১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিয়োগান্তক দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে এক সামরিক অভ্যুথানের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনাতোর স্থপতি ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন।
১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর অভ্যুথান: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে হামলা চালায়। এতে শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তাঁদের তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ এবং আত্মীয়-স্বজনসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য নিহত হন। শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, সে সময় বিদেশে থাকায় বেঁচে যান।
এই ঘটনার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দেশে সামরিক শাসনের প্রভাব বিস্তৃত হয়। পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ ও সামরিক বাহিনীতে গভীর প্রভাব ফেলে।
১৫ আগস্টের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক গতিপথকে আমূল বদলে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে দীর্ঘ মেয়াদে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়।
বাংলাদেশের একটি বিরাট অংশের মানুষের কাছে এটি একটি গভীর শোক ও বেদনার দিন। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয় এবং দোষীদের শাস্তি কার্যকর করা হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণে ১৫ আগস্টের ঘটনাটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং বড় ধরনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথম এই দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। তবে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবারও ১৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
জুলাই আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ায়ী লীগ সরকারের পতনের পর ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন।

ডেস্ক রিপোর্টঃ 



















