ঢাকা , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
আদানির ইউনিট বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংকটে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং, ছুটির দিনেও চরম ভোগান্তি গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ট্যাংক দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী মোরেলগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মতবিনিময় সভা পিরোজপুর সদরকে শিশুশ্রম ও ঝরে পড়া শিশুমুক্ত উপজেলা ঘোষণা পিরোজপুরে তার কাটার সময় যুবক আটক, বিভিন্ন মালামাল উদ্ধারের দাবি ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের ক্যানসারে মারা গেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা: শেষকৃত্যে যোগ দিতে ৫ ঘণ্টার প্যারোল পিরোজপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নে কর্মশালা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা

তিতুমীর কলেজ শাটডাউন ঘোষণা, বন্ধ থাকবে সব কার্যক্রম

 

যতদিন পর্যন্ত সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাষ্ট্রীয় ঘোষণা না দেওয়া হবে ততোদিন পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

 

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই শাটডাউন থাকবে কলেজ। এর আওতায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এমনকি কাউকে ভেতরেও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

 

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় কলেজের মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীদের সংগঠন তিতুমীর ঐক্যের উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান মুক্তার।

 

মাহমুদুল হাসান মুক্তার বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আন্দোলন করছে। কিন্তু রাষ্ট্র বারবার দ্বিচারিতা করছে। সেজন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য তিতুমীর কলেজে শাটডাউন ঘোষণা করা হচ্ছে। এসময়ের মধ্যে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা কিংবা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম হবে না। যদি এসময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা হয় তবেই তিতুমীরের গেটের তালা খোলা হবে। আগামীকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার না হয় কিংবা দাবি মেনে নেওয়া না হয় তাহলে এরপর আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা পড়ার টেবিলে ফিরতে চাই।

 

তবে শাটডাউন চলাকালীন কেউ চাইলে ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজায় অংশ নিতে পারবেন বলেও জানান এ শিক্ষার্থী।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন-

 

১. তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে।

২. শিক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করে যোগ্যতা বিবেচনায় নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।

৩. তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর আইন উপদেষ্টার চাপ সৃষ্টি করার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টির দায়ভার মাথায় নিয়ে আইন উপদেষ্টাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে বলেও মন্তব্য করেন মাহমুদুল হাসান মুক্তার।

 

প্রসঙ্গত, সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে বেশ কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে মিছিল, সড়ক-রেলপথ অবরোধ, স্মারকলিপি প্রদান, ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা। যার পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়। তবে সম্প্রতি এ বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সাড়া না পেয়ে গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল থেকে দাবি আদায়ে আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

জনপ্রিয়

আদানির ইউনিট বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংকটে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং, ছুটির দিনেও চরম ভোগান্তি

তিতুমীর কলেজ শাটডাউন ঘোষণা, বন্ধ থাকবে সব কার্যক্রম

আপডেট : ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

যতদিন পর্যন্ত সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাষ্ট্রীয় ঘোষণা না দেওয়া হবে ততোদিন পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

 

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই শাটডাউন থাকবে কলেজ। এর আওতায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এমনকি কাউকে ভেতরেও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

 

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় কলেজের মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীদের সংগঠন তিতুমীর ঐক্যের উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান মুক্তার।

 

মাহমুদুল হাসান মুক্তার বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আন্দোলন করছে। কিন্তু রাষ্ট্র বারবার দ্বিচারিতা করছে। সেজন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য তিতুমীর কলেজে শাটডাউন ঘোষণা করা হচ্ছে। এসময়ের মধ্যে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা কিংবা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম হবে না। যদি এসময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা হয় তবেই তিতুমীরের গেটের তালা খোলা হবে। আগামীকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার না হয় কিংবা দাবি মেনে নেওয়া না হয় তাহলে এরপর আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা পড়ার টেবিলে ফিরতে চাই।

 

তবে শাটডাউন চলাকালীন কেউ চাইলে ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজায় অংশ নিতে পারবেন বলেও জানান এ শিক্ষার্থী।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন-

 

১. তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে।

২. শিক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করে যোগ্যতা বিবেচনায় নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।

৩. তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর আইন উপদেষ্টার চাপ সৃষ্টি করার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টির দায়ভার মাথায় নিয়ে আইন উপদেষ্টাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে বলেও মন্তব্য করেন মাহমুদুল হাসান মুক্তার।

 

প্রসঙ্গত, সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে বেশ কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে মিছিল, সড়ক-রেলপথ অবরোধ, স্মারকলিপি প্রদান, ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা। যার পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়। তবে সম্প্রতি এ বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সাড়া না পেয়ে গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল থেকে দাবি আদায়ে আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।