ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ রাজধানীতে এক রাতে ৮ ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন বাগেরহাটে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭ প্রবাসীর মৃত্যু ​ বাগেরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত ​ পিরোজপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ ঝালকাঠিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তিন মাসের প্রশিক্ষণে দক্ষতা অর্জন, এবার আয়ের সুযোগ ১০০ নারীর মোরেলগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

নবাবগঞ্জে ডাবল মার্ডার: একজনের মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি

 

ঢাকার অদূরে নবাবগঞ্জ থানাধীন এলাকায় ডাবল মার্ডারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ( ১২ এপ্রিল) ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মুনির হোসাঈন এই রায় ঘোষণা করেন।

 

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোসা: মিনারা বেগম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রায়ে বিচারক শেখ নাছিরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এছাড়া দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারা ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এছাড়া আসামি নুর ইসলাম ওরফে নুর হোসেন মোল্লা, সাইফুল আলম শেখ, সুমন শেখ, বাবুল গাজী, শেখ হাবিবুর রহমান ওরফে হবি, আনোয়ার হোসেন বাবু এবং আল আমিনদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

 

এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ২৩ মে রাত সোয়া ১১টায় ভিকটিম শেখ কালাম ও ভিকটিম জাহিদ খান পীর নুরুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ান দেন। এসময় ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানাধীন বান্দুরা হতে মাঝির কান্দাগামী পাকা রাস্তার মতব্বতপুরের ডাঙ্গারচরের সামনে পৌছালে আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে রাস্তায় দুইটি কলাগাছ ফেলে রাখে। এসময় আসামিরা ভিকটিম শেখ কালাম ও জাহিদ খানের মোটর সাইকেলের গতিরোধ করেন। গতি রোধের কারণে মোটর সাইকেলের চালক জাহিদ খান তার মাথার হেলমেট দিয়ে আসামীদের এলোপাথারি বারি মারলে আসামী শেখ নাছির ও সাইফুল তাদের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে ভিকটিম শেখ কালামকে খুন করার উদ্দেশ্যে কোপ মেরে গলার কন্ঠনালীতে মারাত্মক কাটা জখম করে এবং রক্তাক্ত করে।

 

এজাহারে আরও জানা গেছে, কণ্ঠনালীতে জখম করার পরে আসামী সাইফুল, আল আমিন, রিপন, লম্বা বাবুল, কামালসহ আসামীরা ভিকটিম শেখ কালামকে এলোপাথারী কুপিয়ে ডাক কাঁধের উপর এবং ডান হাতের বাহুতে মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম করে। তারপর শেখ কালামের সঙ্গীয় জাহিদ খানকে আসামীরা লাঠি দিয়ে ডান হাতের কনুইয়ের উপর জখম করে। ভিকটিম শেখ কালাম মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় জীবন বাঁচানোর জন্য দৌড়ে কিছু দূর এসে রাস্তায় পড়ে যায়। চিল্লাচিল্লি শুরু হলে পাবলিক ও পুলিশ ঘটনার স্থানে আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়। এরপরে ভিকটিম জাহিদ খান তার স্ত্রীকে ফোনে ঘটনা জানালে সংবাদ পেয়ে পীর নুরুল ইসলাম মোল্লার ভাই খোকন দ্রুত ঘটনাস্থলে যেয়ে ভিকটিম কালাম ও জাহিদ দ্বয়কে আহত অবস্থায় নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার কালামকে মৃত ঘোষনা করেন।

 

এরপরে পুলিশ বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পরে আসামি শেখ নাছির, সাইফুল ইসলাম শেখ, আনোয়ার হোসেন বাবুল ও নুর ইসলাম প্রকাশ নুর হোসেন মোল্লা আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য এই আদালতে আসে। আদালতে আসার পরে ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগঠন করেন আদালত। অভিযোগ গঠনের পরে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

জনপ্রিয়

এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ

নবাবগঞ্জে ডাবল মার্ডার: একজনের মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট : ০৩:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রতীকী ছবি

 

ঢাকার অদূরে নবাবগঞ্জ থানাধীন এলাকায় ডাবল মার্ডারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ( ১২ এপ্রিল) ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মুনির হোসাঈন এই রায় ঘোষণা করেন।

 

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোসা: মিনারা বেগম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রায়ে বিচারক শেখ নাছিরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এছাড়া দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারা ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এছাড়া আসামি নুর ইসলাম ওরফে নুর হোসেন মোল্লা, সাইফুল আলম শেখ, সুমন শেখ, বাবুল গাজী, শেখ হাবিবুর রহমান ওরফে হবি, আনোয়ার হোসেন বাবু এবং আল আমিনদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

 

এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ২৩ মে রাত সোয়া ১১টায় ভিকটিম শেখ কালাম ও ভিকটিম জাহিদ খান পীর নুরুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ান দেন। এসময় ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানাধীন বান্দুরা হতে মাঝির কান্দাগামী পাকা রাস্তার মতব্বতপুরের ডাঙ্গারচরের সামনে পৌছালে আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে রাস্তায় দুইটি কলাগাছ ফেলে রাখে। এসময় আসামিরা ভিকটিম শেখ কালাম ও জাহিদ খানের মোটর সাইকেলের গতিরোধ করেন। গতি রোধের কারণে মোটর সাইকেলের চালক জাহিদ খান তার মাথার হেলমেট দিয়ে আসামীদের এলোপাথারি বারি মারলে আসামী শেখ নাছির ও সাইফুল তাদের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে ভিকটিম শেখ কালামকে খুন করার উদ্দেশ্যে কোপ মেরে গলার কন্ঠনালীতে মারাত্মক কাটা জখম করে এবং রক্তাক্ত করে।

 

এজাহারে আরও জানা গেছে, কণ্ঠনালীতে জখম করার পরে আসামী সাইফুল, আল আমিন, রিপন, লম্বা বাবুল, কামালসহ আসামীরা ভিকটিম শেখ কালামকে এলোপাথারী কুপিয়ে ডাক কাঁধের উপর এবং ডান হাতের বাহুতে মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম করে। তারপর শেখ কালামের সঙ্গীয় জাহিদ খানকে আসামীরা লাঠি দিয়ে ডান হাতের কনুইয়ের উপর জখম করে। ভিকটিম শেখ কালাম মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় জীবন বাঁচানোর জন্য দৌড়ে কিছু দূর এসে রাস্তায় পড়ে যায়। চিল্লাচিল্লি শুরু হলে পাবলিক ও পুলিশ ঘটনার স্থানে আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়। এরপরে ভিকটিম জাহিদ খান তার স্ত্রীকে ফোনে ঘটনা জানালে সংবাদ পেয়ে পীর নুরুল ইসলাম মোল্লার ভাই খোকন দ্রুত ঘটনাস্থলে যেয়ে ভিকটিম কালাম ও জাহিদ দ্বয়কে আহত অবস্থায় নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার কালামকে মৃত ঘোষনা করেন।

 

এরপরে পুলিশ বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পরে আসামি শেখ নাছির, সাইফুল ইসলাম শেখ, আনোয়ার হোসেন বাবুল ও নুর ইসলাম প্রকাশ নুর হোসেন মোল্লা আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য এই আদালতে আসে। আদালতে আসার পরে ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগঠন করেন আদালত। অভিযোগ গঠনের পরে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।