ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
বাগেরহাটে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনের রাজনৈতিক উপদেষ্টার বৈঠক মোরেলগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী সাদিক কায়েম, উত্তরে সেলিম উদ্দিন ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, টাঙানো হলো গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি কর্মসংস্থান ব্যাংকের নতুন ডিএমডি পারভীন আকতার মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বান ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের ৭০ কিলোমিটার জুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন স্পিকার গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত টেকনাফ রাজারছড়ায় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মানব পাচারকারীদের ২০টি আস্তানা টেকনাফে নাফ নদীতে বিজিবির চিরুনি অভিযান

আজ ফিরলেন ২৪ জেলে, আরাকান আর্মির হাতে এখনো আটক ৮৬

 

মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে আটক আরও ২৪ জেলেকে আজ দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ৬ জন এফডিএমএন (রোহিঙ্গা) সদস্য।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) নাফ নদীর শূন্যরেখা দিয়ে তাঁদের গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসে বিজিবি।
​বিজিবির এই উদ্যোগে একদিকে যেমন দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে আরাকান আর্মির হাতে আটক জেলেদের পুরো চিত্রও সামনে এসেছে।

বিজিবির পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আরাকান আর্মির হাতে মোট ৪৩৪ জন জেলে আটক হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২২২ জন বাংলাদেশি এবং ২১২ জন এফডিএমএন সদস্য।

এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৩৪৮ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৫৭ জন বাংলাদেশি এবং ১৯১ জন এফডিএমএন সদস্য। এখনো ৮৬ জন জেলে দেশে ফিরতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন বাংলাদেশি এবং ২১ জন এফডিএমএন সদস্য রয়েছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে কিছু জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁদের আরাকান আর্মি আটক করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের সংগঠনটির নিয়ন্ত্রিত এলাকা অথবা কারাগারে আটকে রাখা হয়।

 

​আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে মানবিক বিবেচনায় বিজিবির পক্ষ থেকে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ আজ ২৪ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

 

​টেকনাফ জেটিঘাটে ফেরত আনার পর তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই শেষে বাংলাদেশি জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

 

​টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির দায়িত্ব। মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট আটক জেলেদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, বিজিবির মহাপরিচালকের ভিশন—‘বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’—এ প্রত্যয় ধারণ করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।

একনজরে
মোট আটক: ৪৩৪ জন (বাংলাদেশি: ২২২ জন, এফডিএমএন: ২১২ জন)
​ফেরত আনা হয়েছে: ৩৪৮ জন
​আজ ফিরেছেন: ২৪ জন
​এখনো ফেরেননি: ৮৬ জন

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনের রাজনৈতিক উপদেষ্টার বৈঠক

আজ ফিরলেন ২৪ জেলে, আরাকান আর্মির হাতে এখনো আটক ৮৬

আপডেট : ০৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

 

মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে আটক আরও ২৪ জেলেকে আজ দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ৬ জন এফডিএমএন (রোহিঙ্গা) সদস্য।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) নাফ নদীর শূন্যরেখা দিয়ে তাঁদের গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসে বিজিবি।
​বিজিবির এই উদ্যোগে একদিকে যেমন দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে আরাকান আর্মির হাতে আটক জেলেদের পুরো চিত্রও সামনে এসেছে।

বিজিবির পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আরাকান আর্মির হাতে মোট ৪৩৪ জন জেলে আটক হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২২২ জন বাংলাদেশি এবং ২১২ জন এফডিএমএন সদস্য।

এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৩৪৮ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৫৭ জন বাংলাদেশি এবং ১৯১ জন এফডিএমএন সদস্য। এখনো ৮৬ জন জেলে দেশে ফিরতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন বাংলাদেশি এবং ২১ জন এফডিএমএন সদস্য রয়েছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে কিছু জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁদের আরাকান আর্মি আটক করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের সংগঠনটির নিয়ন্ত্রিত এলাকা অথবা কারাগারে আটকে রাখা হয়।

 

​আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে মানবিক বিবেচনায় বিজিবির পক্ষ থেকে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ আজ ২৪ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

 

​টেকনাফ জেটিঘাটে ফেরত আনার পর তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই শেষে বাংলাদেশি জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

 

​টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির দায়িত্ব। মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট আটক জেলেদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, বিজিবির মহাপরিচালকের ভিশন—‘বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’—এ প্রত্যয় ধারণ করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।

একনজরে
মোট আটক: ৪৩৪ জন (বাংলাদেশি: ২২২ জন, এফডিএমএন: ২১২ জন)
​ফেরত আনা হয়েছে: ৩৪৮ জন
​আজ ফিরেছেন: ২৪ জন
​এখনো ফেরেননি: ৮৬ জন