ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পাকিস্তানে ব্যাপক সংঘর্ষ, ২২ সেনাসহ নিহত ২৫৫

সংগৃহীত ছবি

 

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে তিন দিন ধরে চলমান সামরিক অভিযানে ১৯৭ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। একই সময়ে নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন পাকিস্তানি সেনা। এছাড়া, উভয় পক্ষের সংঘর্ষে শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫।

 

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে জিও নিউজ।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি বেলুচিস্তান জুড়ে সমন্বিত ‘সন্ত্রাসী’ হামলার পর সেনা অভিযান শুরু হয়। ওই দিন একযোগে প্রদেশের ১২টি শহর ও জনপদে হামলা চালায় ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন’ বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। ওইদিনের হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

 

সপ্তাহান্তে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার এবং পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায়ও হামলা চালানো হয়।

 

পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত তিন দিনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বেলুচিস্তানে।

 

হামলার পরপরই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। এই অভিযানে প্রথম ধাপে ৯২ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিলেন।

 

দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর জঙ্গিরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।

 

আইএসপিআর আরও জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী অটল সাহস ও পেশাদার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে জঙ্গিদের অপচেষ্টা সফলভাবে ব্যর্থ করেছে। তবে, তীব্র সংঘর্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য সেদিনই নিহত হন।

 

আইএসপিআর জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রমাণ মিলেছে যে এসব হামলা পাকিস্তানের বাইরে অবস্থানরত জঙ্গি নেতারা পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ঘটনার পুরো সময় তারা হামলাকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচ লিবারেশন আর্মি বেলুচিস্তানে কাজ করা অন্যান্য প্রদেশের পাকিস্তানি নাগরিক এবং বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর হামলা বাড়িয়েছে। গত বছর সংগঠনটি ৪৫০ যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে হামলা চালায়, যার ফলে দুই দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

পাকিস্তান সরকারের দাবি, বেলুচ লিবারেশন আর্মিকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেয় ভারত। তাই এই সংগঠনটিকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে থাকে পাকিস্তান সরকার।

জনপ্রিয়

উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট

পাকিস্তানে ব্যাপক সংঘর্ষ, ২২ সেনাসহ নিহত ২৫৫

আপডেট : ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

 

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে তিন দিন ধরে চলমান সামরিক অভিযানে ১৯৭ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। একই সময়ে নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন পাকিস্তানি সেনা। এছাড়া, উভয় পক্ষের সংঘর্ষে শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫।

 

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে জিও নিউজ।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি বেলুচিস্তান জুড়ে সমন্বিত ‘সন্ত্রাসী’ হামলার পর সেনা অভিযান শুরু হয়। ওই দিন একযোগে প্রদেশের ১২টি শহর ও জনপদে হামলা চালায় ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন’ বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। ওইদিনের হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

 

সপ্তাহান্তে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার এবং পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায়ও হামলা চালানো হয়।

 

পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত তিন দিনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বেলুচিস্তানে।

 

হামলার পরপরই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। এই অভিযানে প্রথম ধাপে ৯২ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিলেন।

 

দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর জঙ্গিরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।

 

আইএসপিআর আরও জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী অটল সাহস ও পেশাদার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে জঙ্গিদের অপচেষ্টা সফলভাবে ব্যর্থ করেছে। তবে, তীব্র সংঘর্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য সেদিনই নিহত হন।

 

আইএসপিআর জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রমাণ মিলেছে যে এসব হামলা পাকিস্তানের বাইরে অবস্থানরত জঙ্গি নেতারা পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ঘটনার পুরো সময় তারা হামলাকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচ লিবারেশন আর্মি বেলুচিস্তানে কাজ করা অন্যান্য প্রদেশের পাকিস্তানি নাগরিক এবং বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর হামলা বাড়িয়েছে। গত বছর সংগঠনটি ৪৫০ যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে হামলা চালায়, যার ফলে দুই দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

পাকিস্তান সরকারের দাবি, বেলুচ লিবারেশন আর্মিকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেয় ভারত। তাই এই সংগঠনটিকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে থাকে পাকিস্তান সরকার।