ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
গাড়ির ধোঁয়া ও নির্মাণের ধুলায় বিষাক্ত হচ্ছে ঢাকার বাতাস প্রদীপের আলোয় দূর হবে অন্ধকার, মা কালীর আরাধনায় জাগবে শুভশক্তি টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গোপন আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল যৌথ বাহিনী শীতের আমেজে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকদের ডাকছে কুইন আইল্যান্ড ভোলা মোরেলগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ রাজধানীতে এক রাতে ৮ ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন বাগেরহাটে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭ প্রবাসীর মৃত্যু ​

প্রদীপের আলোয় দূর হবে অন্ধকার, মা কালীর আরাধনায় জাগবে শুভশক্তি

 

আলো ও অন্ধকারের চিরন্তন লড়াইয়ে আলোর বিজয়ের বার্তা নিয়ে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্যামা পূজা ও দীপাবলি। আজ ৮ নভেম্বর, রবিবার কার্তিক অমাবস্যায় দেবী কালীর আরাধনা ও দীপাবলি উদ্‌যাপনে মুখর হয়ে উঠবে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও সনাতনী জনপদ।

 

দেবী কালী শক্তি, সাহস ও অশুভ বিনাশের প্রতীক। শাক্ত উপাসনায় তিনি জগজ্জননী, মহাকালী ও মহামায়া। তাঁর আরাধনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা জীবনের ভয়, সংকট ও অকল্যাণ থেকে মুক্তি এবং পরিবার ও সমাজের মঙ্গল কামনা করেন।

 

পুরাণে দেবীর অসুরবিনাশী রূপের বর্ণনা রয়েছে। দেবী মাহাত্ম্যে চণ্ড-মুণ্ড ও রক্তবীজ বিনাশের কাহিনি দেবীশক্তির মহিমাকে তুলে ধরে। দেবীর হাতে খড়্গ অন্যায় ও অজ্ঞানতার বিনাশের প্রতীক, আর অভয়মুদ্রা ভক্তের মনে সাহস ও আশ্রয়ের অনুভূতি জাগায়।

 

কার্তিক অমাবস্যার মহানিশায় শাক্ত রীতি অনুযায়ী দেবীর পূজা করা হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় থাকে মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পাঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও আরতি। অনেক মন্দিরে রাতভর চলে ভজন-কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীত। ভক্তরা জবা ফুল, ফলমূল ও মিষ্টি নিবেদন করে মায়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

 

শ্যামা পূজার সঙ্গে একই সময়ে পালিত হয় দীপাবলি। প্রদীপের সারি দিয়ে ঘরবাড়ি, মন্দির ও পূজামণ্ডপ সাজিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের আনন্দ প্রকাশ পায়। উপনিষদের ‘তমসো মা জ্যোতির্গময়’ বাণী দীপাবলির আধ্যাত্মিক ভিত্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এর অর্থ—অন্ধকার থেকে আলোতে উত্তরণ।

 

দীপাবলি শুধু আলোকসজ্জার উৎসব নয়; এটি মানুষের অন্তরে জ্ঞান, বিবেক, সত্য ও শুভবোধ জাগিয়ে তোলার প্রতীক। ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই উৎসবের সঙ্গে লক্ষ্মীপূজা, শ্রীরামের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনসহ নানা ধর্মীয় ঐতিহ্য যুক্ত রয়েছে। বাংলায় কার্তিক অমাবস্যার অন্যতম প্রধান আয়োজন শ্যামা পূজা।

 

জলঢাকায় বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও পূজামণ্ডপে এ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার পাশাপাশি পূজা, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। পরিবার-পরিজনের মিলন এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।

 

ধর্মীয় এই উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করারও সুযোগ সৃষ্টি করে। হিংসা, বিদ্বেষ ও অন্যায় দূর করে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়াই হোক এবারের দীপাবলির প্রত্যয়। একই সঙ্গে শব্দ ও বায়ুদূষণ এড়িয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উৎসব পালনের আহ্বান রয়েছে।

 

মায়ের কাছে ভক্তদের প্রার্থনা—অশুভের বিনাশ হোক, শুভশক্তির জয় হোক, মানুষের জীবনে ফিরে আসুক শান্তি ও সমৃদ্ধি। প্রদীপের প্রতিটি শিখা ছড়িয়ে দিক ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মানবতার আলো।

জনপ্রিয়

গাড়ির ধোঁয়া ও নির্মাণের ধুলায় বিষাক্ত হচ্ছে ঢাকার বাতাস

প্রদীপের আলোয় দূর হবে অন্ধকার, মা কালীর আরাধনায় জাগবে শুভশক্তি

আপডেট : ৪৯ মিনিট আগে

 

আলো ও অন্ধকারের চিরন্তন লড়াইয়ে আলোর বিজয়ের বার্তা নিয়ে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্যামা পূজা ও দীপাবলি। আজ ৮ নভেম্বর, রবিবার কার্তিক অমাবস্যায় দেবী কালীর আরাধনা ও দীপাবলি উদ্‌যাপনে মুখর হয়ে উঠবে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও সনাতনী জনপদ।

 

দেবী কালী শক্তি, সাহস ও অশুভ বিনাশের প্রতীক। শাক্ত উপাসনায় তিনি জগজ্জননী, মহাকালী ও মহামায়া। তাঁর আরাধনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা জীবনের ভয়, সংকট ও অকল্যাণ থেকে মুক্তি এবং পরিবার ও সমাজের মঙ্গল কামনা করেন।

 

পুরাণে দেবীর অসুরবিনাশী রূপের বর্ণনা রয়েছে। দেবী মাহাত্ম্যে চণ্ড-মুণ্ড ও রক্তবীজ বিনাশের কাহিনি দেবীশক্তির মহিমাকে তুলে ধরে। দেবীর হাতে খড়্গ অন্যায় ও অজ্ঞানতার বিনাশের প্রতীক, আর অভয়মুদ্রা ভক্তের মনে সাহস ও আশ্রয়ের অনুভূতি জাগায়।

 

কার্তিক অমাবস্যার মহানিশায় শাক্ত রীতি অনুযায়ী দেবীর পূজা করা হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় থাকে মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পাঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও আরতি। অনেক মন্দিরে রাতভর চলে ভজন-কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীত। ভক্তরা জবা ফুল, ফলমূল ও মিষ্টি নিবেদন করে মায়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

 

শ্যামা পূজার সঙ্গে একই সময়ে পালিত হয় দীপাবলি। প্রদীপের সারি দিয়ে ঘরবাড়ি, মন্দির ও পূজামণ্ডপ সাজিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের আনন্দ প্রকাশ পায়। উপনিষদের ‘তমসো মা জ্যোতির্গময়’ বাণী দীপাবলির আধ্যাত্মিক ভিত্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এর অর্থ—অন্ধকার থেকে আলোতে উত্তরণ।

 

দীপাবলি শুধু আলোকসজ্জার উৎসব নয়; এটি মানুষের অন্তরে জ্ঞান, বিবেক, সত্য ও শুভবোধ জাগিয়ে তোলার প্রতীক। ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই উৎসবের সঙ্গে লক্ষ্মীপূজা, শ্রীরামের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনসহ নানা ধর্মীয় ঐতিহ্য যুক্ত রয়েছে। বাংলায় কার্তিক অমাবস্যার অন্যতম প্রধান আয়োজন শ্যামা পূজা।

 

জলঢাকায় বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও পূজামণ্ডপে এ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার পাশাপাশি পূজা, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। পরিবার-পরিজনের মিলন এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।

 

ধর্মীয় এই উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করারও সুযোগ সৃষ্টি করে। হিংসা, বিদ্বেষ ও অন্যায় দূর করে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়াই হোক এবারের দীপাবলির প্রত্যয়। একই সঙ্গে শব্দ ও বায়ুদূষণ এড়িয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উৎসব পালনের আহ্বান রয়েছে।

 

মায়ের কাছে ভক্তদের প্রার্থনা—অশুভের বিনাশ হোক, শুভশক্তির জয় হোক, মানুষের জীবনে ফিরে আসুক শান্তি ও সমৃদ্ধি। প্রদীপের প্রতিটি শিখা ছড়িয়ে দিক ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মানবতার আলো।