ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে হামলায় আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক মারা গেছেন ভোলায় গবাদিপশুর গোবর থেকে জৈবসার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন, যুক্ত ১ হাজার উদ্যোক্তা তাহসিফ হত্যা: ৭ দিনের আবেদনে বন্ধু দীপের ৩ দিনের রিমান্ড প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাগেরহাটে বিএনপির আনন্দ মিছিল বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্ত হলো ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্ট “যুবসমাজ রক্ষায় শহীদ জিয়ার ভূমিকা অনবদ্য” — রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, বিপাকে বাইন্যান্স হত্যাচেষ্টা মামলায় ফের গ্রেফতার আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি: পারটেক্স গ্রুপের শওকত আজিজ রাসেল কারাগারে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ: জাপান সফর ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

জলঢাকায় ঝড়ো বৃষ্টিতে আমন ও শীতকালীন সব্জির ব্যাপক ক্ষতি 

 

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে নীলফামারীর জলঢাকায় টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় চলতি মৌসুমের আমন ধান ও আগাম শীতকালীন শাকসব্জির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

 

সোমবার (০৩ নভেম্বর) সরেজমিনে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়—বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ শান্ত আকাশে মেঘ ডাকতে শুরু করে, এরপর শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া। এই বৃষ্টি ও বাতাসে আমন ধানসহ শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রবি শস্যের ক্ষেতও নষ্ট হয়ে গেছে।

 

বাতাসে নষ্ট হয়েছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। মাঠের পাকা ও আধাপাকা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। বিশেষ করে কৈমারী, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী খুটামারা, কাঠালী, সিমুল বাড়ি, গোলনা , ধর্মপাল , মীরগঞ্জ সহ অন্যান্য ইউনিয়নের শত শত একর ধানক্ষেতের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। আশপাশের গ্রামগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

 

কৃষকেরা জানিয়েছেন, মাঠের আধাপাকা ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে এবং অনেক ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে ঘরে ফলন তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

তারা আরও জানান, আমন ধান কাটার পর জমিতে শীতকালীন সব্জির বীজ বপন করেছেন। সারা বছর সবজি চাষের জন্য উঁচু জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করা হয়ে থাকে।

 

মীরগঞ্জ  ইউনিয়নের  নিজ পাড়া  এলাকার কৃষক আব্দুর রশিদ  বলেন, “আমি ৫ একর জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। ১৫ দিন পর কাটার কথা ছিল। কিন্তু এখন মাঠে পানি জমে শিষ নষ্ট হচ্ছে, ফলে ফলন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। আরো মীরগঞ্জের কৃষক গণত রায় বলেন কৃষি অফিসার তো আমাদের এখানে আসে না, আমাদের এখানে হাজার হাজার একর আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে এর যথাযথ  ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন সরকারের  কাছে, শুধু ধান নয়, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মরিচ, পেঁয়াজ ও ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পানি জমে থাকার কারণে শিকড় পচে গাছ মারা যেতে পারে।”

 

একই এলাকার কৃষক মুজিবুর রহমান বলেন,“আমাদের এলাকায় প্রায় ১৫ একর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের গাছগুলো বাতাস ও বৃষ্টিতে মাটিতে হেলে পড়েছে, অনেক ধান ঝরে গেছে। এখন আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে।”

 

মীরগঞ্জ  ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, বাতাস ও বৃষ্টিতে ধানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

 

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে নিচু জমির ধান হেলে পড়েছে এবং কিছু এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ধানের গোড়া পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয় কৃষক সমাজের দাবি, এই ক্রান্তিকালে কৃষকদের পাশে থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহায়তা দেওয়া জরুরি, যাতে ক্ষতির মাত্রা কমানো যায়।

 

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “নিম্নচাপের প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া হয়েছে। এতে কিছু এলাকায় ধানক্ষতি হয়েছে। আমরা কৃষকদের দ্রুত পানি নিষ্কাশন, নুয়ে পড়া ধানগাছ বাঁধা এবং অতিরিক্ত পানি জমে না থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

জনপ্রিয়

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে হামলায় আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক মারা গেছেন

জলঢাকায় ঝড়ো বৃষ্টিতে আমন ও শীতকালীন সব্জির ব্যাপক ক্ষতি 

আপডেট : ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

 

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে নীলফামারীর জলঢাকায় টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় চলতি মৌসুমের আমন ধান ও আগাম শীতকালীন শাকসব্জির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

 

সোমবার (০৩ নভেম্বর) সরেজমিনে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়—বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ শান্ত আকাশে মেঘ ডাকতে শুরু করে, এরপর শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া। এই বৃষ্টি ও বাতাসে আমন ধানসহ শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রবি শস্যের ক্ষেতও নষ্ট হয়ে গেছে।

 

বাতাসে নষ্ট হয়েছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। মাঠের পাকা ও আধাপাকা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। বিশেষ করে কৈমারী, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী খুটামারা, কাঠালী, সিমুল বাড়ি, গোলনা , ধর্মপাল , মীরগঞ্জ সহ অন্যান্য ইউনিয়নের শত শত একর ধানক্ষেতের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। আশপাশের গ্রামগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

 

কৃষকেরা জানিয়েছেন, মাঠের আধাপাকা ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে এবং অনেক ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে ঘরে ফলন তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

তারা আরও জানান, আমন ধান কাটার পর জমিতে শীতকালীন সব্জির বীজ বপন করেছেন। সারা বছর সবজি চাষের জন্য উঁচু জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করা হয়ে থাকে।

 

মীরগঞ্জ  ইউনিয়নের  নিজ পাড়া  এলাকার কৃষক আব্দুর রশিদ  বলেন, “আমি ৫ একর জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। ১৫ দিন পর কাটার কথা ছিল। কিন্তু এখন মাঠে পানি জমে শিষ নষ্ট হচ্ছে, ফলে ফলন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। আরো মীরগঞ্জের কৃষক গণত রায় বলেন কৃষি অফিসার তো আমাদের এখানে আসে না, আমাদের এখানে হাজার হাজার একর আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে এর যথাযথ  ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন সরকারের  কাছে, শুধু ধান নয়, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মরিচ, পেঁয়াজ ও ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পানি জমে থাকার কারণে শিকড় পচে গাছ মারা যেতে পারে।”

 

একই এলাকার কৃষক মুজিবুর রহমান বলেন,“আমাদের এলাকায় প্রায় ১৫ একর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের গাছগুলো বাতাস ও বৃষ্টিতে মাটিতে হেলে পড়েছে, অনেক ধান ঝরে গেছে। এখন আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে।”

 

মীরগঞ্জ  ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, বাতাস ও বৃষ্টিতে ধানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

 

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে নিচু জমির ধান হেলে পড়েছে এবং কিছু এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ধানের গোড়া পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয় কৃষক সমাজের দাবি, এই ক্রান্তিকালে কৃষকদের পাশে থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহায়তা দেওয়া জরুরি, যাতে ক্ষতির মাত্রা কমানো যায়।

 

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “নিম্নচাপের প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া হয়েছে। এতে কিছু এলাকায় ধানক্ষতি হয়েছে। আমরা কৃষকদের দ্রুত পানি নিষ্কাশন, নুয়ে পড়া ধানগাছ বাঁধা এবং অতিরিক্ত পানি জমে না থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।