ফাইল ছবি
আদালতে এক আইনজীবীর সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণের অভিযোগ ওঠার পর হাই কোর্টের একটি বেঞ্চের বিচারক বদলে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
বিচারপতি আতোয়ার রহমান খান ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের যে অবকাশকালীন বেঞ্চ দায়িত্ব পালন করে আসছিল, সেখান থেকে বিচারপতি আতোয়ার রহমান খানকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বেঞ্চ সংশোধন করে বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সঙ্গে বিচারপতি কাজী জিনাত হককে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
‘দুর্নীতির’ মাধ্যমে কার্যতালিকায় মামলা তোলার অভিযোগ ওঠার পর এদিন হাই কোর্টের ওই বেঞ্চে ব্যাপক হইচই হয়। পরে একদল আইনজীবী প্রধান বিচারপতির কাছে অভিযোগ নিয়ে যান।
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক একজন আইনজীবীর সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এরপর বিকালে বেঞ্চের বিচারক বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে।
দ্বৈত ওই ফৌজদারি বেঞ্চে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) শুনানির জন্য আট শতাধিক মামলা কার্যতালিকায় ছিল। এর মধ্যে অধিকাংশই ছিল আগাম জামিনের মামলা।
সকালে আদালতে উপস্থিত একাধিক আইনজীবী জানান, আগাম জামিন আবেদন মেনশনের সময় সকাল ১১টার দিকে আইনজীবী আশরাফ রহমান কার্যতালিকায় অনিয়মের বিষয় আদালতের নজরে আনেন। বেঞ্চ কর্মকর্তারা অনিয়ম ও অর্থ লেনদনের মাধ্যমে তালিকা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি তাঁর উদ্দেশে বলেন, ‘চেন আমাকে, এক থাপ্পড় দেব।’ তখন ওই আইনজীবীসহ উপস্থিত বেশ কয়েকজন আইনজীবী আপত্তি জানান। এ নিয়ে হইচই ও হট্টগোল শুরু হয়। প্রায় আধা ঘণ্টার মতো চলে। পরে বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।
অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, “জ্যেষ্ঠ বিচারক তখন উত্তেজিত হয়ে ওই আইনজীবীকে তুই-তোকারিসহ নানা অশালীন ভাষায় গালাগাল দেন।
“তিনি বলেন, ‘আমি বারের নেতা ছিলাম। তোমাকে কে সাহস দিয়েছে আমার আদালতের বিরুদ্ধে কথা বলতে। আমার এজলাস থেকে বের হও, বেয়াদব, তোকে থাপ্পড় দিয়ে পুলিশে দেব’।”
পরে ব্যারিস্টার আশরাফ রহমানসহ একদল আইনজীবী প্রধান বিচারপতির কাছে। মঙ্গলবারের ঘটনা তুলে ধরে সেখানে বলা হয়, হাই কোর্টের ওই বেঞ্চে শুরু থেকেই মামলার কার্যতালিকা তৈরি ও শুনানিতে ‘ব্যাপক অনিয়ম’ পরিলক্ষিত হয়ে আসছে। আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদালতকে বিষয়টি অবহিত করার পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সংবাদ360 প্রতিবেদক 



















