ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ রাজধানীতে এক রাতে ৮ ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন বাগেরহাটে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭ প্রবাসীর মৃত্যু ​ বাগেরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত ​ পিরোজপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ ঝালকাঠিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তিন মাসের প্রশিক্ষণে দক্ষতা অর্জন, এবার আয়ের সুযোগ ১০০ নারীর মোরেলগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

সাভারে এসআই আলতাফ হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ৮ ​

আংশিক ছবি | সংগৃহীত

​

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এর মধ্যে র‌্যাব-১০ মুন্সীগঞ্জের সদর লঞ্চঘাট এলাকা থেকে চারজন এবং র‌্যাব-৪ আমিনবাজার এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

​

আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজ মালিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়েই নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এসআই আলতাফ হোসেনকে।

​

প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাতে র‌্যাব জানায়, গ্যারেজ মালিককে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ করায় হামলাকারীদের সঙ্গে এসআই আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুলের বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এসআই আলতাফ নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তবে পরিচয় পেয়ে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

​

প্রাণ বাঁচাতে এসআই আলতাফ তার ছেলের পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে। একপর্যায়ে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এসআই আলতাফ ও তার ছেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলাকারীরা এ সময় কারখানার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

​

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
​

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়েরের পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‌্যাব।

​

মুন্সীগঞ্জে র‌্যাব-১০-এর অভিযান
র‌্যাব-১০ জানায়, ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহারনামীয় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০) ও ইমরান (২৬)। তাঁদের সবার বাড়ি সাভারের আমিনবাজার এলাকায়। র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার আপনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় পূর্বেও তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

​

আমিনবাজারে র‌্যাব-৪-এর অভিযান
একই ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব-৪। এ সময় এজাহারনামীয় আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন— নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) ও ওয়াসিম (৪০)।

​

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

জনপ্রিয়

এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ

সাভারে এসআই আলতাফ হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ৮ ​

আপডেট : ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আংশিক ছবি | সংগৃহীত

​

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এর মধ্যে র‌্যাব-১০ মুন্সীগঞ্জের সদর লঞ্চঘাট এলাকা থেকে চারজন এবং র‌্যাব-৪ আমিনবাজার এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

​

আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজ মালিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়েই নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এসআই আলতাফ হোসেনকে।

​

প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাতে র‌্যাব জানায়, গ্যারেজ মালিককে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ করায় হামলাকারীদের সঙ্গে এসআই আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুলের বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এসআই আলতাফ নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তবে পরিচয় পেয়ে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

​

প্রাণ বাঁচাতে এসআই আলতাফ তার ছেলের পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে। একপর্যায়ে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এসআই আলতাফ ও তার ছেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলাকারীরা এ সময় কারখানার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

​

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
​

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়েরের পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‌্যাব।

​

মুন্সীগঞ্জে র‌্যাব-১০-এর অভিযান
র‌্যাব-১০ জানায়, ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহারনামীয় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০) ও ইমরান (২৬)। তাঁদের সবার বাড়ি সাভারের আমিনবাজার এলাকায়। র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার আপনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় পূর্বেও তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

​

আমিনবাজারে র‌্যাব-৪-এর অভিযান
একই ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব-৪। এ সময় এজাহারনামীয় আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন— নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) ও ওয়াসিম (৪০)।

​

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।