ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আব্দুর রহমান খানের দাফন সম্পন্ন মোরেলগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু: আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তদন্তে পুলিশ টাঙ্গাইলে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন বাগেরহাটে সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন গোপালগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে নিহত ২ গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ওসি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে পিরোজপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জলঢাকায় খালি শ্যাম্পুর প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫; মানববন্ধন ও বিক্ষোভ স্পীকারের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত
স্বজনদের দাবি—নির্যাতন করে হত্যা; স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে

মোরেলগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু: আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তদন্তে পুলিশ

 

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে রুমানা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও নির্যাতনের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গোদাড়া গ্রামের জয়নাল খানের ছেলে ভ্যানচালক রহমান খানের সঙ্গে জিউধরা ইউনিয়নের সোমাদ্দারখালী গ্রামের ইউনুছ হাওলাদারের মেয়ে রুমানা বেগমের প্রায় ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে রুমানাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও পারিবারিক বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

 

স্বজনদের ভাষ্য, বুধবার সকালে রুমানা গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে তার স্বামী পরিবারের লোকজনকে জানান। পরে তাকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। এ সময় স্বজনদের কান্নায় হাসপাতাল এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

নিহতের বাবা ইউনুছ হাওলাদার, বড় ভাইয়ের স্ত্রী রাবেয়া বেগম, ছোট বোন রাবেয়া আক্তার ও ইয়াসিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই রুমানার ওপর নির্যাতন করা হতো। একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। আমাদের ধারণা, তাকে গলাটিপে ও মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

 

নিহত রুমানা বেগমের ৪ বছরের ছেলে রায়হান ও ১৩ বছরের মেয়ে হালিমা ইয়াসমিন রুকাইয়া রয়েছে।

 

মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়া হক বলেন, “রুমানাকে মৃত অবস্থায় তার স্বামীসহ আরও দুজন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।”

 

মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ বলেন, “গোদাড়া গ্রামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রহমান খানকে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।”

 

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আব্দুর রহমান খানের দাফন সম্পন্ন

স্বজনদের দাবি—নির্যাতন করে হত্যা; স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে

মোরেলগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু: আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তদন্তে পুলিশ

আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে

 

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে রুমানা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও নির্যাতনের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গোদাড়া গ্রামের জয়নাল খানের ছেলে ভ্যানচালক রহমান খানের সঙ্গে জিউধরা ইউনিয়নের সোমাদ্দারখালী গ্রামের ইউনুছ হাওলাদারের মেয়ে রুমানা বেগমের প্রায় ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে রুমানাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও পারিবারিক বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

 

স্বজনদের ভাষ্য, বুধবার সকালে রুমানা গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে তার স্বামী পরিবারের লোকজনকে জানান। পরে তাকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। এ সময় স্বজনদের কান্নায় হাসপাতাল এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

নিহতের বাবা ইউনুছ হাওলাদার, বড় ভাইয়ের স্ত্রী রাবেয়া বেগম, ছোট বোন রাবেয়া আক্তার ও ইয়াসিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই রুমানার ওপর নির্যাতন করা হতো। একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। আমাদের ধারণা, তাকে গলাটিপে ও মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

 

নিহত রুমানা বেগমের ৪ বছরের ছেলে রায়হান ও ১৩ বছরের মেয়ে হালিমা ইয়াসমিন রুকাইয়া রয়েছে।

 

মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়া হক বলেন, “রুমানাকে মৃত অবস্থায় তার স্বামীসহ আরও দুজন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।”

 

মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ বলেন, “গোদাড়া গ্রামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রহমান খানকে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।”

 

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।