ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
অভাব পেরিয়ে স্বাবলম্বিতার পথে বান্দরবানের ১০০ নারী অনুমতি ছাড়াই সমাজসেবার প্রকল্প ঘর ভাঙার অভিযোগ, মালামাল সরিয়ে নেওয়ার দাবি পিরোজপুরে দলিল লেখক সমাবেশ অনুষ্ঠিত সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান কমব্যাট স্পোর্টসের বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ: নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো ‘জেডএফসি রাজধানীতে জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ টেকনাফে ২০ হাজার ইয়াবাসহ দুইজন আটক প্রবীণ সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিকের প্রয়াণ, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার গভীর শোক রাজধানীতে থমথমে পরিস্থিতি: ককটেল বিস্ফোরণের পরপরই বাসে আগুন, আহত ১ নাজিরপুরে মাদকসংক্রান্ত ভিডিও নিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা গাজীপুর জেলা কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

পবিত্র মক্কায় হুতি ড্রোন হামলা– রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী

রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী

 

সৌদি আরবের পবিত্র কাবা নগরী লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের দাবি, তারা ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে হুতিরা মক্কায় হামলা চালানোর অভিযোগ নাকচ করেছে। তারা বলেছে, সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে তারা।

 

পাশাপাশি সৌদি জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনা ও বিমানঘাঁটিতে তারা হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কয়েকটি শহরে যুদ্ধ চালাচ্ছে হুতিরা। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি ও বাংলাদেশ সরকার পবিত্র নগরী মক্কায় হুতি হামলার তীব্র প্রতিবাদ করেছে।

 

ইয়েমেনে এক যুগ ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে

 

২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বুহ মনসুর হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। গত এক যুগে ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালিয়ে নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছে। তারা সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারকে ক্রমেই কোণঠাসা করে ফেলছে।

 

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ওই সরকার রাজধানী ছেড়ে বন্দরনগরী এডেনে তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে। হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও এডেন বাদে সে দেশের সব বড় শহর তাদের দখলে। সৌদি আরবেও হামলা চালানোর সাহস দেখাচ্ছে তারা। এক যুগের এই সংঘাতে ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক বিভাজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর স্বার্থও। ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনের সশস্ত্র পক্ষগুলোকে মদতজোগাচ্ছে।

 

ইরানসমর্থিত হুতিরা আনসার আল্লাহ বা ‘আল্লাহর সমর্থক’ নামেও পরিচিত। ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ নগর ও জনপদের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক যুগের বিমান হামলা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলা সত্ত্বেও হুতিরা তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হয়। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুতিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজ ও ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনায় আসে।

 

এক দশক আগে ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে তাদের ওই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থক প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বুহ মনসুর হাদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনর্বহাল করা। কিন্তু তারা সফল হয়নি হুতিদের অসামান্য প্রতিরোধক্ষমতার কারণে। ইসলামের শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী হুতিরা ইরান-সমর্থক। এটিই ছিল কট্টর সুন্নিমতের অনুসারী সৌদি আরবের ভয়। হুতিদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের কৌশল ব্যর্থ হওয়ার পর নিজেদের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যায় রিয়াদ সরকারের মধ্যে।

 

২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হয়। এর ফলে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও সৌদি আরব সংঘাত এড়াতে সংযমের পথ বেছে নেয়। দুপক্ষের এই সুমতিতে আঁতকে ওঠে পশ্চিমা শক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়। সৌদি আরবেও হামলা চালায় তারা। হুতিদের হামলারও টার্গেটে পরিণত হয় রিয়াদ।

 

এ অবস্থায় সৌদি আরব পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে সামরিক জোট গঠন করে। এ জোট গঠন রিয়াদের নিরাপত্তা কতটা বাড়িয়েছে, তা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। তবে জোট গঠনের পর থেকে হুতিরা সৌদি আরবকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তাদের তেল অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের প্রধান তেল রপ্তানি রুট ও কৌশলগত সমুদ্রপথগুলোতে শক্ত অবরোধ গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি জোরদার করেছে সীমান্ত হামলা।

 

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেন গৃহযুদ্ধের তীব্রতায় সৌদি আরবের জ্বালানিনিরাপত্তা ও বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। যার শিকার বাংলাদেশও। বাংলাদেশ এ বিরোধে কোনো পক্ষে নেই। তবু হুতি অবরোধের কারণে জ্বালানি তেল সংগ্রহে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করার পর লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দব প্রণালির মুখে অবস্থিত মাইয়ুন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এ ছাড়া তারা লোহিত সাগরের গ্রেটার ও লেসার হানিশ দ্বীপপুঞ্জও দখলে নিয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর তারা নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দব প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু হুতিরা এই পথ অবরুদ্ধ করায় এবং ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরব তাদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশসহ তেল আমদানিকারক সব দেশ। হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শহরগুলোতে সীমান্ত পার হয়ে তীব্র হামলা চালাচ্ছে।

 

সর্বশেষ ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা এবং তাইফ শহরের বেসামরিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু বাড়িঘর ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

হুতিদের অগ্রযাত্রা ও হামলার জবাবে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটও ইয়েমেনে তাদের হামলা জোরদার করেছে। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে ৪৫০ বার বিমান হামলা চালিয়েছে। হুতিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরব যতক্ষণ পর্যন্ত ইয়েমেনে সামরিক আগ্রাসন বন্ধ না করবে, ততক্ষণ তাদের পাল্টা হামলা এবং কৌশলগত অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

 

অন্যদিকে সৌদি জোটও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হুতিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃঢ় সামরিক জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

 

পবিত্র নগরী মক্কা লক্ষ্য করে হুতির ড্রোন হামলা শুধু বাংলাদেশ নয়, মুসলিম বিশ্বে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। লোহিত সাগরে হুতিদের দস্যুতা ও মক্কা নগরীতে হামলা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। নিজেদের স্বার্থেই তারা এই অপখেলা থামাবে, তা বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা।

 

লেখক পরিচিত: রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বিএনপি।
জনপ্রিয়

অভাব পেরিয়ে স্বাবলম্বিতার পথে বান্দরবানের ১০০ নারী

পবিত্র মক্কায় হুতি ড্রোন হামলা– রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী

আপডেট : ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী

 

সৌদি আরবের পবিত্র কাবা নগরী লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের দাবি, তারা ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে হুতিরা মক্কায় হামলা চালানোর অভিযোগ নাকচ করেছে। তারা বলেছে, সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে তারা।

 

পাশাপাশি সৌদি জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনা ও বিমানঘাঁটিতে তারা হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কয়েকটি শহরে যুদ্ধ চালাচ্ছে হুতিরা। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি ও বাংলাদেশ সরকার পবিত্র নগরী মক্কায় হুতি হামলার তীব্র প্রতিবাদ করেছে।

 

ইয়েমেনে এক যুগ ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে

 

২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বুহ মনসুর হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। গত এক যুগে ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালিয়ে নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছে। তারা সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারকে ক্রমেই কোণঠাসা করে ফেলছে।

 

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ওই সরকার রাজধানী ছেড়ে বন্দরনগরী এডেনে তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে। হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও এডেন বাদে সে দেশের সব বড় শহর তাদের দখলে। সৌদি আরবেও হামলা চালানোর সাহস দেখাচ্ছে তারা। এক যুগের এই সংঘাতে ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক বিভাজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর স্বার্থও। ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনের সশস্ত্র পক্ষগুলোকে মদতজোগাচ্ছে।

 

ইরানসমর্থিত হুতিরা আনসার আল্লাহ বা ‘আল্লাহর সমর্থক’ নামেও পরিচিত। ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ নগর ও জনপদের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক যুগের বিমান হামলা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলা সত্ত্বেও হুতিরা তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হয়। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুতিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজ ও ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনায় আসে।

 

এক দশক আগে ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে তাদের ওই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থক প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বুহ মনসুর হাদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনর্বহাল করা। কিন্তু তারা সফল হয়নি হুতিদের অসামান্য প্রতিরোধক্ষমতার কারণে। ইসলামের শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী হুতিরা ইরান-সমর্থক। এটিই ছিল কট্টর সুন্নিমতের অনুসারী সৌদি আরবের ভয়। হুতিদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের কৌশল ব্যর্থ হওয়ার পর নিজেদের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যায় রিয়াদ সরকারের মধ্যে।

 

২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হয়। এর ফলে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও সৌদি আরব সংঘাত এড়াতে সংযমের পথ বেছে নেয়। দুপক্ষের এই সুমতিতে আঁতকে ওঠে পশ্চিমা শক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়। সৌদি আরবেও হামলা চালায় তারা। হুতিদের হামলারও টার্গেটে পরিণত হয় রিয়াদ।

 

এ অবস্থায় সৌদি আরব পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে সামরিক জোট গঠন করে। এ জোট গঠন রিয়াদের নিরাপত্তা কতটা বাড়িয়েছে, তা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। তবে জোট গঠনের পর থেকে হুতিরা সৌদি আরবকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তাদের তেল অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের প্রধান তেল রপ্তানি রুট ও কৌশলগত সমুদ্রপথগুলোতে শক্ত অবরোধ গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি জোরদার করেছে সীমান্ত হামলা।

 

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেন গৃহযুদ্ধের তীব্রতায় সৌদি আরবের জ্বালানিনিরাপত্তা ও বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। যার শিকার বাংলাদেশও। বাংলাদেশ এ বিরোধে কোনো পক্ষে নেই। তবু হুতি অবরোধের কারণে জ্বালানি তেল সংগ্রহে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করার পর লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দব প্রণালির মুখে অবস্থিত মাইয়ুন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এ ছাড়া তারা লোহিত সাগরের গ্রেটার ও লেসার হানিশ দ্বীপপুঞ্জও দখলে নিয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর তারা নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দব প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু হুতিরা এই পথ অবরুদ্ধ করায় এবং ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরব তাদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশসহ তেল আমদানিকারক সব দেশ। হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শহরগুলোতে সীমান্ত পার হয়ে তীব্র হামলা চালাচ্ছে।

 

সর্বশেষ ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা এবং তাইফ শহরের বেসামরিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু বাড়িঘর ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

হুতিদের অগ্রযাত্রা ও হামলার জবাবে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটও ইয়েমেনে তাদের হামলা জোরদার করেছে। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে ৪৫০ বার বিমান হামলা চালিয়েছে। হুতিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরব যতক্ষণ পর্যন্ত ইয়েমেনে সামরিক আগ্রাসন বন্ধ না করবে, ততক্ষণ তাদের পাল্টা হামলা এবং কৌশলগত অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

 

অন্যদিকে সৌদি জোটও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হুতিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃঢ় সামরিক জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

 

পবিত্র নগরী মক্কা লক্ষ্য করে হুতির ড্রোন হামলা শুধু বাংলাদেশ নয়, মুসলিম বিশ্বে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। লোহিত সাগরে হুতিদের দস্যুতা ও মক্কা নগরীতে হামলা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। নিজেদের স্বার্থেই তারা এই অপখেলা থামাবে, তা বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা।

 

লেখক পরিচিত: রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বিএনপি।