ঢাকা , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
আদানির ইউনিট বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংকটে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং, ছুটির দিনেও চরম ভোগান্তি গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ট্যাংক দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী মোরেলগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মতবিনিময় সভা পিরোজপুর সদরকে শিশুশ্রম ও ঝরে পড়া শিশুমুক্ত উপজেলা ঘোষণা পিরোজপুরে তার কাটার সময় যুবক আটক, বিভিন্ন মালামাল উদ্ধারের দাবি ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের ক্যানসারে মারা গেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা: শেষকৃত্যে যোগ দিতে ৫ ঘণ্টার প্যারোল পিরোজপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নে কর্মশালা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা

শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় মঞ্চে ঠাঁই হলো না শিক্ষকদের! টাঙ্গাইলে তীব্র ক্ষোভ

 

“শিক্ষা আলো ছড়ায়, মাদক জীবন হারায়”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মাদক নির্মূলে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় মঞ্চে কোনো শিক্ষককে স্থান না দেওয়া এবং এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নেতাকে সামনের সারি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক ও শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) কালিহাতী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন কালিহাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক অনুষ্ঠান হলেও মঞ্চে কোনো কলেজের অধ্যক্ষ বা জ্যেষ্ঠ কোনো শিক্ষককে বসতে দেওয়া হয়নি। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যাপক এ. কে. এম. আব্দুল আউয়াল মঞ্চের প্রথম সারিতে বসার পর সেখান থেকে তাঁকে সরিয়ে পেছনের সারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শিক্ষকদের সম্মানহানির এই ঘটনায় দর্শকসারিতে উপস্থিত শিক্ষক ও সুধীজনের মধ্যে তাৎক্ষণিক তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, অসৎ উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষকদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।

 

​সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইউম খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ. কে. এম. আব্দুল আউয়াল, ড্যাব নেতা ডা. শাহ আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো, কালিহাতী শাহজাহান সিরাজ কলেজের অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান, কালিহাতী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুল বাশার তারেক, সহদেবপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল আজিজ এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মফিজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

​অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের মঞ্চে ঠাঁই না হওয়ার বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি এ. কে. এম. আব্দুল আউয়ালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শিক্ষকদের সভায় অধ্যক্ষ ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মঞ্চে আসন দেওয়াটাই সঙ্গত ও যথার্থ ছিল।”

 

​এ বিষয়ে এলেঙ্গার ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। মঞ্চে অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের স্থান না দিয়ে পুরো শিক্ষক সমাজকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষকেও মঞ্চে আসন দেওয়া হয়নি; অথচ অনেক অপ্রাসঙ্গিক লোককে মঞ্চে দেখা গেছে।”

 

​বিষয়টি নিয়ে দর্শকসারিতে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কোনো দলীয় বা প্রশাসনিক পদে না থেকেও কারা বা কীভাবে সরকারি-বেসরকারি সকল অনুষ্ঠান ও মঞ্চ নিয়ন্ত্রণ করছেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপস্থিত শিক্ষকরা। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

জনপ্রিয়

আদানির ইউনিট বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংকটে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং, ছুটির দিনেও চরম ভোগান্তি

শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় মঞ্চে ঠাঁই হলো না শিক্ষকদের! টাঙ্গাইলে তীব্র ক্ষোভ

আপডেট : ০৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

 

“শিক্ষা আলো ছড়ায়, মাদক জীবন হারায়”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মাদক নির্মূলে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় মঞ্চে কোনো শিক্ষককে স্থান না দেওয়া এবং এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নেতাকে সামনের সারি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক ও শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) কালিহাতী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন কালিহাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক অনুষ্ঠান হলেও মঞ্চে কোনো কলেজের অধ্যক্ষ বা জ্যেষ্ঠ কোনো শিক্ষককে বসতে দেওয়া হয়নি। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যাপক এ. কে. এম. আব্দুল আউয়াল মঞ্চের প্রথম সারিতে বসার পর সেখান থেকে তাঁকে সরিয়ে পেছনের সারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শিক্ষকদের সম্মানহানির এই ঘটনায় দর্শকসারিতে উপস্থিত শিক্ষক ও সুধীজনের মধ্যে তাৎক্ষণিক তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, অসৎ উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষকদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।

 

​সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইউম খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ. কে. এম. আব্দুল আউয়াল, ড্যাব নেতা ডা. শাহ আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো, কালিহাতী শাহজাহান সিরাজ কলেজের অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান, কালিহাতী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুল বাশার তারেক, সহদেবপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল আজিজ এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মফিজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

​অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের মঞ্চে ঠাঁই না হওয়ার বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি এ. কে. এম. আব্দুল আউয়ালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শিক্ষকদের সভায় অধ্যক্ষ ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মঞ্চে আসন দেওয়াটাই সঙ্গত ও যথার্থ ছিল।”

 

​এ বিষয়ে এলেঙ্গার ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। মঞ্চে অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের স্থান না দিয়ে পুরো শিক্ষক সমাজকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষকেও মঞ্চে আসন দেওয়া হয়নি; অথচ অনেক অপ্রাসঙ্গিক লোককে মঞ্চে দেখা গেছে।”

 

​বিষয়টি নিয়ে দর্শকসারিতে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কোনো দলীয় বা প্রশাসনিক পদে না থেকেও কারা বা কীভাবে সরকারি-বেসরকারি সকল অনুষ্ঠান ও মঞ্চ নিয়ন্ত্রণ করছেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপস্থিত শিক্ষকরা। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।