অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছে গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশ। সংগঠনটির মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি রেস্টুরেন্টে ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে করণীয় শীর্ষক’ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মো. শাহ আলম রাসেল। সভা পরিচালনা করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন সংগঠনটির মহাসচিব প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান খান।
সভায় গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মিকাইল রহমান বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম শুধু কোনো একটি সংগঠনের নয়; এটি সবার। দল-মত নির্বিশেষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবং প্রবাসী পল্লী গ্রুপের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি সেবা নিতে হয়রানি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সম্মিলিতভাবে দেশব্যাপী দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, দুর্নীতি দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় দুর্নীতির বিভিন্ন ক্ষেত্র ও প্রতিকারের পথ তুলে ধরা হয়। এতে সরকারি সেবায় ঘুষ ও অনৈতিক লেনদেন বন্ধ, দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আইন প্রয়োগের দাবি জানানো হয়।
শিক্ষা খাতে ভর্তি-বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম এবং শিক্ষা উপকরণের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে এসব বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষক নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং প্রশ্নফাঁস ও কোচিং-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা ও বলা হয়।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারি হাসপাতালের ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতি, চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলা এবং বেসরকারি ক্লিনিকের অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সরকারি ক্রয়ে ই-টেন্ডারিং বাধ্যতামূলক করা এবং হাসপাতালগুলোতে সেবার মান নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদারের কথা বলা হয়।
সভায় দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে দুর্নীতিবিরোধী নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচার জানানোর প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূল ক ও ন্যায়ভিত্তিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করা, সরকারি অর্থের হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং দুর্নীতিবাজদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বয়কট করা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

















