি করছেন ৮ থেকে ১০ টাকা, বাঁধাকপি ৬ থেকে ৮ টাকা এবং শিম ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

 

বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু সবজির দাম বাড়েনি। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

 

অন্যদিকে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠ পর্যায়ে কম দামে কেনা সেই সবজিই খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এক ক্রেতা বলেন, কৃষকেরা কম দামে বিক্রি করলেও আমাদের কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। মাঝখানে কারা লাভ করছে, তা বুঝতে পারছি না। কৃষিখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী, পরিবহন সংকট এবং সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে দামের এই বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মামুনুর রহমান জানান, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষক বাজার চালু, পাইকারি বাজারে নজরদারি বৃদ্ধি এবং কৃষক সমবায় গড়ে তোলা গেলে এই সংকট অনেকটাই নিরসন সম্ভব। বাম্পার ফলনের সুফল কৃষকের ঘরে পৌঁছাতে না পারলে কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা, বিজিবি মোতায়েন

বরিশালে চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত

আপডেট : ০২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

 

বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত বরিশালের সবজি চাষিরা। বরিশালে চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা। শীতের শুরুতেই মাঠ পর্যায়ে কম দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হলেও নগরীর বাজারে সেই সবজিই বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ দামে।

 

জেলার বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, আগৈলঝাড়া ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা পাইকারদের কাছে ফুলকপি বিক্রি করছেন ৮ থেকে ১০ টাকা, বাঁধাকপি ৬ থেকে ৮ টাকা এবং শিম ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

 

বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু সবজির দাম বাড়েনি। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

 

অন্যদিকে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠ পর্যায়ে কম দামে কেনা সেই সবজিই খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এক ক্রেতা বলেন, কৃষকেরা কম দামে বিক্রি করলেও আমাদের কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। মাঝখানে কারা লাভ করছে, তা বুঝতে পারছি না। কৃষিখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী, পরিবহন সংকট এবং সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে দামের এই বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মামুনুর রহমান জানান, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষক বাজার চালু, পাইকারি বাজারে নজরদারি বৃদ্ধি এবং কৃষক সমবায় গড়ে তোলা গেলে এই সংকট অনেকটাই নিরসন সম্ভব। বাম্পার ফলনের সুফল কৃষকের ঘরে পৌঁছাতে না পারলে কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।