ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার মানবপাচার প্রতিরোধ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জোর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে IOM-এর নবনিযুক্ত মিশন প্রধানের সাক্ষাৎ সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে: বরিশালে তথ্যমন্ত্রী টেকনাফের হোয়াইক্যং প্রাইভেটকারের বাম্পারে ১ লাখ ৬ হাজার ইয়াবা, আটক ১ পিরোজপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত একরাম হত্যা মামলা: র‍্যাবের সাবেক অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার মিফতাহ সেনা হেফাজতে গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক কাজ তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে ভোলার শিল্প কারখানাগুলো

 

জ্বালানি সংকটের কারণে ভোলার বিসিক শিল্প নগরীর অন্তত ১২টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যার ফলে প্রায় ৫০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জ্বালানি সংকটে কারখানাগুলোর উৎপাদন থমকে যাওয়ায় শ্রমিকদের এখন অলস সময় পার করতে হচ্ছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে ৯৬টি প্লট নিয়ে এই শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে ২৭টি কারখানা চালু রয়েছে, যা এক সময় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক জ্বালানি সংঘাটতি এই সক্ষমতাকে তলানিতে নামিয়ে এনেছে।

 

কারখানা মালিক জামাল উদ্দিন খান বলেন, ‘আমার কারখানায় প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন, কিন্তু সরবরাহ এখন চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে উৎপাদন বন্ধের পথে। কাজ ছাড়াই আমাদের শ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।’

 

আরেক মালিক ফাহিম খান জানান, তার কারখানায় মুড়ি, ময়দা, আটা এবং স্কুলের পুষ্টিসামগ্রী তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। আমরা সরকারকে অবিলম্বে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। ’জ্বালানি সংকটের প্রভাব কেবল উৎপাদনে নয়, পণ্য পরিবহনেও পড়েছে। অবিক্রীত বিপুল পরিমাণ পণ্য কারখানায় আটকা পড়ে আছে। অন্যদিকে, ক্রমাগত লোকসানের মুখে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা।

 

কারখানা শ্রমিক নোমান ও সোহাগ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে বলেন, ‘কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে পরিবার নিয়ে আমাদের বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল, তাই দ্রুত এর সমাধান চাই।’

 

ভোলা বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। শিল্প নগরীটিকে সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। অপেক্ষায় আছেন ভোলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা।

জনপ্রিয়

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত

জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে ভোলার শিল্প কারখানাগুলো

আপডেট : ১২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

 

জ্বালানি সংকটের কারণে ভোলার বিসিক শিল্প নগরীর অন্তত ১২টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যার ফলে প্রায় ৫০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জ্বালানি সংকটে কারখানাগুলোর উৎপাদন থমকে যাওয়ায় শ্রমিকদের এখন অলস সময় পার করতে হচ্ছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে ৯৬টি প্লট নিয়ে এই শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে ২৭টি কারখানা চালু রয়েছে, যা এক সময় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক জ্বালানি সংঘাটতি এই সক্ষমতাকে তলানিতে নামিয়ে এনেছে।

 

কারখানা মালিক জামাল উদ্দিন খান বলেন, ‘আমার কারখানায় প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন, কিন্তু সরবরাহ এখন চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে উৎপাদন বন্ধের পথে। কাজ ছাড়াই আমাদের শ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।’

 

আরেক মালিক ফাহিম খান জানান, তার কারখানায় মুড়ি, ময়দা, আটা এবং স্কুলের পুষ্টিসামগ্রী তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। আমরা সরকারকে অবিলম্বে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। ’জ্বালানি সংকটের প্রভাব কেবল উৎপাদনে নয়, পণ্য পরিবহনেও পড়েছে। অবিক্রীত বিপুল পরিমাণ পণ্য কারখানায় আটকা পড়ে আছে। অন্যদিকে, ক্রমাগত লোকসানের মুখে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা।

 

কারখানা শ্রমিক নোমান ও সোহাগ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে বলেন, ‘কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে পরিবার নিয়ে আমাদের বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল, তাই দ্রুত এর সমাধান চাই।’

 

ভোলা বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। শিল্প নগরীটিকে সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। অপেক্ষায় আছেন ভোলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা।