ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
মোরেলগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ রাজধানীতে এক রাতে ৮ ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন বাগেরহাটে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭ প্রবাসীর মৃত্যু ​ বাগেরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত ​ পিরোজপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ ঝালকাঠিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তিন মাসের প্রশিক্ষণে দক্ষতা অর্জন, এবার আয়ের সুযোগ ১০০ নারীর

বানারীপাড়ায় গৃহবধূ হত্যা: প্রধান আসামি স্বামী গ্রেফতার

 

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় স্বামীর পৈশাচিক নির্যাতনে গৃহবধূ মাহিয়া আক্তার (১৮)-এর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামি স্বামী রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলা দায়েরের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বুধবার গভীর রাতে ঢাকার নন্দীপাড়া এলাকার ছোট বটতলার একটি ভাড়া বাসা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তাকে বানারীপাড়া থানায় আনা হয়।

 

নিহত মাহিয়া আক্তার উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ হুমায়ুন কবিরের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে একই এলাকার মোঃ মাসুম মৃধার ছেলে রবিউল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকায় বসবাস করতেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে মাহিয়াকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তার স্বামী। স্থানীয়দের দাবি, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই তার ওপর নির্যাতন চালাতেন রবিউল ইসলাম। সর্বশেষ প্রায় এক সপ্তাহ আগে স্বামী ও শাশুড়ির মারধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মাহিয়া। পরে পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। গত ৮ এপ্রিল সকালে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঘটনার খবর পেয়ে ওসি মোঃ মজিবুর রহমান ও ওসি (তদন্ত) শতদল মজুমদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে।

 

এ বিষয়ে ওসি মোজিবুর রহমান জানান, পুলিশের তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

 

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। মেয়ের এমন অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা শোকাহত হয়ে পড়েছে।

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

বানারীপাড়ায় গৃহবধূ হত্যা: প্রধান আসামি স্বামী গ্রেফতার

আপডেট : ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

 

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় স্বামীর পৈশাচিক নির্যাতনে গৃহবধূ মাহিয়া আক্তার (১৮)-এর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামি স্বামী রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলা দায়েরের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বুধবার গভীর রাতে ঢাকার নন্দীপাড়া এলাকার ছোট বটতলার একটি ভাড়া বাসা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তাকে বানারীপাড়া থানায় আনা হয়।

 

নিহত মাহিয়া আক্তার উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ হুমায়ুন কবিরের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে একই এলাকার মোঃ মাসুম মৃধার ছেলে রবিউল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকায় বসবাস করতেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে মাহিয়াকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তার স্বামী। স্থানীয়দের দাবি, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই তার ওপর নির্যাতন চালাতেন রবিউল ইসলাম। সর্বশেষ প্রায় এক সপ্তাহ আগে স্বামী ও শাশুড়ির মারধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মাহিয়া। পরে পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। গত ৮ এপ্রিল সকালে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঘটনার খবর পেয়ে ওসি মোঃ মজিবুর রহমান ও ওসি (তদন্ত) শতদল মজুমদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে।

 

এ বিষয়ে ওসি মোজিবুর রহমান জানান, পুলিশের তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

 

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। মেয়ের এমন অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা শোকাহত হয়ে পড়েছে।