ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ রাজধানীতে এক রাতে ৮ ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন বাগেরহাটে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭ প্রবাসীর মৃত্যু ​ বাগেরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত ​ পিরোজপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ ঝালকাঠিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তিন মাসের প্রশিক্ষণে দক্ষতা অর্জন, এবার আয়ের সুযোগ ১০০ নারীর মোরেলগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

সংবিধানে ফিরল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা: আপিল বিভাগে হাইকোর্টের রায় বহাল

ফাইল ছবি

 

বাংলাদেশের সংবিধানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্বহাল হলো বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

​

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

​

আইনজীবীদের তথ্যমতে, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে বাদ পড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান আবারও সংবিধানে ফিরে এলো। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি পৃথক আপিল নিষ্পত্তি করে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।
​
​​২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয়েছিল। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ​বিলুপ্ত করা হয়েছিল নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। ​বাদ দেওয়া হয়েছিল গণভোটের বিধান।

​

সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র—এই চার মূলনীতি ফিরিয়ে আনা হয়।

​

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে স্বীকৃতি এবং অবৈধ ক্ষমতা দখলের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানসহ মোট ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

 

এ বিষয়ে বুধবার এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মূলত দেশের সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করা হয়েছিল। এই পরিবর্তনের ফলে মানুষের বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং দেশের আগামী দিনের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।”
​
​২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট করা হয়।

​

শুনানির পর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ নম্বর ধারা (যা দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক ও গণভোট বাদ দেওয়া হয়েছিল) বাতিল ঘোষণা করেন। এছাড়া এই আইনের মাধ্যমে যুক্ত হওয়া ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

 

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হলে গত সোমবার থেকে শুনানি শুরু হয়। মঙ্গল ও বুধবার শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ।

জনপ্রিয়

এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ

সংবিধানে ফিরল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা: আপিল বিভাগে হাইকোর্টের রায় বহাল

আপডেট : ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
ফাইল ছবি

 

বাংলাদেশের সংবিধানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্বহাল হলো বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

​

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

​

আইনজীবীদের তথ্যমতে, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে বাদ পড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান আবারও সংবিধানে ফিরে এলো। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি পৃথক আপিল নিষ্পত্তি করে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।
​
​​২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয়েছিল। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ​বিলুপ্ত করা হয়েছিল নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। ​বাদ দেওয়া হয়েছিল গণভোটের বিধান।

​

সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র—এই চার মূলনীতি ফিরিয়ে আনা হয়।

​

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে স্বীকৃতি এবং অবৈধ ক্ষমতা দখলের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানসহ মোট ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

 

এ বিষয়ে বুধবার এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মূলত দেশের সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করা হয়েছিল। এই পরিবর্তনের ফলে মানুষের বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং দেশের আগামী দিনের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।”
​
​২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট করা হয়।

​

শুনানির পর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ নম্বর ধারা (যা দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক ও গণভোট বাদ দেওয়া হয়েছিল) বাতিল ঘোষণা করেন। এছাড়া এই আইনের মাধ্যমে যুক্ত হওয়া ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

 

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হলে গত সোমবার থেকে শুনানি শুরু হয়। মঙ্গল ও বুধবার শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ।