পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের পেরগোলা গ্রামে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৌদি প্রবাসী জীবন হাওলাদারকে মারধর এবং তাঁর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছোট ভাই হামজা হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত হামজা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামজার পরিবারের অভিযোগ, সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর জীবন হাওলাদারের কাছে স্থানীয় কয়েকজন তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাড়িতে পারিবারিক অনুষ্ঠান চলাকালে আল-আমিন সরদারের নেতৃত্বে কয়েকজন জীবন হাওলাদারকে ডেকে রাস্তার সামনে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর কাছে পুনরায় টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ভাইকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় হামজা।
পরিবারের অভিযোগ, হামজা বাধা দিতে গেলে আল-আমিন সরদার ও সোহেল শেখ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামজা হাওলাদার বলেন, ভাইকে মারধর করা হচ্ছে শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিই। তখন আমার মাথায় আঘাত করা হয়। আঘাতের পর আমি মাটিতে পড়ে যাই। পরে আমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হামজার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাঁর চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলেও দাবি করেছে।
এ ঘটনায় হামজার ভাবি ফারজানা আক্তার আল-আমিন সরদার, সোহেল শেখ, বেল্লাল সরদার, জনি খান ও মেহেদীসহ অজ্ঞাত আরও তিন-চারজনের বিরুদ্ধে পিরোজপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দক্ষিণাঞ্চল প্রতিনিধিঃ 


















