ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ

শরণখোলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা হত্যা: বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ; থানায় মামলা, গ্রেপ্তার-৩

 

বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রতিপক্ষের হামলায় আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩২) নামে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

 

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে নিহতের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামী করে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

 

পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে খলিল বয়াতী, তানজের বয়াতী ও শাহজালাল বয়াতী নামে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে।

 

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

এর আগে রোববার (১ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামের পিলের রাস্তা এলাকায় হামলার শিকার হন ছাত্রদল নেতা মাসুম। ওই রাতে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এঘটনায় সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থক আহত হয়েছেন। নিহতের মরদের উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

 

ঘটনার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আশরাফ উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।

 

নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম খুড়িয়াখালী গ্রামের মৃত বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। মাসুম মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বিএনপির পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে আসেন।

 

উপজেলা বিএনপি ও পরিবারের দাবি, স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম মাসুমের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় (রাত সাড়ে ১১টার) মাসুম তার শশুর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। তার ডাক-চিৎকারে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

 

এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন বলেন, বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকায় একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর এবং বিএনপি অফিস আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে তারা। নির্বাচনের পরের দিন নিহত ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম তার মোবাইলে একটি সহিংস ঘহটনার ভিডিও ধারণ করায় তার ওপর ক্ষীপ্ত ছিল জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারই জের ধরে এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে জামায়াত ও শিবির। হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান এই বিএনপি নেতা।

 

অপরদিকে সাইথখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাইম ইসলাম বলেন, আরিফুল ইসলাম মাসুম নামের এক ব্যক্তিকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরে তার অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। পরে তাকে ভর্তি করে বেডে পাঠানো হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

 

শরণখোলা থানার ওসি শামিনুল হক বলেন, ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারভুক্ত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

ওসি শামিনুল হক আরো বলেন, নির্বাচনকালীন একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত মাসুম তার মোবাইলে ভিডিও করেন। সেই ভিডিও’র বিষয়টি নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ের তার ওপর হামলা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জনপ্রিয়

এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর

শরণখোলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা হত্যা: বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ; থানায় মামলা, গ্রেপ্তার-৩

আপডেট : ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

 

বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রতিপক্ষের হামলায় আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩২) নামে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

 

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে নিহতের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামী করে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

 

পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে খলিল বয়াতী, তানজের বয়াতী ও শাহজালাল বয়াতী নামে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে।

 

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

এর আগে রোববার (১ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামের পিলের রাস্তা এলাকায় হামলার শিকার হন ছাত্রদল নেতা মাসুম। ওই রাতে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এঘটনায় সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থক আহত হয়েছেন। নিহতের মরদের উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

 

ঘটনার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আশরাফ উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।

 

নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম খুড়িয়াখালী গ্রামের মৃত বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। মাসুম মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বিএনপির পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে আসেন।

 

উপজেলা বিএনপি ও পরিবারের দাবি, স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম মাসুমের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় (রাত সাড়ে ১১টার) মাসুম তার শশুর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। তার ডাক-চিৎকারে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

 

এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন বলেন, বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকায় একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর এবং বিএনপি অফিস আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে তারা। নির্বাচনের পরের দিন নিহত ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম তার মোবাইলে একটি সহিংস ঘহটনার ভিডিও ধারণ করায় তার ওপর ক্ষীপ্ত ছিল জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারই জের ধরে এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে জামায়াত ও শিবির। হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান এই বিএনপি নেতা।

 

অপরদিকে সাইথখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাইম ইসলাম বলেন, আরিফুল ইসলাম মাসুম নামের এক ব্যক্তিকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরে তার অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। পরে তাকে ভর্তি করে বেডে পাঠানো হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

 

শরণখোলা থানার ওসি শামিনুল হক বলেন, ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারভুক্ত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

ওসি শামিনুল হক আরো বলেন, নির্বাচনকালীন একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত মাসুম তার মোবাইলে ভিডিও করেন। সেই ভিডিও’র বিষয়টি নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ের তার ওপর হামলা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।