অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক টেস্ট জয় উপহার দিল বাংলাদেশ। ডারউইনের বাইশ গজে পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে সব বিভাগে পরাস্ত করে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অজিদের বিরুদ্ধে ৯ নম্বর দলের এই দাপুটে জয় বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসের স্মৃতি ভুলে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে যায় বাংলাদেশ। যদিও প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ায় অজিরা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল, কিন্তু মূল ম্যাচের চিত্রপট বদলে যায় ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই। বাংলাদেশি বোলারদের দুর্দান্ত তোপে প্রথম ইনিংসে অজিদের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইনআপ মাত্র ১৯৯ রানেই গুটিয়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ বোলিং লাইনআপের সামনে তানজিদ হাসান তামিমের এক ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে বাংলাদেশ ৪২৭ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের এক ঐতিহাসিক লিড পায় টাইগাররা, যা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ।
পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আবারও হাসান মাহমুদের শুরুর আঘাত এবং পরবর্তীতে মিরাজের দুর্দান্ত ঘূর্ণিতে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন অজিদের হয়ে একক লড়াই চালিয়ে একটি লড়াকু সেঞ্চুরি করলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে কেবল ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য দিতে সক্ষম হয় তারা।
সহজ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ শূন্য রানে আউট হলেও সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক কোনো বিপদ হতে দেননি। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন তারা। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিশ্চিত করেছে যে এই ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজটি তারা আর কোনোভাবেই হারবে না।

ডেস্ক রিপোর্টঃ 



















