ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
গাড়ির ধোঁয়া ও নির্মাণের ধুলায় বিষাক্ত হচ্ছে ঢাকার বাতাস প্রদীপের আলোয় দূর হবে অন্ধকার, মা কালীর আরাধনায় জাগবে শুভশক্তি টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গোপন আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল যৌথ বাহিনী শীতের আমেজে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকদের ডাকছে কুইন আইল্যান্ড ভোলা মোরেলগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ রাজধানীতে এক রাতে ৮ ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন বাগেরহাটে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭ প্রবাসীর মৃত্যু ​

শীতের আমেজে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকদের ডাকছে কুইন আইল্যান্ড ভোলা

 

নদীর বুক চিরে ভেসে আসা শীতল বাতাস, জেলেদের জালে ধরা রুপালি ইলিশের ঝিলিক আর দিগন্ত জোড়া সবুজ চর যেন স্বাগত জানায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দ্বীপ ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ বা বাংলাদেশের দ্বীপের রানী খ্যাত ভোলা জেলা। এখানে প্রতিটি নদী বলে ইতিহাসের গল্প, প্রতিটি জনপদ ধারণ করে শত বছরের ঐতিহ্য, আর প্রকৃতির প্রতিটি রূপ মুগ্ধ করে ভ্রমণপিপাসু মানুষকে।

 

ভোলা শুধু একটি ভ্রমণ গন্তব্য নয়; এটি প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনার এক অনন্য মিলনভূমি। হায়দার আলী জমিদার বাড়ির প্রাচীন স্থাপত্য, পাঁচশ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক মসজিদ, দ্বিতীয় সুন্দরবনখ্যাত চর কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ বন, চরাঞ্চলের বিখ্যাত মহিষের দই, শাহবাজপুরের গ্যাসক্ষেত্র এবং আকাশছোঁয়া জ্যাকব টাওয়ার সব মিলিয়ে ভোলা যেন এক বিস্ময়ের নাম। যারা প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করতে চান, ইতিহাসের পাতায় হাঁটতে চান কিংবা নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রকৃত রূপ দেখতে চান, পূজার লম্বা ছুটিতে ঘুরে আসার জন্য একটি চমৎকার ও ব্যতিক্রমী গন্তব্য। কুইন আইল্যান্ড আপনাকে দেবে কোলাহলমুক্ত অবিস্মরণীয় এক দারুণ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।

 

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা কুইন আইল্যান্ড খ্যাত দেশের সর্ববৃহৎ দ্বীপ জেলা ভোলা। প্রায় ৩,৪০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলার একদিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, উর্বর কৃষিজমি, ম্যানগ্রোভ বন, নদীবন্দর ও সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ।

 

প্রকৃতি যেন তার সমস্ত সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়েছে কুইন আইল্যান্ডকে। সূর্যোদয়ের লাল আভা, নদীর ঢেউ, চরাঞ্চলের সবুজ, শীতের অতিথি পাখি এবং বর্ষার রূপ কুইন আইল্যান্ডকে করে তুলেছে এক অনন্য ভূখন্ডে।
ভোলা(কুইন আইল্যান্ড) শুধু একটি জেলা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, পর্যটন ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জ্যাকব টাওয়ার যা দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্থাপনা। আইফেল টাওয়ারের আদলে নির্মিত ১৬ তলা বিশিষ্ট এই ওয়াচ টাওয়ারের প্রতিটি তলায় ৫০ জন ও পুরো টাওয়ারে ৫০০ জন দর্শক অবস্থান করতে পারবেন। প্রায় ২২৫ ফুট (প্রায় ৬৮.৫ মিটার) উচ্চতার এই টাওয়ারটি বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের সবচেয়ে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার গুলোর মধ্যে একটি।বাংলাদেশের অন্যতম উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার হিসেবে পরিচিত। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত টাওয়ারটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং ভোলার পর্যটনের নতুন পরিচয় এবং দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের প্রতীক।

 

জ্যাকব টাওয়ারের শীর্ষে উঠে চারদিকে তাকালে চোখে পড়ে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য। একদিকে বিস্তীর্ণ মেঘনা নদী, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি, সবুজ চরাঞ্চল, কেওড়া বেষ্টিত বনভূমি এবং দূরে চর কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ বন সব মিলিয়ে এক মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক ক্যানভাস। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এই দৃশ্য আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। আকাশ, নদী ও সবুজের মিলনে তৈরি হওয়া এই সৌন্দর্য পর্যটকদের মনে দীর্ঘদিনের স্মৃতি হয়ে থাকে। টাওয়ারটিতে পর্যটকদের জন্য আধুনিক লিফট, নিরাপদ পর্যবেক্ষণ ডেক এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা রয়েছে। সারা বছরই দেশ-বিদেশের পর্যটক, আলোকচিত্রী, শিক্ষার্থী এবং প্রকৃতিপ্রেমীরা এখানে ভিড় করেন। বিশেষ করে শীত মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

 

জ্যাকব টাওয়ারকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে হোটেল, রেস্তেরাঁ, পরিবহন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসারও বিকাশ ঘটেছে, যা এলাকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জ্যাকব টাওয়ারের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র পরিবেশ বান্ধব খাসমহল মসজিদ ও চোখ জুড়ানো ফ্যাসন স্কয়ার।এখান থেকে খুব সহজেই ভ্রমণ করা যায় চর কুকরি-মুকরি, তাড়ুয়া সমুদ্র সৈকত, উপকূলীয় চরাঞ্চল এবং মেঘনা মোহনার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। ফলে এটি দক্ষিণ ভোলার পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।

 

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে অবস্থিত চর কুকরি-মুকরি, যা বাংলাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ উপকূলীয় ম্যানগ্রোাভ বনাঞ্চল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র এবং পরিবেশগত গুরুত্বের কারণে একে অনেকেই “বাংলাদেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন” নামে অভিহিত করেন। প্রায় ৮ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বন উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কুকরি-মুকরি শুধু একটি বন নয়, এটি অসংখ্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। এখানে চিত্রা হরিণ, বানর, শিয়াল, উদবিড়াল, কচ্ছপ, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, সামুদ্রিক প্রাণী এবং শীত মৌসুমে দেশি-বিদেশি শতাধিক প্রজাতির অতিথি পাখির বিচরণ দেখা যায়। বনসংলগ্ন নদী ও মোহনায় মাঝেমধ্যে ডলফিনও চোখে পড়ে, যা এই এলাকার জীববৈচিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে কুকরি-মুকরির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য। সূর্যোদয়ের কোমল আলো যখন ম্যানগ্রোভ বনের ওপর ছড়িয়ে পড়ে কিংবা সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের লাল আভা নদী ও সাগরের জলে প্রতিফলিত হয়, তখন সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। বনভ্রমণ, নৌবিহার, পাখি দেখা এবং প্রকৃতি আলোকচিত্রের জন্য এটি একটি আদর্শ গন্তব্য। প্রকৃতি, জীববৈচিত্র, নদী, বন ও সাগরের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা চর কুকরি-মুকরি শুধু ভোলার নয়, বাংলাদেশেরও এক অমূল্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা ভোলার তাড়ুয়া চর প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান।

 

বিস্তীর্ণ সাদা বালুর সৈকত, সবুজ ম্যানগ্রোভ বন, সারি সারি কেওড়াগাছ আর লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি মুগ্ধ করে প্রকৃতি প্রেমীদের। তাড়ুয়া সৈকতের সাদা বালুর ওপর ছোট ছোট পায়ে ছুটে বেড়ায় লাল কাঁকড়ার দল। মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই মুহূর্তে গর্তে লুকিয়ে পড়ে তারা। সমুদ্রের ঢেউ, নোনা বাতাস আর দিগন্ত জোড়া জলরাশি সৈকতের সৌন্দর্যকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। বনের ভেতর দিয়ে সরু পথ ধরে হাঁটলে দেখা মেলে সবুজের সমারোহ। এখানে শিয়াল, বনবিড়াল, হরিণসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী ও নানা প্রজাতির পাখির বিচরণ রয়েছে।

জনপ্রিয়

গাড়ির ধোঁয়া ও নির্মাণের ধুলায় বিষাক্ত হচ্ছে ঢাকার বাতাস

শীতের আমেজে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকদের ডাকছে কুইন আইল্যান্ড ভোলা

আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে

 

নদীর বুক চিরে ভেসে আসা শীতল বাতাস, জেলেদের জালে ধরা রুপালি ইলিশের ঝিলিক আর দিগন্ত জোড়া সবুজ চর যেন স্বাগত জানায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দ্বীপ ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ বা বাংলাদেশের দ্বীপের রানী খ্যাত ভোলা জেলা। এখানে প্রতিটি নদী বলে ইতিহাসের গল্প, প্রতিটি জনপদ ধারণ করে শত বছরের ঐতিহ্য, আর প্রকৃতির প্রতিটি রূপ মুগ্ধ করে ভ্রমণপিপাসু মানুষকে।

 

ভোলা শুধু একটি ভ্রমণ গন্তব্য নয়; এটি প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনার এক অনন্য মিলনভূমি। হায়দার আলী জমিদার বাড়ির প্রাচীন স্থাপত্য, পাঁচশ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক মসজিদ, দ্বিতীয় সুন্দরবনখ্যাত চর কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ বন, চরাঞ্চলের বিখ্যাত মহিষের দই, শাহবাজপুরের গ্যাসক্ষেত্র এবং আকাশছোঁয়া জ্যাকব টাওয়ার সব মিলিয়ে ভোলা যেন এক বিস্ময়ের নাম। যারা প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করতে চান, ইতিহাসের পাতায় হাঁটতে চান কিংবা নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রকৃত রূপ দেখতে চান, পূজার লম্বা ছুটিতে ঘুরে আসার জন্য একটি চমৎকার ও ব্যতিক্রমী গন্তব্য। কুইন আইল্যান্ড আপনাকে দেবে কোলাহলমুক্ত অবিস্মরণীয় এক দারুণ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।

 

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা কুইন আইল্যান্ড খ্যাত দেশের সর্ববৃহৎ দ্বীপ জেলা ভোলা। প্রায় ৩,৪০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলার একদিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, উর্বর কৃষিজমি, ম্যানগ্রোভ বন, নদীবন্দর ও সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ।

 

প্রকৃতি যেন তার সমস্ত সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়েছে কুইন আইল্যান্ডকে। সূর্যোদয়ের লাল আভা, নদীর ঢেউ, চরাঞ্চলের সবুজ, শীতের অতিথি পাখি এবং বর্ষার রূপ কুইন আইল্যান্ডকে করে তুলেছে এক অনন্য ভূখন্ডে।
ভোলা(কুইন আইল্যান্ড) শুধু একটি জেলা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, পর্যটন ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জ্যাকব টাওয়ার যা দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্থাপনা। আইফেল টাওয়ারের আদলে নির্মিত ১৬ তলা বিশিষ্ট এই ওয়াচ টাওয়ারের প্রতিটি তলায় ৫০ জন ও পুরো টাওয়ারে ৫০০ জন দর্শক অবস্থান করতে পারবেন। প্রায় ২২৫ ফুট (প্রায় ৬৮.৫ মিটার) উচ্চতার এই টাওয়ারটি বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের সবচেয়ে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার গুলোর মধ্যে একটি।বাংলাদেশের অন্যতম উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার হিসেবে পরিচিত। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত টাওয়ারটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং ভোলার পর্যটনের নতুন পরিচয় এবং দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের প্রতীক।

 

জ্যাকব টাওয়ারের শীর্ষে উঠে চারদিকে তাকালে চোখে পড়ে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য। একদিকে বিস্তীর্ণ মেঘনা নদী, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি, সবুজ চরাঞ্চল, কেওড়া বেষ্টিত বনভূমি এবং দূরে চর কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ বন সব মিলিয়ে এক মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক ক্যানভাস। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এই দৃশ্য আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। আকাশ, নদী ও সবুজের মিলনে তৈরি হওয়া এই সৌন্দর্য পর্যটকদের মনে দীর্ঘদিনের স্মৃতি হয়ে থাকে। টাওয়ারটিতে পর্যটকদের জন্য আধুনিক লিফট, নিরাপদ পর্যবেক্ষণ ডেক এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা রয়েছে। সারা বছরই দেশ-বিদেশের পর্যটক, আলোকচিত্রী, শিক্ষার্থী এবং প্রকৃতিপ্রেমীরা এখানে ভিড় করেন। বিশেষ করে শীত মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

 

জ্যাকব টাওয়ারকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে হোটেল, রেস্তেরাঁ, পরিবহন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসারও বিকাশ ঘটেছে, যা এলাকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জ্যাকব টাওয়ারের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র পরিবেশ বান্ধব খাসমহল মসজিদ ও চোখ জুড়ানো ফ্যাসন স্কয়ার।এখান থেকে খুব সহজেই ভ্রমণ করা যায় চর কুকরি-মুকরি, তাড়ুয়া সমুদ্র সৈকত, উপকূলীয় চরাঞ্চল এবং মেঘনা মোহনার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। ফলে এটি দক্ষিণ ভোলার পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।

 

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে অবস্থিত চর কুকরি-মুকরি, যা বাংলাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ উপকূলীয় ম্যানগ্রোাভ বনাঞ্চল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র এবং পরিবেশগত গুরুত্বের কারণে একে অনেকেই “বাংলাদেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন” নামে অভিহিত করেন। প্রায় ৮ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বন উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কুকরি-মুকরি শুধু একটি বন নয়, এটি অসংখ্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। এখানে চিত্রা হরিণ, বানর, শিয়াল, উদবিড়াল, কচ্ছপ, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, সামুদ্রিক প্রাণী এবং শীত মৌসুমে দেশি-বিদেশি শতাধিক প্রজাতির অতিথি পাখির বিচরণ দেখা যায়। বনসংলগ্ন নদী ও মোহনায় মাঝেমধ্যে ডলফিনও চোখে পড়ে, যা এই এলাকার জীববৈচিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে কুকরি-মুকরির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য। সূর্যোদয়ের কোমল আলো যখন ম্যানগ্রোভ বনের ওপর ছড়িয়ে পড়ে কিংবা সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের লাল আভা নদী ও সাগরের জলে প্রতিফলিত হয়, তখন সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। বনভ্রমণ, নৌবিহার, পাখি দেখা এবং প্রকৃতি আলোকচিত্রের জন্য এটি একটি আদর্শ গন্তব্য। প্রকৃতি, জীববৈচিত্র, নদী, বন ও সাগরের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা চর কুকরি-মুকরি শুধু ভোলার নয়, বাংলাদেশেরও এক অমূল্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা ভোলার তাড়ুয়া চর প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান।

 

বিস্তীর্ণ সাদা বালুর সৈকত, সবুজ ম্যানগ্রোভ বন, সারি সারি কেওড়াগাছ আর লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি মুগ্ধ করে প্রকৃতি প্রেমীদের। তাড়ুয়া সৈকতের সাদা বালুর ওপর ছোট ছোট পায়ে ছুটে বেড়ায় লাল কাঁকড়ার দল। মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই মুহূর্তে গর্তে লুকিয়ে পড়ে তারা। সমুদ্রের ঢেউ, নোনা বাতাস আর দিগন্ত জোড়া জলরাশি সৈকতের সৌন্দর্যকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। বনের ভেতর দিয়ে সরু পথ ধরে হাঁটলে দেখা মেলে সবুজের সমারোহ। এখানে শিয়াল, বনবিড়াল, হরিণসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী ও নানা প্রজাতির পাখির বিচরণ রয়েছে।