ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ট্যাংক দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী মোরেলগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মতবিনিময় সভা পিরোজপুর সদরকে শিশুশ্রম ও ঝরে পড়া শিশুমুক্ত উপজেলা ঘোষণা পিরোজপুরে তার কাটার সময় যুবক আটক, বিভিন্ন মালামাল উদ্ধারের দাবি ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের ক্যানসারে মারা গেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা: শেষকৃত্যে যোগ দিতে ৫ ঘণ্টার প্যারোল পিরোজপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নে কর্মশালা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা মোরেলগঞ্জে ইউপি প্রকল্পের টাকা ও জেলের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

“মানুষের সেবাই আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি”: বিএনএফ চেয়ারম্যান খোন্দকার মোরতাজুল করিম বাদরু

 

বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের (বিএনএফ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খোন্দকার মোরতাজুল করিম বাদরু বলেছেন, দীর্ঘ ৪৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি এই দায়িত্বপ্রাপ্তিকে তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করেন। ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক পরিচিতি সভায় প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বাদরু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

 

তিনি বলেন, চিন্তক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।

 

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান
বক্তব্যে বাদরু স্মরণ করেন, ২০০৪ সালে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দরিদ্র মানুষ, নারী সমাজ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণের লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও দোয়া করতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে দাওয়াত করেননি, তবু সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি তাঁকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছে।

 

নিজের ৪৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাদরু বলেন, মন্ত্রী বা এমপি হওয়ার প্রত্যাশা অনেকের থাকলেও তিনি বর্তমান দায়িত্বকেই নিজের রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি বলে মনে করেন। কারণ এই প্রতিষ্ঠান সরাসরি দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে। তিনি বলেন, অতীতে দলের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম ও মামলা মোকাবিলা করে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, এখন থেকে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিএনএফের মাধ্যমে দেশের জন্য কাজ করতে চান তিনি।

 

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাদরু বিশেষভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও-র দীর্ঘ প্রশাসনিক ও ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ কর্মীবাহিনীর সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করা বাদরু জানান, দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর কুমিল্লা যুব কল্যাণ সংস্থাসহ একাধিক সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও সিলেট অঞ্চলে দুর্যোগ কবলিত মানুষের পাশে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তিনি। মানবসেবার এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে বর্তমান দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

 

বক্তব্যের একপর্যায়ে বাদরু জানান, প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই— এই বার্তা শুনে তিনি আনন্দিত। নিজের পারিবারিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি একজন শিক্ষকের সন্তান এবং তাঁর পরিবারে এখনও তিন ভাই-বোন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত। তাঁর ছোট ভাই একজন প্রকৌশলী হয়েও ঘুষ না নিয়ে সততার সঙ্গে চাকরি করেছেন এবং তিন বছর আগে এক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। এই পারিবারিক শিক্ষার আলোকেই তিনি স্বচ্ছতা ও সততাকে জীবনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে জানান।

 

নিয়োগের পর গণমাধ্যমের আগ্রহের বিষয়ে বাদরু বলেন, সাক্ষাৎকার এড়িয়ে চললেও একটি টেলিভিশন ক্যামেরার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। এনজিওর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে বিষয়টি জেনে-শুনে যাচাই করে তারপরই মন্তব্য করা তাঁর নীতি।

 

বক্তব্যের শেষাংশে বাদরু জানান, সরকারের ৩১ দফা এজেন্ডার মধ্যে ছয়টি বিষয় বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিএনএফের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই এজেন্ডা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের একটি অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

জনপ্রিয়

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ

“মানুষের সেবাই আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি”: বিএনএফ চেয়ারম্যান খোন্দকার মোরতাজুল করিম বাদরু

আপডেট : ০১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের (বিএনএফ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খোন্দকার মোরতাজুল করিম বাদরু বলেছেন, দীর্ঘ ৪৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি এই দায়িত্বপ্রাপ্তিকে তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করেন। ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক পরিচিতি সভায় প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বাদরু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

 

তিনি বলেন, চিন্তক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।

 

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান
বক্তব্যে বাদরু স্মরণ করেন, ২০০৪ সালে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দরিদ্র মানুষ, নারী সমাজ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণের লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও দোয়া করতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে দাওয়াত করেননি, তবু সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি তাঁকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছে।

 

নিজের ৪৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাদরু বলেন, মন্ত্রী বা এমপি হওয়ার প্রত্যাশা অনেকের থাকলেও তিনি বর্তমান দায়িত্বকেই নিজের রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি বলে মনে করেন। কারণ এই প্রতিষ্ঠান সরাসরি দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে। তিনি বলেন, অতীতে দলের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম ও মামলা মোকাবিলা করে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, এখন থেকে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিএনএফের মাধ্যমে দেশের জন্য কাজ করতে চান তিনি।

 

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাদরু বিশেষভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও-র দীর্ঘ প্রশাসনিক ও ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ কর্মীবাহিনীর সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করা বাদরু জানান, দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর কুমিল্লা যুব কল্যাণ সংস্থাসহ একাধিক সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও সিলেট অঞ্চলে দুর্যোগ কবলিত মানুষের পাশে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তিনি। মানবসেবার এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে বর্তমান দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

 

বক্তব্যের একপর্যায়ে বাদরু জানান, প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই— এই বার্তা শুনে তিনি আনন্দিত। নিজের পারিবারিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি একজন শিক্ষকের সন্তান এবং তাঁর পরিবারে এখনও তিন ভাই-বোন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত। তাঁর ছোট ভাই একজন প্রকৌশলী হয়েও ঘুষ না নিয়ে সততার সঙ্গে চাকরি করেছেন এবং তিন বছর আগে এক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। এই পারিবারিক শিক্ষার আলোকেই তিনি স্বচ্ছতা ও সততাকে জীবনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে জানান।

 

নিয়োগের পর গণমাধ্যমের আগ্রহের বিষয়ে বাদরু বলেন, সাক্ষাৎকার এড়িয়ে চললেও একটি টেলিভিশন ক্যামেরার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। এনজিওর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে বিষয়টি জেনে-শুনে যাচাই করে তারপরই মন্তব্য করা তাঁর নীতি।

 

বক্তব্যের শেষাংশে বাদরু জানান, সরকারের ৩১ দফা এজেন্ডার মধ্যে ছয়টি বিষয় বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিএনএফের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই এজেন্ডা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের একটি অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।