ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা, বিজিবি মোতায়েন মিয়ানমারে পাচারের পথে ১৭ লাখ টাকার সার ও কৃষিপণ্য জব্দ, আটক ৬ টেকনাফে র‌্যাব-১৫-এর অভিযানে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার বানারীপাড়ায় দুই জুলাই শহীদ পরিবারের ঘরে তারেক রহমানের উপহার মোরেলগঞ্জে পাটের বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিক ব্যবহার: ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্ব বাঘ দিবস আজ হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার

এম এ গণি ও মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্টের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ১৭ ডিসেম্বর

 

এম এ গণি ও মিসেস মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্টের ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল আগামী বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধা ৬টায় সিলেট মহানগরের ফরচুন গার্ডেন রেস্তোরায় প্রকাশ করা হবে।

 

 

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এই সুপরিচিত বাক্যটি অনেকেই বলে থাকেন কিন্তু এর ভিতরে কি ধরনের কর্ম পরিকল্পনা, শ্রেণি ব্যবস্হাপনা, পৃষ্ঠপোষকতা, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা থাকা আবশ্যিক, তা হয়তো আমরা অনেকে অনুধাবন করতে পারি না।

 

শিক্ষার গুনগত মানের উন্নয়নের ব্রত নিয়ে দক্ষিণ সুরমার কামাল বাজারস্হ ধরগাওঁ গ্রামের এক সম্ভান্ত্র মুসলিম পরিবারের আলোকবর্তিকা মুহাম্মদ মুহিদুর রহমান, উনার মমতাময়ী মা ও বাবার নামে ২০০১ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠা করেন এম এ গণি ও মিসেস মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্ট।

 

যাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় এ মহৎ কার্যক্রমের সূচনা হয় তাঁরা হলেন এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবী ও ক্রীড়া সংগঠক সিরাজ উদ্দিন আহমদ একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক মকব্বির আলী, তাহির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজম আলী ও এনামুল হক বর্তমানে যুক্তরাজ‍্য প্রবাসী সাবেক শিক্ষক কামাল বাজার ফাজিল মাদ্রাসা। আজ অব্দি তাঁরাসহ সংশ্লিষ্ট অন‍্যান‍্য বিশিষ্ট ব‍্যাক্তিবর্গ তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম অব্যাহত রেখেছেন।

 

এম এ গণি ছিলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং মা মনোয়ারা খানম অতি দানশীল, শিক্ষানুরাগী,পরোপকারী একজন মহিয়সী নারী।

 

শুরু থেকে শিক্ষা ট্রাস্টের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ মুহিদুর রহমান। ২০২২ সাল থেকে এ অবধি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন উনার আরেক ভাই এমদাদুর রহমান।

 

শিক্ষা ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার বছর থেকে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে প্রতিযোগীতার সুন্দর পরিবেশ তৈরি করার জন্য স্কুলের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা হয়, দক্ষিণ সুরমা নছিবা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে।সেই সময়ে ভার্থখলা নিবাসী আব্দুর নুর মাস্টার ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সিরাজ উদ্দিন আহমদ অনেক সহযোগিতা করেন। কিছু দিনের মধ্যেই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ৮ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রতিবছর এই পরীক্ষায় গড়ে চার শতাধিক পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় বসে।

 

২০১০ সালে প্রতিষ্ঠাতার মেজো বোন মরহুমা আয়শা খানমের নামে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা শুরু করেন। আজ থেকে ১৫ বছর আগে এ রকম প্লাটফর্ম থেকে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন একটি বিরল ঘটনা। এ প্রতিযোগীতার আয়োজন দেখে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান, ব্যাক্তি হিফজুল কোরআন প্রতিযোগীতার আয়োজন করছেন যা সত্যিই উৎসাহব্যঞ্জক।

 

প্রতিবছর এ হিফজুল কোরআন প্রতিযোগীতায় সিলেট জেলার প্রায় দুই শতাধিক (গড়ে) কোরআনের পাখি অংশগ্রহণ করে।

 

তৎপরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠাতার দাদা দাদীর নামানুসারে, ২০১১ সাল থেকে তাদের নিজ বিদ্যালয় অর্থাৎ তাঁরা ভাইবোনের যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার হাতে খড়ি হয়েছিল, সেই জালালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু করেন আম্বরআলী সফিনাবিবি চতুর্থ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা। এতে প্রতিবছর বিশ্বনাথ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৩০/৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গড়ে ২ শতাধিক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসে।

 

এর কিছুদিন পর এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতির জন‍্য শুরু করা হয় “এম এ গণি ও মনোয়ারা খানম এসএসসি ও দাখিল মডেল টেস্ট “এটা হাজী রাশীদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও তাহির আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর গড়ে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এ মডেল টেষ্টে অংশগ্রহণ করে।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুদান

শিক্ষা ট্রাস্টের জন্ম লগ্ন থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান, আসবাবপত্র, সুপেয় পানির ব্যবস্হা করে আসছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সুরমা নছিবাখাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র
প্রদান।

আব্দুলআহাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে দেড় লক্ষ টাকা ব্যয়ে গভীর নলকূপ স্হাপন।

হাজী রাশীদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী স্হাপনের জন্য ১ লক্ষ টাকা প্রদান।

লজ্জতুননেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭০ হাজার টাকার আসবাবপত্র প্রদান।

তাহির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে দক্ষিণ পাশের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ।

গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান প্রদান।

 

শিক্ষা ট্রাস্টের কর্মপরিকল্পনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্হাপনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০১৮ সালে কামাল বাজারে স্হাপন করা হয়, প্রতিষ্ঠাতাদের মা ও বোনের নামে আয়শা মনোয়ারা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। যা বৃহত্তর কামাল বাজার এলাকায় নারী শিক্ষার একটি সতন্ত ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্টান। ইতোমধ্যে এই মহিলা দাখিল মাদ্রাসা তাদের পড়াশোনা, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্কাউটিং এ বিশেষ অবস্থান অর্জন করেছে।

 

নারী শিক্ষার উন্নয়নে নেপোলিয়ন বেনাপোর্ট এর সেই বিখ্যাত উক্তি “Give me good mothers, and I shall give you a great nation,”এই উক্তির বাস্তব রূপ দিতে ২০২০ সালে এই ট্রাস্টের মাধ্যমে নারীদের জন্য সতন্ত্র বিদ্যানিকেতন “মনোয়ারা গণিমবালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” যা লিডিং ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন অত্যান্ত সুন্দর পরিবেশে দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ সম্পুর্ন বিনা বেতনে পরিচালিত মেয়েদের জন্য এক অনিন্দ্য সুন্দর প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষার উন্নয়নে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।

 

দীর্ঘ ২৫ বছরের পথ পরিক্রমায় এই শিক্ষা ট্রাস্টের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক ভাবে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ভাবে প্রতিষ্ঠিত।

 

শিক্ষা ট্রাস্টের বিভিন্ন কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে যারা ট্রাস্টের এগিয়ে নিতে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, সাবেক সংসদ মরহুম মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, আরিফুল হক চৌধুরী, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, (উল্লেখ্য যে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদাধিকার বলে শিক্ষা ট্রাস্টের উপদেষ্টা) জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুফিয়ান চৌধুরী, লুতফুর রহমান, সাবেক ভিসি কবির চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ, জেলা প্রশাসকবৃন্দ, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথ জেলা শিক্ষা অফিসারবৃন্দ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথ। সিলেট জেলার চারটি উপজেলা যথাক্রমে সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক মন্ডলী, অভিভাবক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

 

যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এ সফল যাত্রা নিশ্চিত হয়েছে, শিক্ষা ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ যথাক্রমে সভাপতি এমদাদুর রহমান এমদাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মকব্বির আলী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ এইচ এম ইসরাঈল আহমদ, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আজম আলী, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, সচিব মোহাম্মদ মাসুক আহমদ, যুগ্মসচিব আবুল কালাম, অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আলম, নির্বাহী সদস্য নাজিম উদ্দীন, সোহেল আহমদ ও আনোয়ার হোসেন।

 

বৃত্তি পরীক্ষার শুরুতে ২০০১ সাল থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন বেলাল আহমদ, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গিয়াসউদ্দিন, সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমেদ, খসরু মিয়া যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অবদান অনস্বীকার্য।

 

ট্রাস্টের সদস‍্য সচিব মোহাম্মদ মাসুক আহমদ বলেন, আমরা অত্যান্ত দুংখ ভারাক্রান্ত মনে জানাচ্ছি যে, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গিয়াসউদ্দিন বেশ কিছু দিন আগে ইন্তেকাল করেছেন। আমরা তাঁর আত্নার মাগফিরাত কামনা করি, মহান আল্লাহ যেন বেহেশত নসীব করেন।

 

তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষা ট্রাস্টের ২৫ বছর অতিবাহিত হওয়া, এটা একটি মাত্র সংখ্যা নয়। এর সাথে যে ত্যাগ, পরিশ্রম, আর্থিক সংশ্লেষ, এতো এতো কর্মযজ্ঞ যারা করেছেন, শুধু তাঁরাই অনুভব করতে পারেন, কতটুকু ঘাম ঝরাতে হয়েছে। আগামীর পথচলায় আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা, পরামর্শ, অনুপ্রেরণা, শিক্ষা ট্রাস্টের পথ চলাকে শানিত করবে ইনশাআল্লাহ।

জনপ্রিয়

হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা, বিজিবি মোতায়েন

এম এ গণি ও মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্টের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ১৭ ডিসেম্বর

আপডেট : ০৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

 

এম এ গণি ও মিসেস মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্টের ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল আগামী বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধা ৬টায় সিলেট মহানগরের ফরচুন গার্ডেন রেস্তোরায় প্রকাশ করা হবে।

 

 

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এই সুপরিচিত বাক্যটি অনেকেই বলে থাকেন কিন্তু এর ভিতরে কি ধরনের কর্ম পরিকল্পনা, শ্রেণি ব্যবস্হাপনা, পৃষ্ঠপোষকতা, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা থাকা আবশ্যিক, তা হয়তো আমরা অনেকে অনুধাবন করতে পারি না।

 

শিক্ষার গুনগত মানের উন্নয়নের ব্রত নিয়ে দক্ষিণ সুরমার কামাল বাজারস্হ ধরগাওঁ গ্রামের এক সম্ভান্ত্র মুসলিম পরিবারের আলোকবর্তিকা মুহাম্মদ মুহিদুর রহমান, উনার মমতাময়ী মা ও বাবার নামে ২০০১ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠা করেন এম এ গণি ও মিসেস মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্ট।

 

যাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় এ মহৎ কার্যক্রমের সূচনা হয় তাঁরা হলেন এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবী ও ক্রীড়া সংগঠক সিরাজ উদ্দিন আহমদ একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক মকব্বির আলী, তাহির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজম আলী ও এনামুল হক বর্তমানে যুক্তরাজ‍্য প্রবাসী সাবেক শিক্ষক কামাল বাজার ফাজিল মাদ্রাসা। আজ অব্দি তাঁরাসহ সংশ্লিষ্ট অন‍্যান‍্য বিশিষ্ট ব‍্যাক্তিবর্গ তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম অব্যাহত রেখেছেন।

 

এম এ গণি ছিলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং মা মনোয়ারা খানম অতি দানশীল, শিক্ষানুরাগী,পরোপকারী একজন মহিয়সী নারী।

 

শুরু থেকে শিক্ষা ট্রাস্টের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ মুহিদুর রহমান। ২০২২ সাল থেকে এ অবধি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন উনার আরেক ভাই এমদাদুর রহমান।

 

শিক্ষা ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার বছর থেকে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে প্রতিযোগীতার সুন্দর পরিবেশ তৈরি করার জন্য স্কুলের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা হয়, দক্ষিণ সুরমা নছিবা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে।সেই সময়ে ভার্থখলা নিবাসী আব্দুর নুর মাস্টার ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সিরাজ উদ্দিন আহমদ অনেক সহযোগিতা করেন। কিছু দিনের মধ্যেই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ৮ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রতিবছর এই পরীক্ষায় গড়ে চার শতাধিক পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় বসে।

 

২০১০ সালে প্রতিষ্ঠাতার মেজো বোন মরহুমা আয়শা খানমের নামে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা শুরু করেন। আজ থেকে ১৫ বছর আগে এ রকম প্লাটফর্ম থেকে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন একটি বিরল ঘটনা। এ প্রতিযোগীতার আয়োজন দেখে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান, ব্যাক্তি হিফজুল কোরআন প্রতিযোগীতার আয়োজন করছেন যা সত্যিই উৎসাহব্যঞ্জক।

 

প্রতিবছর এ হিফজুল কোরআন প্রতিযোগীতায় সিলেট জেলার প্রায় দুই শতাধিক (গড়ে) কোরআনের পাখি অংশগ্রহণ করে।

 

তৎপরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠাতার দাদা দাদীর নামানুসারে, ২০১১ সাল থেকে তাদের নিজ বিদ্যালয় অর্থাৎ তাঁরা ভাইবোনের যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার হাতে খড়ি হয়েছিল, সেই জালালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু করেন আম্বরআলী সফিনাবিবি চতুর্থ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা। এতে প্রতিবছর বিশ্বনাথ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৩০/৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গড়ে ২ শতাধিক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসে।

 

এর কিছুদিন পর এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতির জন‍্য শুরু করা হয় “এম এ গণি ও মনোয়ারা খানম এসএসসি ও দাখিল মডেল টেস্ট “এটা হাজী রাশীদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও তাহির আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর গড়ে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এ মডেল টেষ্টে অংশগ্রহণ করে।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুদান

শিক্ষা ট্রাস্টের জন্ম লগ্ন থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান, আসবাবপত্র, সুপেয় পানির ব্যবস্হা করে আসছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সুরমা নছিবাখাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র
প্রদান।

আব্দুলআহাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে দেড় লক্ষ টাকা ব্যয়ে গভীর নলকূপ স্হাপন।

হাজী রাশীদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী স্হাপনের জন্য ১ লক্ষ টাকা প্রদান।

লজ্জতুননেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭০ হাজার টাকার আসবাবপত্র প্রদান।

তাহির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে দক্ষিণ পাশের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ।

গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান প্রদান।

 

শিক্ষা ট্রাস্টের কর্মপরিকল্পনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্হাপনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০১৮ সালে কামাল বাজারে স্হাপন করা হয়, প্রতিষ্ঠাতাদের মা ও বোনের নামে আয়শা মনোয়ারা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। যা বৃহত্তর কামাল বাজার এলাকায় নারী শিক্ষার একটি সতন্ত ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্টান। ইতোমধ্যে এই মহিলা দাখিল মাদ্রাসা তাদের পড়াশোনা, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্কাউটিং এ বিশেষ অবস্থান অর্জন করেছে।

 

নারী শিক্ষার উন্নয়নে নেপোলিয়ন বেনাপোর্ট এর সেই বিখ্যাত উক্তি “Give me good mothers, and I shall give you a great nation,”এই উক্তির বাস্তব রূপ দিতে ২০২০ সালে এই ট্রাস্টের মাধ্যমে নারীদের জন্য সতন্ত্র বিদ্যানিকেতন “মনোয়ারা গণিমবালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” যা লিডিং ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন অত্যান্ত সুন্দর পরিবেশে দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ সম্পুর্ন বিনা বেতনে পরিচালিত মেয়েদের জন্য এক অনিন্দ্য সুন্দর প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষার উন্নয়নে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।

 

দীর্ঘ ২৫ বছরের পথ পরিক্রমায় এই শিক্ষা ট্রাস্টের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক ভাবে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ভাবে প্রতিষ্ঠিত।

 

শিক্ষা ট্রাস্টের বিভিন্ন কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে যারা ট্রাস্টের এগিয়ে নিতে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, সাবেক সংসদ মরহুম মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, আরিফুল হক চৌধুরী, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, (উল্লেখ্য যে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদাধিকার বলে শিক্ষা ট্রাস্টের উপদেষ্টা) জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুফিয়ান চৌধুরী, লুতফুর রহমান, সাবেক ভিসি কবির চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ, জেলা প্রশাসকবৃন্দ, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথ জেলা শিক্ষা অফিসারবৃন্দ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথ। সিলেট জেলার চারটি উপজেলা যথাক্রমে সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক মন্ডলী, অভিভাবক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

 

যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এ সফল যাত্রা নিশ্চিত হয়েছে, শিক্ষা ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ যথাক্রমে সভাপতি এমদাদুর রহমান এমদাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মকব্বির আলী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ এইচ এম ইসরাঈল আহমদ, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আজম আলী, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, সচিব মোহাম্মদ মাসুক আহমদ, যুগ্মসচিব আবুল কালাম, অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আলম, নির্বাহী সদস্য নাজিম উদ্দীন, সোহেল আহমদ ও আনোয়ার হোসেন।

 

বৃত্তি পরীক্ষার শুরুতে ২০০১ সাল থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন বেলাল আহমদ, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গিয়াসউদ্দিন, সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমেদ, খসরু মিয়া যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অবদান অনস্বীকার্য।

 

ট্রাস্টের সদস‍্য সচিব মোহাম্মদ মাসুক আহমদ বলেন, আমরা অত্যান্ত দুংখ ভারাক্রান্ত মনে জানাচ্ছি যে, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গিয়াসউদ্দিন বেশ কিছু দিন আগে ইন্তেকাল করেছেন। আমরা তাঁর আত্নার মাগফিরাত কামনা করি, মহান আল্লাহ যেন বেহেশত নসীব করেন।

 

তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষা ট্রাস্টের ২৫ বছর অতিবাহিত হওয়া, এটা একটি মাত্র সংখ্যা নয়। এর সাথে যে ত্যাগ, পরিশ্রম, আর্থিক সংশ্লেষ, এতো এতো কর্মযজ্ঞ যারা করেছেন, শুধু তাঁরাই অনুভব করতে পারেন, কতটুকু ঘাম ঝরাতে হয়েছে। আগামীর পথচলায় আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা, পরামর্শ, অনুপ্রেরণা, শিক্ষা ট্রাস্টের পথ চলাকে শানিত করবে ইনশাআল্লাহ।