ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
মোরেলগঞ্জে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওপর হামলা, আহত ৪ বাগেরহাটে নানা আয়োজনে সমবায় দিবস উদযাপিত ​ গাড়ির ধোঁয়া ও নির্মাণের ধুলায় বিষাক্ত হচ্ছে ঢাকার বাতাস প্রদীপের আলোয় দূর হবে অন্ধকার, মা কালীর আরাধনায় জাগবে শুভশক্তি টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গোপন আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল যৌথ বাহিনী শীতের আমেজে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকদের ডাকছে কুইন আইল্যান্ড ভোলা মোরেলগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ রাজধানীতে এক রাতে ৮ ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন বাগেরহাটে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

আজ ফিরলেন ২৪ জেলে, আরাকান আর্মির হাতে এখনো আটক ৮৬

 

​মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে আটক আরও ২৪ জেলেকে আজ দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ৬ জন এফডিএমএন (রোহিঙ্গা) সদস্য।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) নাফ নদীর শূন্যরেখা দিয়ে তাঁদের গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসে বিজিবি।
​বিজিবির এই উদ্যোগে একদিকে যেমন দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে আরাকান আর্মির হাতে আটক জেলেদের পুরো চিত্রও সামনে এসেছে।

​

বিজিবির পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আরাকান আর্মির হাতে মোট ৪৩৪ জন জেলে আটক হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২২২ জন বাংলাদেশি এবং ২১২ জন এফডিএমএন সদস্য।

​

এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৩৪৮ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৫৭ জন বাংলাদেশি এবং ১৯১ জন এফডিএমএন সদস্য। এখনো ৮৬ জন জেলে দেশে ফিরতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন বাংলাদেশি এবং ২১ জন এফডিএমএন সদস্য রয়েছেন।

​

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে কিছু জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁদের আরাকান আর্মি আটক করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের সংগঠনটির নিয়ন্ত্রিত এলাকা অথবা কারাগারে আটকে রাখা হয়।

 

​আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে মানবিক বিবেচনায় বিজিবির পক্ষ থেকে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ আজ ২৪ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

 

​টেকনাফ জেটিঘাটে ফেরত আনার পর তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই শেষে বাংলাদেশি জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

 

​টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির দায়িত্ব। মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট আটক জেলেদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

​

তিনি বলেন, বিজিবির মহাপরিচালকের ভিশন—‘বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’—এ প্রত্যয় ধারণ করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।

​

একনজরে
​মোট আটক: ৪৩৪ জন (বাংলাদেশি: ২২২ জন, এফডিএমএন: ২১২ জন)
​ফেরত আনা হয়েছে: ৩৪৮ জন
​আজ ফিরেছেন: ২৪ জন
​এখনো ফেরেননি: ৮৬ জন

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওপর হামলা, আহত ৪

আজ ফিরলেন ২৪ জেলে, আরাকান আর্মির হাতে এখনো আটক ৮৬

আপডেট : ০৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

 

​মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে আটক আরও ২৪ জেলেকে আজ দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ৬ জন এফডিএমএন (রোহিঙ্গা) সদস্য।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) নাফ নদীর শূন্যরেখা দিয়ে তাঁদের গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসে বিজিবি।
​বিজিবির এই উদ্যোগে একদিকে যেমন দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে আরাকান আর্মির হাতে আটক জেলেদের পুরো চিত্রও সামনে এসেছে।

​

বিজিবির পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আরাকান আর্মির হাতে মোট ৪৩৪ জন জেলে আটক হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২২২ জন বাংলাদেশি এবং ২১২ জন এফডিএমএন সদস্য।

​

এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৩৪৮ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৫৭ জন বাংলাদেশি এবং ১৯১ জন এফডিএমএন সদস্য। এখনো ৮৬ জন জেলে দেশে ফিরতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন বাংলাদেশি এবং ২১ জন এফডিএমএন সদস্য রয়েছেন।

​

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে কিছু জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁদের আরাকান আর্মি আটক করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের সংগঠনটির নিয়ন্ত্রিত এলাকা অথবা কারাগারে আটকে রাখা হয়।

 

​আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে মানবিক বিবেচনায় বিজিবির পক্ষ থেকে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ আজ ২৪ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

 

​টেকনাফ জেটিঘাটে ফেরত আনার পর তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই শেষে বাংলাদেশি জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

 

​টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির দায়িত্ব। মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট আটক জেলেদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

​

তিনি বলেন, বিজিবির মহাপরিচালকের ভিশন—‘বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’—এ প্রত্যয় ধারণ করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।

​

একনজরে
​মোট আটক: ৪৩৪ জন (বাংলাদেশি: ২২২ জন, এফডিএমএন: ২১২ জন)
​ফেরত আনা হয়েছে: ৩৪৮ জন
​আজ ফিরেছেন: ২৪ জন
​এখনো ফেরেননি: ৮৬ জন