ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার মানবপাচার প্রতিরোধ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জোর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে IOM-এর নবনিযুক্ত মিশন প্রধানের সাক্ষাৎ সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে: বরিশালে তথ্যমন্ত্রী টেকনাফের হোয়াইক্যং প্রাইভেটকারের বাম্পারে ১ লাখ ৬ হাজার ইয়াবা, আটক ১ পিরোজপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত একরাম হত্যা মামলা: র‍্যাবের সাবেক অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার মিফতাহ সেনা হেফাজতে গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক কাজ তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বৈরী আবহাওয়া দুশ্চিন্তায় দিন গুনছে নীলফামারীর আলু চাষিরা

 

নীলফামারীর জলঢাকা, ডোমার, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিতে আলু চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় অনেক স্থানে আলুর চারা নষ্ট হচ্ছে, আর বীজতলার বীজ আলু পঁচে যাওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার কৃষকরা।

 

চাষিদের অভিযোগ, নভেম্বর শেষ দিক থেকেই আলু রোপণের উপযুক্ত সময় হলেও এ বছর অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের জমিগুলোতে পানি জমে থাকা ও ডুবে যাওয়ায় বহু জায়গায় চারা পচে যাচ্ছে।

 

জেলার সদর, কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা, ডোমার ও ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, বৃষ্টি না থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই জমি চাষ করে নতুন করে রোপণ সম্ভব হতো। কিন্তু এখন জমিতে পানি নামতে আরও সময় লাগবে, ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাবে।

 

সদরের বিভিন্ন এলাকায় সরজমিনে দেখা গেছে, উঁচু এলাকার আলুর জমিতে পানি না জমলেও চাষিরা ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। সদরের রামনগর ইউনিয়নের আলু চাষি মাজেদুল ইসলাম জলঢাকার আলু চাষী শ্রী মহেশ চন্দ্র রায় জানান, “আগাম আমন ধান কেটে জমিতে আলু চাষ করেছি। বীজ বাদে সার, কীটনাশক ও মজুরি মিলিয়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে কী যে হবে বুঝতে পারছি না।”

 

একই এলাকার চাষি নুর মোহাম্মদ বলেন, “আগাম ধান চাষে সুবিধা না পেলেও আলু চাষে ভালো লাভের আশা করেছিলাম। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় সব স্বপ্নই এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।”

 

স্থানীয় সুশীল সমাজের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে –বলেন, “উত্তরাঞ্চলের এই জেলা কৃষিনির্ভর। তাই সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জরুরি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

 

সার, কীটনাশক ও শ্রমমূল্যের লাগামহীন দাম, তার সঙ্গে আলুর অনিশ্চিত বাজারমূল্য—সব মিলিয়ে নীলফামারীর কৃষকদের স্বপ্নের চাষাবাদে এখন ছায়া ফেলেছে বৈরী প্রকৃতি।

জনপ্রিয়

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত

বৈরী আবহাওয়া দুশ্চিন্তায় দিন গুনছে নীলফামারীর আলু চাষিরা

আপডেট : ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

 

নীলফামারীর জলঢাকা, ডোমার, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিতে আলু চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় অনেক স্থানে আলুর চারা নষ্ট হচ্ছে, আর বীজতলার বীজ আলু পঁচে যাওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার কৃষকরা।

 

চাষিদের অভিযোগ, নভেম্বর শেষ দিক থেকেই আলু রোপণের উপযুক্ত সময় হলেও এ বছর অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের জমিগুলোতে পানি জমে থাকা ও ডুবে যাওয়ায় বহু জায়গায় চারা পচে যাচ্ছে।

 

জেলার সদর, কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা, ডোমার ও ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, বৃষ্টি না থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই জমি চাষ করে নতুন করে রোপণ সম্ভব হতো। কিন্তু এখন জমিতে পানি নামতে আরও সময় লাগবে, ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাবে।

 

সদরের বিভিন্ন এলাকায় সরজমিনে দেখা গেছে, উঁচু এলাকার আলুর জমিতে পানি না জমলেও চাষিরা ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। সদরের রামনগর ইউনিয়নের আলু চাষি মাজেদুল ইসলাম জলঢাকার আলু চাষী শ্রী মহেশ চন্দ্র রায় জানান, “আগাম আমন ধান কেটে জমিতে আলু চাষ করেছি। বীজ বাদে সার, কীটনাশক ও মজুরি মিলিয়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে কী যে হবে বুঝতে পারছি না।”

 

একই এলাকার চাষি নুর মোহাম্মদ বলেন, “আগাম ধান চাষে সুবিধা না পেলেও আলু চাষে ভালো লাভের আশা করেছিলাম। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় সব স্বপ্নই এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।”

 

স্থানীয় সুশীল সমাজের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে –বলেন, “উত্তরাঞ্চলের এই জেলা কৃষিনির্ভর। তাই সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জরুরি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

 

সার, কীটনাশক ও শ্রমমূল্যের লাগামহীন দাম, তার সঙ্গে আলুর অনিশ্চিত বাজারমূল্য—সব মিলিয়ে নীলফামারীর কৃষকদের স্বপ্নের চাষাবাদে এখন ছায়া ফেলেছে বৈরী প্রকৃতি।