প্রতীকী ছবি
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই দুটি মৌলিক অধিকারকে একই সূত্রে বাঁধার এক অনন্য মাধ্যম হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল কর্মসূচি। শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়ানো এবং ঝরে পড়া বন্ধে দুপুরবেলার খাবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে সম্ভাবনাময় এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য মাঝপথেই হোঁচট খাচ্ছে অব্যবস্থাপনা, মনিটরিংয়ের অভাব এবং একশ্রেণীর মানুষের অনৈতিক চর্চার কারণে। যে স্বপ্নের ওপর ভর দিয়ে এই প্রকল্প রূপায়িত হওয়ার কথা, বাস্তবতায় তা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির দেয়াল তুলে দিচ্ছে।
মিড-ডে মিল ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা প্রকাশ পায় খাবারের নিম্নমানের মধ্য দিয়ে। যেসব ঠিকাদারদের ওপর পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের দায়িত্ব অর্পিত হয়, তাদের একটি বড় অংশের লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন। ফলে শিশুদের পাতে যে খাবার পৌঁছায়, তা অনেক সময়ই অস্বাস্থ্যকর, নিম্নমানের উপকরণে তৈরি এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান থেকে বহুদূরে। অন্যদিকে, স্থানীয় পর্যায় ও বিদ্যালয়ে স্বচ্ছ তদারকির অভাব থাকায় শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির একাংশের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে রেশনের খাদ্যসামগ্রী স্কুলেই ঠিকমতো রান্না না হয়ে শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বাসাবাড়িতে চলে যাওয়ার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। কোমলমতি শিশুদের মুখের খাবার কেড়ে নেওয়ার এই প্রবৃত্তি কেবল নৈতিক অধঃপতনই নয়, বরং পুরো প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় আঘাত।
খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করার কথা বলে যে কর্মসূচি শুরু হয়, সেখানে যদি তদারকি ও জবাবদিহিতা অনুপস্থিত থাকে, তবে তা রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা জরুরি। সরবরাহকারী ঠিকাদারদের কাজের ওপর নিয়মিত অডিট চালানো এবং খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষার জন্য একটি নিরপেক্ষ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় মনিটরিং টিম গঠন করা প্রয়োজন। একই সাথে, খাবারের বরাদ্দ ও রান্নার হিসাব স্বচ্ছ রাখতে স্থানীয় অভিভাবক ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে শিক্ষক বা ঠিকাদার কারও পক্ষেই অনিয়ম করা সম্ভব না হয়।
শিশুরাই একটি দেশের মূল সম্পদ। তাদের পুষ্টি ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। অসাধু ঠিকাদার ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিদের অনিয়মের কারণে একটি সম্ভাবনাময় সামাজিক উদ্যোগ নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে তবেই মিড-ডে মিলের সুফল দেশের প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছাবে এবং এক সুস্থ, শিক্ষিত ও সাম্যভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।
শিশুরাই একটি দেশের মূল সম্পদ। তাদের পুষ্টি ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী জাতি গঠনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু রাখা কোনো সাধারণ সরকারি ব্যয় নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের ওপর সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থাকে সাথে নিয়ে একটি টেকসই ‘জাতীয় মিড-ডে মিল নীতি’ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।অসাধু ঠিকাদার ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিদের অনিয়মের কারণে একটি সম্ভাবনাময় সামাজিক উদ্যোগ নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে তবেই মিড-ডে মিলের সুফল দেশের প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছাবে এবং এক সুস্থ, শিক্ষিত ও সাম্যভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।
লেখক: সিকদার মোহাম্মদ আরিফুল আলম, সম্পাদক ও প্রকাশক, সংবাদ৩৬০ | sangbad360 | বিশ্লেষক

সিকদার মোহাম্মদ আরিফুল আলম 



















