ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
শীতের আমেজে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকদের ডাকছে কুইন আইল্যান্ড ভোলা মোরেলগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ রাজধানীতে এক রাতে ৮ ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন বাগেরহাটে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭ প্রবাসীর মৃত্যু ​ বাগেরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত ​ পিরোজপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ ঝালকাঠিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

টেকনাফে ৭০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই ভাই গ্রেপ্তার: প্রকৃত মালিক মাহবুব এখনো অধরা ​

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলার মগপাড়ায় পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ দুই ভাই গ্রেপ্তার হলেও চালানের মূল মালিক মাহবুব ওরফে মাহাবু এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। এই ইয়াবা গডফাদার নিজেকে বাঁচাতে বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ইয়াবা ডিলার মাহাবু সওদাগরকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

​

গত ১৮ আগস্ট টেকনাফ থানা-পুলিশের একটি টিম হ্নীলার মগপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলী (৩২) ও মোহাম্মদ আমিন (২৯) নামের দুই ভাইকে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা এবং নগদ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে। এলাকাবাসী জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা নিতান্তই সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং দিনে এনে দিনে খাওয়া দিনমজুর।

​

পুলিশের হাতে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানের প্রকৃত মালিক হ্নীলা পূর্ব সিকদারপাড়া এলাকার মৃত মৌলভী ইসহাকের ছেলে ইয়াবা ডিলার মাহবুবুর রহমান ওরফে মাহাবু। টেকনাফজুড়ে চালানের মূল মালিক হিসেবে তাঁর নাম উচ্চারিত হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত মুহাম্মদ আমিন দীর্ঘদিন ধরে মাহাবুর দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন। মুহাম্মদ আমিন ও তাঁর ভাই মুহাম্মদ আলীকে দিয়েই মাহাবু মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান এনে বাজারজাত করেন। এর আগেও মাহাবু সওদাগরের ৫০ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালান উদ্ধার করেছিল প্রশাসন। কর্মচারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এভাবে ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

​

জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে ১৫ কার্ড বা দেড় লাখ পিস ইয়াবার একটি চালান আসে। এর মধ্যে পুলিশ ৭০ হাজার পিস উদ্ধার করতে পারলেও বাকি ৮০ হাজার পিস ইয়াবা কৌশলে সরিয়ে ফেলেন মাহবুব। গ্রেপ্তারকৃতদের পরিবারের সদস্যরা ভয়ে মুখ না খুললেও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে মূল সত্য প্রকাশ করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনায় আমিন ও তাঁর ভাইকে রিমান্ডে নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুরো রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

​

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “ইয়াবার মালিক সাংবাদিকেরা।” পরবর্তীতে তিনি সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি সমঝোতার প্রস্তাব পাঠান।

​

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ইয়াবার প্রকৃত মালিক কে, তা তদন্তে অবশ্যই বেরিয়ে আসবে। মাদক ব্যবসায়ী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।” তিনি আরও জানান, আটক দুই ভাইকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে চালানের মূল মালিকের পরিচয় পুরোপুরি উন্মোচিত হবে।

জনপ্রিয়

শীতের আমেজে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকদের ডাকছে কুইন আইল্যান্ড ভোলা

টেকনাফে ৭০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই ভাই গ্রেপ্তার: প্রকৃত মালিক মাহবুব এখনো অধরা ​

আপডেট : ০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলার মগপাড়ায় পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ দুই ভাই গ্রেপ্তার হলেও চালানের মূল মালিক মাহবুব ওরফে মাহাবু এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। এই ইয়াবা গডফাদার নিজেকে বাঁচাতে বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ইয়াবা ডিলার মাহাবু সওদাগরকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

​

গত ১৮ আগস্ট টেকনাফ থানা-পুলিশের একটি টিম হ্নীলার মগপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলী (৩২) ও মোহাম্মদ আমিন (২৯) নামের দুই ভাইকে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা এবং নগদ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে। এলাকাবাসী জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা নিতান্তই সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং দিনে এনে দিনে খাওয়া দিনমজুর।

​

পুলিশের হাতে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানের প্রকৃত মালিক হ্নীলা পূর্ব সিকদারপাড়া এলাকার মৃত মৌলভী ইসহাকের ছেলে ইয়াবা ডিলার মাহবুবুর রহমান ওরফে মাহাবু। টেকনাফজুড়ে চালানের মূল মালিক হিসেবে তাঁর নাম উচ্চারিত হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত মুহাম্মদ আমিন দীর্ঘদিন ধরে মাহাবুর দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন। মুহাম্মদ আমিন ও তাঁর ভাই মুহাম্মদ আলীকে দিয়েই মাহাবু মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান এনে বাজারজাত করেন। এর আগেও মাহাবু সওদাগরের ৫০ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালান উদ্ধার করেছিল প্রশাসন। কর্মচারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এভাবে ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

​

জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে ১৫ কার্ড বা দেড় লাখ পিস ইয়াবার একটি চালান আসে। এর মধ্যে পুলিশ ৭০ হাজার পিস উদ্ধার করতে পারলেও বাকি ৮০ হাজার পিস ইয়াবা কৌশলে সরিয়ে ফেলেন মাহবুব। গ্রেপ্তারকৃতদের পরিবারের সদস্যরা ভয়ে মুখ না খুললেও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে মূল সত্য প্রকাশ করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনায় আমিন ও তাঁর ভাইকে রিমান্ডে নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুরো রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

​

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “ইয়াবার মালিক সাংবাদিকেরা।” পরবর্তীতে তিনি সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি সমঝোতার প্রস্তাব পাঠান।

​

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ইয়াবার প্রকৃত মালিক কে, তা তদন্তে অবশ্যই বেরিয়ে আসবে। মাদক ব্যবসায়ী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।” তিনি আরও জানান, আটক দুই ভাইকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে চালানের মূল মালিকের পরিচয় পুরোপুরি উন্মোচিত হবে।