বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ যেন পরিণত হয়েছিল এক মহাধর্মীয় মিলনক্ষেত্রে। লক্ষিখালী শ্রী শ্রী গোপাল চাঁদ সাধু ঠাকুরের ধামে ১০৩তম বারুনী স্নান উৎসব ঘিরে সেরেস্তাদার বাড়ি হরিগুরুচাঁদ মতুয়া মন্দিরে জমে ওঠে এক অনন্য ধর্মীয় উৎসবের আবহ।
বুধবার (৯ এপ্রিল) ভোররাত থেকেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে দলে দলে ভক্তরা জড়ো হতে শুরু করেন নিশান হাতে, ডঙ্কা, ডোল-কাসা বাজিয়ে। চারদিক মুখর হয়ে ওঠে হরিনামের গুঞ্জনে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মেতে ওঠেন ভক্তিমূলক পরিবেশনায়, যেন আত্মার স্নানে শরিক হতে এসেছেন সবাই।

দু’দিনব্যাপী এই আয়োজনে দিন-রাত চলেছে প্রসাদ গ্রহণ আর মহাসংকীর্তনের আনন্দধারা। হরিনাম সংকীর্তনের তালে তালে উচ্ছ্বসিত মতুয়া ভক্তদের মুখে ফুটে উঠেছে একধরনের পরমানন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আয়োজনগুলো সবসময়ই মিলনমুখর পরিবেশে পালিত হয়। এখানে বিভেদ নয়, আছে ঐক্যের বর্ণিল চিত্র। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে সহাবস্থান করতে পারে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শিকদার ফরিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মিলন, বিএনপি নেতা মতিউর রহমান বাচ্চু, অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিপক কর্মকার, মন্দির কমিটির সভাপতি রবিন্দ্র নাথ হালদার, সাধারণ সম্পাদক শুকদেব হালদার, সহ-সভাপতি অধ্যাপক সুশেন কুমার ও পুরোহিত পংকজ কুমার হালদারসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এ উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন, যেখানে নানা পথের মানুষ এসে মিলিত হন এক হৃদয়ের স্পন্দনে।

মো. নাজমুল, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ 



















