ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ভোলায় গবাদিপশুর গোবর থেকে জৈবসার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন, যুক্ত ১ হাজার উদ্যোক্তা তাহসিফ হত্যা: ৭ দিনের আবেদনে বন্ধু দীপের ৩ দিনের রিমান্ড প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাগেরহাটে বিএনপির আনন্দ মিছিল বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্ত হলো ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্ট “যুবসমাজ রক্ষায় শহীদ জিয়ার ভূমিকা অনবদ্য” — রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, বিপাকে বাইন্যান্স হত্যাচেষ্টা মামলায় ফের গ্রেফতার আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি: পারটেক্স গ্রুপের শওকত আজিজ রাসেল কারাগারে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ: জাপান সফর ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে এখনই কার্যকর উদ্যোগ চাই

ভোলার তীরবর্তী সাগরে ভেসে উঠেছে টনে টনে পঁচা ইলিশ, গন্ধে হচ্ছে পরিবেশ দূষণ

 

ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ মৎসঘাটের তীরবর্তী সাগরে ভেসে উঠেছে টনে টনে পঁচা ইলিশ, গন্ধে হচ্ছে পরিবেশ দূষণ। সাগর থেকে ইলিশ বোঝাই শতাধিক ট্রলার ঘাটে ফিরেছে কয়েক দিনের ব্যবধানে। শত শত টন পচা ইলিশের স্তূপ দেখে বিস্মিত সাধারণ ক্রেতারা। তবে মাছের আড়তদার ও পাইকারদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যস্ততা।

 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন গভীর সাগরে অবস্থান করে ইলিশ শিকার করেছেন একাধিক ট্রলারের জেলেরা। উপজেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, নদী ও সমুদ্রে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশসহ নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। অভিযোগ উঠেছে, এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে গভীর সাগরে অবস্থান করে মাছ শিকার করেছেন জেলেরা। দীর্ঘদিন বরফজাত করে রাখায় এসব ইলিশের বড় একটি অংশ পচে গেছে বলে জানিয়েছেন সাগর থেকে ফেরা একাধিক জেলে।

 

সরেজমিনে সামরাজ মৎস্যঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে একে একে ঘাটে নোঙর করছে ইলিশবোঝাই ট্রলার। এসব ট্রলার থেকে ঝুড়িভর্তি ইলিশ নামিয়ে আড়তে নেওয়া হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মাছ বেচাকেনা। কিছু মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর জন্য গাড়িতে তোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে পচা মাছের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ঘাটে।

 

ট্রলারভর্তি ইলিশের উৎস জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাগর থেকে ফেরা এক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞার খবর শুনে ৮ অক্টোবরের আগে বরফ, তেল ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে তাঁরা গভীর সাগরে মাছ শিকারে যান। এরপর নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন সাগরে অবস্থান করে মাছ শিকার করেন। দীর্ঘদিন বরফের মধ্যে সংরক্ষণ করায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মাছ পচে গেছে। সমুদ্রগামী ট্রলারের মাঝি নুরমোহাম্মদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

 

তবে সামরাজ মৎস্যঘাটের বেশ কয়েকজন আড়তদার বলেন, এসব মাছ সাগরের। ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জেলেরা সাগরে মাছ শিকার করেছে। সামরাজ মৎস্যঘাটের সভাপতি আজিজ বলেন, প্রশাসনের উদাসীনতার কারনে কিছু জেলে সমুদ্রে গিয়ে মাছ শিকার করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসন আরও কঠোর হওয়া দরকার ছিল।

 

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, এ বিষয়ে আমাকে একজন অবগত করেছে। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার তিন দিন পর সাগরগামী ট্রলারগুলো ইলিশবোঝাই হয়ে ঘাটে ফিরে আসা কতটা সম্ভব এমন প্রশ্নে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, কিছু অসাধু জেলে গোপনে সমুদ্রে যেতে পারে। আর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় সমুদ্রে নজরদারি করে কোস্ট গার্ড।

জনপ্রিয়

ভোলায় গবাদিপশুর গোবর থেকে জৈবসার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন, যুক্ত ১ হাজার উদ্যোক্তা

ভোলার তীরবর্তী সাগরে ভেসে উঠেছে টনে টনে পঁচা ইলিশ, গন্ধে হচ্ছে পরিবেশ দূষণ

আপডেট : ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

 

ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ মৎসঘাটের তীরবর্তী সাগরে ভেসে উঠেছে টনে টনে পঁচা ইলিশ, গন্ধে হচ্ছে পরিবেশ দূষণ। সাগর থেকে ইলিশ বোঝাই শতাধিক ট্রলার ঘাটে ফিরেছে কয়েক দিনের ব্যবধানে। শত শত টন পচা ইলিশের স্তূপ দেখে বিস্মিত সাধারণ ক্রেতারা। তবে মাছের আড়তদার ও পাইকারদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যস্ততা।

 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন গভীর সাগরে অবস্থান করে ইলিশ শিকার করেছেন একাধিক ট্রলারের জেলেরা। উপজেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, নদী ও সমুদ্রে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশসহ নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। অভিযোগ উঠেছে, এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে গভীর সাগরে অবস্থান করে মাছ শিকার করেছেন জেলেরা। দীর্ঘদিন বরফজাত করে রাখায় এসব ইলিশের বড় একটি অংশ পচে গেছে বলে জানিয়েছেন সাগর থেকে ফেরা একাধিক জেলে।

 

সরেজমিনে সামরাজ মৎস্যঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে একে একে ঘাটে নোঙর করছে ইলিশবোঝাই ট্রলার। এসব ট্রলার থেকে ঝুড়িভর্তি ইলিশ নামিয়ে আড়তে নেওয়া হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মাছ বেচাকেনা। কিছু মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর জন্য গাড়িতে তোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে পচা মাছের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ঘাটে।

 

ট্রলারভর্তি ইলিশের উৎস জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাগর থেকে ফেরা এক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞার খবর শুনে ৮ অক্টোবরের আগে বরফ, তেল ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে তাঁরা গভীর সাগরে মাছ শিকারে যান। এরপর নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন সাগরে অবস্থান করে মাছ শিকার করেন। দীর্ঘদিন বরফের মধ্যে সংরক্ষণ করায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মাছ পচে গেছে। সমুদ্রগামী ট্রলারের মাঝি নুরমোহাম্মদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

 

তবে সামরাজ মৎস্যঘাটের বেশ কয়েকজন আড়তদার বলেন, এসব মাছ সাগরের। ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জেলেরা সাগরে মাছ শিকার করেছে। সামরাজ মৎস্যঘাটের সভাপতি আজিজ বলেন, প্রশাসনের উদাসীনতার কারনে কিছু জেলে সমুদ্রে গিয়ে মাছ শিকার করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসন আরও কঠোর হওয়া দরকার ছিল।

 

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, এ বিষয়ে আমাকে একজন অবগত করেছে। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার তিন দিন পর সাগরগামী ট্রলারগুলো ইলিশবোঝাই হয়ে ঘাটে ফিরে আসা কতটা সম্ভব এমন প্রশ্নে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, কিছু অসাধু জেলে গোপনে সমুদ্রে যেতে পারে। আর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় সমুদ্রে নজরদারি করে কোস্ট গার্ড।