বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়া ১৪ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (৮ মে) নাফ নদীর শূন্যরেখা থেকে তাদের গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসে বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল।
ফেরত আনা ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি জেলে এবং ১ জন এফডিএমএন সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশি জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন কয়েকজন জেলে। এ সময় তাদের আটক করে আরাকান আর্মি। পরে আটক জেলেদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংগঠনটির নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে সেখানে আটকে রাখা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কক্সবাজার রিজিয়নের বিজিবি আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখে। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে আটক জেলেদের ধাপে ধাপে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে অগ্রগতি অর্জিত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিজিবির একটি প্রতিনিধি দল নাফ নদীর শূন্যলাইনে আরাকান আর্মির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ১৪ জন জেলেকে গ্রহণ করে দেশে ফিরিয়ে আনে।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিচয় যাচাই ও পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এ ঘটনায় জেলেদের পরিবার-পরিজনের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অবশিষ্ট আটক জেলেদেরও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ফরহাদ রহমান, টেকনাফ প্রতিনিধিঃ 



















