ঢাকা , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
আদানির ইউনিট বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংকটে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং, ছুটির দিনেও চরম ভোগান্তি গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ট্যাংক দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী মোরেলগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মতবিনিময় সভা পিরোজপুর সদরকে শিশুশ্রম ও ঝরে পড়া শিশুমুক্ত উপজেলা ঘোষণা পিরোজপুরে তার কাটার সময় যুবক আটক, বিভিন্ন মালামাল উদ্ধারের দাবি ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের ক্যানসারে মারা গেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা: শেষকৃত্যে যোগ দিতে ৫ ঘণ্টার প্যারোল পিরোজপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নে কর্মশালা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা

নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা

 

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বিপুল পলি প্রবাহ ও প্রবল বৃষ্টিপাত থেকে এই বিধ্বংসী বন্যার সূত্রপাত হয়। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি সেতু ভেসে গেছে।

 

এতে শোক প্রকাশ করেছে সরকার। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালকে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেপালের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ মর্মাহত ও শোকাহত। পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশ গভীরভাবে নজর রাখছে। এতে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের অনেকেই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপালের সরকার ও বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।

 

বিবৃতিতে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।

 

এতে আরও বলা হয়, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

 

এই প্রলয়ঙ্করি বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বতের অংশে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তে উদ্ধার হওয়া তালিকার মধ্যে একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের কয়েক শ বিদেশি পর্যটকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, বৈরি আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালাত মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদামাটির নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে আছেন বলে স্বজনরা আশঙ্কা করছেন। এছাড়া নদীগুলোতে বিপুল পরিমাণ পলি ও ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় নতুন করে আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

জনপ্রিয়

আদানির ইউনিট বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংকটে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং, ছুটির দিনেও চরম ভোগান্তি

নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা

আপডেট : ১২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

 

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বিপুল পলি প্রবাহ ও প্রবল বৃষ্টিপাত থেকে এই বিধ্বংসী বন্যার সূত্রপাত হয়। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি সেতু ভেসে গেছে।

 

এতে শোক প্রকাশ করেছে সরকার। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালকে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেপালের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ মর্মাহত ও শোকাহত। পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশ গভীরভাবে নজর রাখছে। এতে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের অনেকেই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপালের সরকার ও বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।

 

বিবৃতিতে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।

 

এতে আরও বলা হয়, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

 

এই প্রলয়ঙ্করি বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বতের অংশে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তে উদ্ধার হওয়া তালিকার মধ্যে একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের কয়েক শ বিদেশি পর্যটকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, বৈরি আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালাত মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদামাটির নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে আছেন বলে স্বজনরা আশঙ্কা করছেন। এছাড়া নদীগুলোতে বিপুল পরিমাণ পলি ও ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় নতুন করে আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।