ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার মানবপাচার প্রতিরোধ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জোর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে IOM-এর নবনিযুক্ত মিশন প্রধানের সাক্ষাৎ সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে: বরিশালে তথ্যমন্ত্রী টেকনাফের হোয়াইক্যং প্রাইভেটকারের বাম্পারে ১ লাখ ৬ হাজার ইয়াবা, আটক ১ পিরোজপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত একরাম হত্যা মামলা: র‍্যাবের সাবেক অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার মিফতাহ সেনা হেফাজতে গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক কাজ তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী ক্লিনিক সিলগালার পর এবার মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

ভোলায় কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা ও লবনাক্ততায় আমন চাষ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক

 

ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় শত শত একর জমিতে জলবদ্ধতা ও মেঘনার লবণাক্ত পানি জমে থাকায় আমন চাষ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে উপকূলের হাজারো কৃষক। আমন মৌসুমে এখন পর্যন্ত চারা রোপন না করতে পেরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক। প্রত্যেক বছর এই সমস্যায় পড়লেও কেউ সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি। তাই প্রতি বছর অধিকাংশ জমিতে আমন চাষ করতে পারেনা উপকূলের কৃষকরা।

 

কোথাও হাঁটু পরিমান পানি, আবার কোথাও ১-২ ফুট পানি জমে জলবদ্ধতায় রয়েছে কৃষি জমি। ওই সমস্ত জমিতে জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবাহিত হয়। অনেক কৃষক জমিতে এখন পর্যন্ত চাষাবাদে যায়নি। আবার অনেক কৃষক জমিতে আমনের চারা রোপন করেছেন সেই জমির আমনের চারা লবাণাক্ত পানির প্রবাহে হলুদ হয়ে নষ্ঠ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। উপজেলার হাজিরহাট, মনপুরা, উত্তর সাকুচিয়া ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।

 

হাজিরহাট ইউনিয়নের কৃষক ফারুক, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক আবদুর রহমান জানান, বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর সাথে আবার জোয়ারের লবাণাক্ত পানি প্রবাহিত হয়। এতে আমাদের আমন চাষ কঠিন হয়ে পড়ে। অপরদিকে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক আবুল কাশেম ও মনপুরা ইউনিয়নের কৃষক ইব্রাহীমসহ অনেকে জানান, কৃষি জমিতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এইছাড়াও প্রতি বছর জলবদ্ধতা ও লবাণাক্ত পানির প্রবাহনে আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমাদের আমন ফলন কম হওয়ায় লোকসান হচ্ছে প্রতিবছর। আমরা এর সুষ্ঠ সমাধার দাবি করছি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা জানান, চারদিকে শহর রক্ষা বাঁধ (বেড়ীবাঁধ) কাজ চলছে। এতে জমি থেকে বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও স্লুইস গেট নষ্ট হয়ে পড়ায় জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা কমে ফলন কম হচ্ছে। তারা দাবী করেন, জমির জলবদ্ধতা ও জোয়ারের পানি প্রবাহের পথ গুলো ঠিক করার ব্যবস্থা করলে কৃষক ফসল উৎপাদন করতে পারবে। এতে কৃষক আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।

 

এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান তাওহীদ জানান, মাঠ পর্যায়ে তদারকিসহ কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকের সমস্যার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

ভোলায় কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা ও লবনাক্ততায় আমন চাষ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক

আপডেট : ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

 

ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় শত শত একর জমিতে জলবদ্ধতা ও মেঘনার লবণাক্ত পানি জমে থাকায় আমন চাষ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে উপকূলের হাজারো কৃষক। আমন মৌসুমে এখন পর্যন্ত চারা রোপন না করতে পেরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক। প্রত্যেক বছর এই সমস্যায় পড়লেও কেউ সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি। তাই প্রতি বছর অধিকাংশ জমিতে আমন চাষ করতে পারেনা উপকূলের কৃষকরা।

 

কোথাও হাঁটু পরিমান পানি, আবার কোথাও ১-২ ফুট পানি জমে জলবদ্ধতায় রয়েছে কৃষি জমি। ওই সমস্ত জমিতে জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবাহিত হয়। অনেক কৃষক জমিতে এখন পর্যন্ত চাষাবাদে যায়নি। আবার অনেক কৃষক জমিতে আমনের চারা রোপন করেছেন সেই জমির আমনের চারা লবাণাক্ত পানির প্রবাহে হলুদ হয়ে নষ্ঠ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। উপজেলার হাজিরহাট, মনপুরা, উত্তর সাকুচিয়া ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।

 

হাজিরহাট ইউনিয়নের কৃষক ফারুক, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক আবদুর রহমান জানান, বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর সাথে আবার জোয়ারের লবাণাক্ত পানি প্রবাহিত হয়। এতে আমাদের আমন চাষ কঠিন হয়ে পড়ে। অপরদিকে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক আবুল কাশেম ও মনপুরা ইউনিয়নের কৃষক ইব্রাহীমসহ অনেকে জানান, কৃষি জমিতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এইছাড়াও প্রতি বছর জলবদ্ধতা ও লবাণাক্ত পানির প্রবাহনে আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমাদের আমন ফলন কম হওয়ায় লোকসান হচ্ছে প্রতিবছর। আমরা এর সুষ্ঠ সমাধার দাবি করছি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা জানান, চারদিকে শহর রক্ষা বাঁধ (বেড়ীবাঁধ) কাজ চলছে। এতে জমি থেকে বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও স্লুইস গেট নষ্ট হয়ে পড়ায় জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা কমে ফলন কম হচ্ছে। তারা দাবী করেন, জমির জলবদ্ধতা ও জোয়ারের পানি প্রবাহের পথ গুলো ঠিক করার ব্যবস্থা করলে কৃষক ফসল উৎপাদন করতে পারবে। এতে কৃষক আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।

 

এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান তাওহীদ জানান, মাঠ পর্যায়ে তদারকিসহ কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকের সমস্যার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।