ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
মিয়ানমারে পাচারের পথে ১৭ লাখ টাকার সার ও কৃষিপণ্য জব্দ, আটক ৬ টেকনাফে র‌্যাব-১৫-এর অভিযানে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার বানারীপাড়ায় দুই জুলাই শহীদ পরিবারের ঘরে তারেক রহমানের উপহার মোরেলগঞ্জে পাটের বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিক ব্যবহার: ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্ব বাঘ দিবস আজ হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার মানবপাচার প্রতিরোধ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জোর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে IOM-এর নবনিযুক্ত মিশন প্রধানের সাক্ষাৎ

কক্সবাজারে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যোগ দিচ্ছেন রশিদ আহমেদ মিলন

 

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মন্দুক গ্রামের সন্তান রশিদ আহমেদ মিলন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, দক্ষতা এবং ন্যায়বোধের জন্য সহকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবার আস্থার জায়গায় তিনি জায়গা করে নিয়েছেন। নতুন দায়িত্ব পেলে কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ আরও সুসংহত হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

 

১৯৮১ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া রশিদ আহমেদ মিলন ছয় ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। পিতা এ কে এম সিরাজুল ইসলাম, যিনি সিরাজ মেম্বার নামে পরিচিত, এবং মাতা ছায়েরা আক্তারের স্নেহ-শিক্ষায় বড় হয়েছেন তিনি। সোনাইমুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও পয়ালগাছা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

 

২০১০ সালে সহকারী জজ হিসেবে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে তিনি যোগ দেন। এরপর মৌলভীবাজারে সহকারী জজ, হবিগঞ্জে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মেহেরপুরে সিনিয়র সহকারী জজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রামে সিনিয়র সহকারী জজ এবং সুনামগঞ্জে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ সিলেটে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি পদোন্নতি লাভ করেন।

 

এটাই মূল কথা: তার নতুন দায়িত্ব সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার গতি আরও বাড়াতে পারে। কক্সবাজার একটি চাহিদাসম্পন্ন বিচারিক এলাকা—বহুল জনসংখ্যা, সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য এবং জটিল মামলা ব্যবস্থাপনা এখানে প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ। অভিজ্ঞ একজন জজ যোগ দিলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে, এমনটাই মনে করছেন আইনজীবী মহল।

 

স্থানীয়রা বলছেন, অভিজ্ঞ বিচারকদের উপস্থিতিতে মামলার জট কমে, শুনানি হয় নিয়মিত, আর বিচারপ্রার্থীরা পায় অধিক স্বস্তি। কক্সবাজারের মতো পর্যটন ও সীমান্ত শহরে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শুধু নাগরিক সেবা নয়, আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি সব সময় দায়িত্বকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং জনসেবাকে জীবনের মূল লক্ষ্য মনে করেন। নতুন দায়িত্ব তার কর্মযাত্রাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেবে—এমনটিই তাদের আশা।

 

রশিদ আহমেদ মিলনের পদোন্নতি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বরুড়া ও কুমিল্লা জেলার মানুষের জন্য গর্বের বিষয়। কক্সবাজারে যোগদান করে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সেই দীর্ঘ পথচলায় নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন।

 

প্রসঙ্গত, সারা দেশে একসঙ্গে ৮২৬ বিচারককে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৬ নভেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ এফ এম গোলজার রহমান স্বাক্ষরিত বদলি ও পদোন্নতির এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জনপ্রিয়

মিয়ানমারে পাচারের পথে ১৭ লাখ টাকার সার ও কৃষিপণ্য জব্দ, আটক ৬

কক্সবাজারে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যোগ দিচ্ছেন রশিদ আহমেদ মিলন

আপডেট : ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

 

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মন্দুক গ্রামের সন্তান রশিদ আহমেদ মিলন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, দক্ষতা এবং ন্যায়বোধের জন্য সহকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবার আস্থার জায়গায় তিনি জায়গা করে নিয়েছেন। নতুন দায়িত্ব পেলে কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ আরও সুসংহত হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

 

১৯৮১ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া রশিদ আহমেদ মিলন ছয় ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। পিতা এ কে এম সিরাজুল ইসলাম, যিনি সিরাজ মেম্বার নামে পরিচিত, এবং মাতা ছায়েরা আক্তারের স্নেহ-শিক্ষায় বড় হয়েছেন তিনি। সোনাইমুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও পয়ালগাছা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

 

২০১০ সালে সহকারী জজ হিসেবে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে তিনি যোগ দেন। এরপর মৌলভীবাজারে সহকারী জজ, হবিগঞ্জে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মেহেরপুরে সিনিয়র সহকারী জজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রামে সিনিয়র সহকারী জজ এবং সুনামগঞ্জে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ সিলেটে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি পদোন্নতি লাভ করেন।

 

এটাই মূল কথা: তার নতুন দায়িত্ব সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার গতি আরও বাড়াতে পারে। কক্সবাজার একটি চাহিদাসম্পন্ন বিচারিক এলাকা—বহুল জনসংখ্যা, সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য এবং জটিল মামলা ব্যবস্থাপনা এখানে প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ। অভিজ্ঞ একজন জজ যোগ দিলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে, এমনটাই মনে করছেন আইনজীবী মহল।

 

স্থানীয়রা বলছেন, অভিজ্ঞ বিচারকদের উপস্থিতিতে মামলার জট কমে, শুনানি হয় নিয়মিত, আর বিচারপ্রার্থীরা পায় অধিক স্বস্তি। কক্সবাজারের মতো পর্যটন ও সীমান্ত শহরে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শুধু নাগরিক সেবা নয়, আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি সব সময় দায়িত্বকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং জনসেবাকে জীবনের মূল লক্ষ্য মনে করেন। নতুন দায়িত্ব তার কর্মযাত্রাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেবে—এমনটিই তাদের আশা।

 

রশিদ আহমেদ মিলনের পদোন্নতি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বরুড়া ও কুমিল্লা জেলার মানুষের জন্য গর্বের বিষয়। কক্সবাজারে যোগদান করে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সেই দীর্ঘ পথচলায় নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন।

 

প্রসঙ্গত, সারা দেশে একসঙ্গে ৮২৬ বিচারককে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৬ নভেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ এফ এম গোলজার রহমান স্বাক্ষরিত বদলি ও পদোন্নতির এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।