ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘স্নাতক’ নির্ধারণের বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করার বিধান কেন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল জারি করেন। সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী—কাজী ফেরদাউসুল হাসান এবং মো. তানভীর আহমেদ খান এই আবেদনটি দায়ের করেছিলেন।
আদালত এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) উদ্দেশ্যে রুলটি জারি করা হয়েছে।
আদালতে শুনানি চলাকালে রিটকারী আইনজীবীরা তাদের আবেদনে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেন–
বিচারিক দায়িত্ব ও গ্রাম আদালত: একজন ইউপি চেয়ারম্যান শুধু স্থানীয় প্রশাসনিক প্রধান নন, আইন অনুযায়ী তিনি ‘গ্রাম আদালত’-এরও চেয়ারম্যান। এ পদে থেকে তিনি সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা মূল্যমানের মামলা নিষ্পত্তির বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
যোগ্যতার অমিল ও বৈষম্য: সমপরিমাণ বা কাছাকাছি বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য একজন বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেটকে স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। অথচ একই ধরনের ক্ষমতার অধিকারী ইউপি চেয়ারম্যানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই, যা একটি স্পষ্ট আইনি বৈষম্য ও শূন্যতা।
সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিকতা: বিচারিক দায়িত্ব পালনকারী পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার আইনি বিধানকে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করেন আবেদনকারীরা।
বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে হাইকোর্ট কেবল রুল জারি করেছেন—এটি এখনো কোনো চূড়ান্ত রায় নয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে লিখিত জবাব পাওয়ার পর আইনি যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা প্রদান করবেন।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 



















