ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
মোরেলগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী সাদিক কায়েম, উত্তরে সেলিম উদ্দিন ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, টাঙানো হলো গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি কর্মসংস্থান ব্যাংকের নতুন ডিএমডি পারভীন আকতার মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বান ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের ৭০ কিলোমিটার জুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন স্পিকার গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত টেকনাফ রাজারছড়ায় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মানব পাচারকারীদের ২০টি আস্তানা টেকনাফে নাফ নদীতে বিজিবির চিরুনি অভিযান খেলাধুলায় তরুণদের সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী করা সম্ভব: এমপি জুই

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, টাঙানো হলো গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর ও ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে এক শিক্ষার্থী এ ঘটনা ঘটান। এরপর সেখানে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার একটি ছবি টানিয়ে দেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।

আবু তৈয়ব হাবিলদার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ সেশনের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। গত ডাকসু নির্বাচনে তিনি সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রার্থী হিসেবে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, “কাউকে তার ইচ্ছামতো কিছু করতে দেওয়া হবে না। এই খলনায়কের ছবি কেন ডাকসুতে থাকবে? ডাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে জিন্নাহকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠার কোনো কথা ছিল কি না? আমরা একাত্তর ও ভাষা সংগ্রাম ভুলে যাইনি।”

এ ঘটনার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা সংগ্রহশালায় গোলাম আযমের অপমানের একটি ছবি স্থাপন করেন। ১৯৮১ সালের ওই ছবিতে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করতে দেখা যায়।

ছাত্র ফেডারেশন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়া বলেন, ‘গতকাল ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেছিলেন, তার ইচ্ছা করেছে তাই জিন্নাহর ছবি লাগিয়েছেন। ঠিক তেমনই আমাদের ইচ্ছা করেছে গোলাম আযমের ছবি লাগাতে, তাই লাগিয়েছি।’

এ বিষয়ে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, “পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে ঘোষণা করে জিন্নাহর দেওয়া যে বিবৃতি, ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেটা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তার অবস্থান তুলে ধরা। শিক্ষার্থীরা কেন এটা ভাঙল, সেটা আমি বুঝতে পারছি না। ইতিহাস গোপন করা মানে তা উন্মোচন করার পরিবর্তে জিন্নাহর পক্ষ নেওয়া।”

এর আগে, সংস্কার শেষে গতকাল রোববার ডাকসুর সংগ্রহশালাটি চালু করা হয়। তবে সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল কোনো ছবি রাখা হয়নি। তার পরিবর্তে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছিল পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি।

এর মধ্যে একটি ছবি ছিল ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক অনুষ্ঠানের, যেখানে জিন্নাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। আরেকটি ছিল ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি, যেখানে জিন্নাহ উপস্থিত রয়েছেন। অপরটি ছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি–সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।

গতকাল সংগ্রহশালা চালুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। ​বিষয়টি নিয়ে জুমা বলেছিলেন, সেখানে জিন্নাহর কোনো একক ছবি রাখা হয়নি। ১৯০৫ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি একক ফ্রেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, জিন্নাহর ছবি টানানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদলও। সংগঠনটি এটিকে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে যাওয়ার লক্ষণ বলে অভিহিত করেছে।

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, টাঙানো হলো গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি

আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর ও ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে এক শিক্ষার্থী এ ঘটনা ঘটান। এরপর সেখানে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার একটি ছবি টানিয়ে দেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।

আবু তৈয়ব হাবিলদার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ সেশনের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। গত ডাকসু নির্বাচনে তিনি সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রার্থী হিসেবে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, “কাউকে তার ইচ্ছামতো কিছু করতে দেওয়া হবে না। এই খলনায়কের ছবি কেন ডাকসুতে থাকবে? ডাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে জিন্নাহকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠার কোনো কথা ছিল কি না? আমরা একাত্তর ও ভাষা সংগ্রাম ভুলে যাইনি।”

এ ঘটনার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা সংগ্রহশালায় গোলাম আযমের অপমানের একটি ছবি স্থাপন করেন। ১৯৮১ সালের ওই ছবিতে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করতে দেখা যায়।

ছাত্র ফেডারেশন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়া বলেন, ‘গতকাল ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেছিলেন, তার ইচ্ছা করেছে তাই জিন্নাহর ছবি লাগিয়েছেন। ঠিক তেমনই আমাদের ইচ্ছা করেছে গোলাম আযমের ছবি লাগাতে, তাই লাগিয়েছি।’

এ বিষয়ে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, “পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে ঘোষণা করে জিন্নাহর দেওয়া যে বিবৃতি, ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেটা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তার অবস্থান তুলে ধরা। শিক্ষার্থীরা কেন এটা ভাঙল, সেটা আমি বুঝতে পারছি না। ইতিহাস গোপন করা মানে তা উন্মোচন করার পরিবর্তে জিন্নাহর পক্ষ নেওয়া।”

এর আগে, সংস্কার শেষে গতকাল রোববার ডাকসুর সংগ্রহশালাটি চালু করা হয়। তবে সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল কোনো ছবি রাখা হয়নি। তার পরিবর্তে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছিল পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি।

এর মধ্যে একটি ছবি ছিল ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক অনুষ্ঠানের, যেখানে জিন্নাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। আরেকটি ছিল ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি, যেখানে জিন্নাহ উপস্থিত রয়েছেন। অপরটি ছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি–সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।

গতকাল সংগ্রহশালা চালুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। ​বিষয়টি নিয়ে জুমা বলেছিলেন, সেখানে জিন্নাহর কোনো একক ছবি রাখা হয়নি। ১৯০৫ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি একক ফ্রেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, জিন্নাহর ছবি টানানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদলও। সংগঠনটি এটিকে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে যাওয়ার লক্ষণ বলে অভিহিত করেছে।