ঢাকা , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
আদানির ইউনিট বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংকটে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং, ছুটির দিনেও চরম ভোগান্তি গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ট্যাংক দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী মোরেলগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মতবিনিময় সভা পিরোজপুর সদরকে শিশুশ্রম ও ঝরে পড়া শিশুমুক্ত উপজেলা ঘোষণা পিরোজপুরে তার কাটার সময় যুবক আটক, বিভিন্ন মালামাল উদ্ধারের দাবি ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের ক্যানসারে মারা গেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা: শেষকৃত্যে যোগ দিতে ৫ ঘণ্টার প্যারোল পিরোজপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নে কর্মশালা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা

ভোলার গ্যাস দিয়ে হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন: তবুও লোডশেডিংয়ে নাকাল ভোলাবাসী

 

প্রাকৃতিকভাবে দ্বীপজেলা ভোলায় গ্যাস রয়েছে, রয়েছে বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রও। ভোলা জেলার বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪৮৫ মেগাওয়াট, অথচ জেলাটির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা মাত্র ১২০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন ভোলার মানুষ। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, চরম বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা।

ভোলায় বর্তমানে প্রায় ৪৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে বোরহানউদ্দিনের দক্ষিণ কুতুবা এলাকায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মালিকানাধীন ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (ভোলা-১) এবং একই উপজেলায় নূসতান নামের ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ডুয়েল-ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে। এ ছাড়া ভোলা শহরের খেয়াঘাট এলাকায় ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেটি বর্তমানে বন্ধ। বন্ধ কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা হলে জেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪৮৫ মেগাওয়াটে।

অন্যদিকে, ভোলার সাতটি উপজেলার মধ্যে ছয়টিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। দুই সংস্থার যৌথ গ্রাহক সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি। ওজোপাডিকোর দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা ২২ থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ৭০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন সক্ষমতা ও স্থানীয় চাহিদার মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিতরণ সংস্থাগুলো।

ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক শাহ মো. রাজ্জাকুর রহমান বলেন, “জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিচ্ছি। বর্তমানে দিনে ও রাতে মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ লোডশেডিং রাখতে হচ্ছে।” ওজোপাডিকোর কর্মকর্তারাও একই কথা জানিয়েছেন। ফলে শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

দেশের অনেক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেখানে জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত করছে, ভোলার চিত্র সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন। জেলার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। বরং স্থানীয় চাহিদা সীমিত হওয়ায় ভোলার গ্যাসের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের হিসাবে, ভোলায় বর্তমানে প্রায় ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

১৯৯৫ সালে ভোলায় প্রথম শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে বাপেক্স, যা থেকে ২০০৯ সালে উৎপাদন শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ভোলা নর্থ এবং ২০২৩ সালে ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও এগুলো থেকে এখনো উৎপাদন শুরু হয়নি। বর্তমানে ভোলার গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মোট দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১২২ মিলিয়ন ঘনফুট। স্থানীয় চাহিদা সীমিত হওয়ায় এবং জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন না থাকায় উৎপাদনক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ করা হচ্ছে, আর বাকি অংশ অব্যবহৃত থাকছে।

জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাস নেওয়ার অবকাঠামো না থাকায় ভোলার গ্যাস মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোলা থেকে জাতীয় সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবে না বিবেচনায় এখন পর্যন্ত সে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে ভোলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হলেও স্থানীয় গ্রাহকরা তার সুফল পাচ্ছেন না।

ফলশ্রুতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—যে জেলায় প্রাচুর্যময় গ্যাসের মজুত ও বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে এবং চাহিদার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে, সেই জেলাকেই কেন লোডশেডিং সহ্য করতে হবে?

ইলিশা এলাকার বরফকলের স্বত্বাধিকারী মোর্শেদ বলেন: “ভোলার বিদ্যুৎ দিয়ে অন্য জেলা চলে, অথচ ভোলার তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের বরফকলের ব্যবসা এখন বন্ধ হওয়ার পথে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

লালমোহনের ব্যবসায়ী সাকিল বলেন: “লোডশেডিং এখন প্রতিদিনের নিয়মে পরিণত হয়েছে। আমাদের পুরো ব্যবসাটাই বিদ্যুৎনির্ভর। যে হারে লোডশেডিং হচ্ছে, তাতে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা ছাড়া উপায় থাকবে না।”

ভোলা শহরের মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা জেসমিন বলেন: “ভোলা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে, অথচ ভোলার মানুষকেই অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। এর আগেও আমরা অনেক আন্দোলন করেছি, তবুও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।”

সচেতন নাগরিকদের মতে, ভোলার গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আগে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে ভোলার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো হলে লোডশেডিং অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ জন্য শুধু উৎপাদন নয়, বরং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করার দিকে দ্রুত নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয়

আদানির ইউনিট বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংকটে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং, ছুটির দিনেও চরম ভোগান্তি

ভোলার গ্যাস দিয়ে হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন: তবুও লোডশেডিংয়ে নাকাল ভোলাবাসী

আপডেট : ১১:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

 

প্রাকৃতিকভাবে দ্বীপজেলা ভোলায় গ্যাস রয়েছে, রয়েছে বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রও। ভোলা জেলার বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪৮৫ মেগাওয়াট, অথচ জেলাটির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা মাত্র ১২০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন ভোলার মানুষ। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, চরম বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা।

ভোলায় বর্তমানে প্রায় ৪৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে বোরহানউদ্দিনের দক্ষিণ কুতুবা এলাকায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মালিকানাধীন ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (ভোলা-১) এবং একই উপজেলায় নূসতান নামের ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ডুয়েল-ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে। এ ছাড়া ভোলা শহরের খেয়াঘাট এলাকায় ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেটি বর্তমানে বন্ধ। বন্ধ কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা হলে জেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪৮৫ মেগাওয়াটে।

অন্যদিকে, ভোলার সাতটি উপজেলার মধ্যে ছয়টিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। দুই সংস্থার যৌথ গ্রাহক সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি। ওজোপাডিকোর দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা ২২ থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ৭০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন সক্ষমতা ও স্থানীয় চাহিদার মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিতরণ সংস্থাগুলো।

ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক শাহ মো. রাজ্জাকুর রহমান বলেন, “জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিচ্ছি। বর্তমানে দিনে ও রাতে মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ লোডশেডিং রাখতে হচ্ছে।” ওজোপাডিকোর কর্মকর্তারাও একই কথা জানিয়েছেন। ফলে শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

দেশের অনেক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেখানে জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত করছে, ভোলার চিত্র সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন। জেলার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। বরং স্থানীয় চাহিদা সীমিত হওয়ায় ভোলার গ্যাসের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের হিসাবে, ভোলায় বর্তমানে প্রায় ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

১৯৯৫ সালে ভোলায় প্রথম শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে বাপেক্স, যা থেকে ২০০৯ সালে উৎপাদন শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ভোলা নর্থ এবং ২০২৩ সালে ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও এগুলো থেকে এখনো উৎপাদন শুরু হয়নি। বর্তমানে ভোলার গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মোট দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১২২ মিলিয়ন ঘনফুট। স্থানীয় চাহিদা সীমিত হওয়ায় এবং জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন না থাকায় উৎপাদনক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ করা হচ্ছে, আর বাকি অংশ অব্যবহৃত থাকছে।

জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাস নেওয়ার অবকাঠামো না থাকায় ভোলার গ্যাস মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোলা থেকে জাতীয় সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবে না বিবেচনায় এখন পর্যন্ত সে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে ভোলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হলেও স্থানীয় গ্রাহকরা তার সুফল পাচ্ছেন না।

ফলশ্রুতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—যে জেলায় প্রাচুর্যময় গ্যাসের মজুত ও বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে এবং চাহিদার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে, সেই জেলাকেই কেন লোডশেডিং সহ্য করতে হবে?

ইলিশা এলাকার বরফকলের স্বত্বাধিকারী মোর্শেদ বলেন: “ভোলার বিদ্যুৎ দিয়ে অন্য জেলা চলে, অথচ ভোলার তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের বরফকলের ব্যবসা এখন বন্ধ হওয়ার পথে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

লালমোহনের ব্যবসায়ী সাকিল বলেন: “লোডশেডিং এখন প্রতিদিনের নিয়মে পরিণত হয়েছে। আমাদের পুরো ব্যবসাটাই বিদ্যুৎনির্ভর। যে হারে লোডশেডিং হচ্ছে, তাতে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা ছাড়া উপায় থাকবে না।”

ভোলা শহরের মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা জেসমিন বলেন: “ভোলা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে, অথচ ভোলার মানুষকেই অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। এর আগেও আমরা অনেক আন্দোলন করেছি, তবুও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।”

সচেতন নাগরিকদের মতে, ভোলার গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আগে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে ভোলার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো হলে লোডশেডিং অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ জন্য শুধু উৎপাদন নয়, বরং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করার দিকে দ্রুত নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।